আফগান বিদেশমন্ত্রীর সাংবাদিক সম্মেলনে নারী সাংবাদিকদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা! বিতর্কে তুঙ্গে
সেখানে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে কোনও নারী সাংবাদিককে ঢুকতে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ।
Truth Of Bengal: দিল্লিতে আফগানিস্তানের বিদেশমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকির সাংবাদিক বৈঠকে কোনও মহিলা সাংবাদিককে প্রবেশ করতে না দেওয়ায় শুরু হয়েছে প্রবল বিতর্ক। এ ঘটনায় ভারতের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও শনিবার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রক (MEA) স্পষ্ট জানায়, এই ঘটনায় ভারতের কোনও সম্পৃক্ততা নেই। তাদের মতে, সাংবাদিক বৈঠকের আমন্ত্রণ পাঠানো হয়েছিল আফগানিস্তানের মুম্বাই কনসুলেট থেকে, যাঁরা আফগান মন্ত্রীর সফরের সময় দিল্লিতে উপস্থিত ছিলেন।
ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের বক্তব্য, আফগান দূতাবাস ভারতের আইনগত অধিকারভুক্ত নয়, ফলে ওই জায়গায় কীভাবে কোনও অনুষ্ঠান হবে বা কাদের আমন্ত্রণ জানানো হবে—তা ভারতের সিদ্ধান্ত নয়। তবে বিষয়টি সামনে আসতেই নারী সাংবাদিকদের প্রতি এমন আচরণ নিয়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে সংবাদমাধ্যম ও সোশ্যাল মিডিয়ায়।
ঘটনাটি ঘটে শুক্রবার, দিল্লির আফগানিস্তান দূতাবাসে। সেখানে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে কোনও নারী সাংবাদিককে ঢুকতে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ। উপস্থিত নারী সাংবাদিকরা জানান, তাঁরা ড্রেস কোড মেনে এসেছিলেন, তবু তাঁদের প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়। এরপর থেকেই দেশজুড়ে এই ঘটনাকে ঘিরে বিরোধীদের মধ্যে ক্ষোভের সঞ্চার হয়।
আফগানিস্তানের তালিবান সরকারের নারী বিরোধী নীতি নতুন কিছু নয়। দেশটিতে নারীদের শিক্ষা ও কর্মসংস্থানে একের পর এক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। সম্প্রতি তালিবান প্রশাসন নারী লেখকদের বই নিষিদ্ধ করেছে, এমনকি বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যক্রম থেকে ‘জেন্ডার ও ডেভেলপমেন্ট’, ‘মানবাধিকার’, ‘নারী সমাজবিদ্যা’ সহ ১৮টি বিষয় বাদ দিয়েছে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিরোধী দল কংগ্রেস কেন্দ্রীয় সরকারকে তীব্রভাবে আক্রমণ করেছে। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বিরুদ্ধে কটাক্ষ করে বলেন, “যখন আপনি একজন নারী সাংবাদিককে একটি পাবলিক প্ল্যাটফর্মে অংশ নিতে না দেন, তখন আপনি ভারতীয় নারীদের বোঝাচ্ছেন আপনি তাঁদের পাশে দাঁড়াতে অক্ষম।” তিনি আরও বলেন, “নারীরা ভারতের প্রতিটি ক্ষেত্রে সমান অংশগ্রহণের অধিকার রাখে। এই ধরনের বৈষম্যের মুখে আপনার নীরবতা ‘নারীশক্তি’র নামে আপনার স্লোগানগুলোর ফাঁপা স্বরূপ তুলে ধরছে।”
প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভদ্রাও এই ঘটনার কড়া সমালোচনা করেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “ভারতের মাটিতে কীভাবে এমন অপমান সহ্য করা গেল? যেখানে নারীরাই আমাদের গর্ব।” অন্যদিকে কংগ্রেস নেতা পি. চিদাম্বরম মন্তব্য করেন, “পুরুষ সাংবাদিকদের উচিত ছিল অনুষ্ঠান বয়কট করা, যখন তাঁরা বুঝেছেন তাঁদের নারী সহকর্মীদের ঢুকতে দেওয়া হয়নি।”
এই বিতর্কের মাঝেই আফগান পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ভারত সফর একটি কূটনৈতিক মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা। বৃহস্পতিবার ভারতে এসে শুক্রবার তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস. জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠক করেন। সেই বৈঠকের পরে জয়শঙ্কর ঘোষণা করেন, ভারতের কাবুলে অবস্থিত ‘টেকনিক্যাল মিশন’কে এখন থেকে পূর্ণাঙ্গ দূতাবাসের মর্যাদা দেওয়া হবে।
ভারতের এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানান আফগান পররাষ্ট্রমন্ত্রী মুত্তাকি। জয়শঙ্কর বলেন, “ভারত আফগানিস্তানের সার্বভৌমত্ব, ভৌগলিক অখণ্ডতা ও স্বাধীনতার প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। দেশটির উন্নয়নে আগ্রহী ভারত আফগানিস্তানে আরও ছয়টি নতুন প্রকল্পে কাজ করবে।”





