দেশ
বস্তারে মোবাইল সিগন্যাল! কোন্দাপল্লিতে স্থাপিত হল প্রথম টাওয়ার
প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে, এই টাওয়ার স্থাপনের ফলে এলাকার বাসিন্দারা এবার আধার যাচাই, ব্যাঙ্কিং ও সরকারি প্রকল্পের সুবিধা মোবাইলের মাধ্যমেই পেতে পারবেন।
Truth Of Bengal: ছত্তিশগড়ের মাওবাদী-প্রভাবিত বস্তার রেঞ্জে প্রথমবারের জন্য মোবাইল নেটওয়ার্ক পরিষেবা চালু হল। বিজাপুর জেলার ছত্তিশগড়-তেলেঙ্গানা সীমান্তবর্তী কোন্দাপল্লি গ্রামে স্থাপিত প্রথম মোবাইল টাওয়ারের মাধ্যমে এই পরিষেবা শুরু হয়েছে।
বস্তার রেঞ্জের অন্তর্গত সাত জেলা—বস্তার, দান্তেওয়াড়া, বিজাপুর, সুকমা, নারায়ণপুর, কোন্ডাগাঁও ও কাঁকের—দীর্ঘদিন ধরে মাওবাদী কার্যকলাপের কারণে যোগাযোগব্যবস্থা থেকে প্রায় বিচ্ছিন্ন ছিল। কোন্দাপল্লি গ্রামে এতদিন পানীয়জল, বিদ্যুৎ ও পাকা রাস্তার সুবিধাও ছিল সীমিত। প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে, এই টাওয়ার স্থাপনের ফলে এলাকার বাসিন্দারা এবার আধার যাচাই, ব্যাঙ্কিং ও সরকারি প্রকল্পের সুবিধা মোবাইলের মাধ্যমেই পেতে পারবেন।
ছত্তিশগড়ের মুখ্যমন্ত্রী বিষ্ণুদেও সাই এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, “বস্তারের মানুষের জীবনে নতুন পথচলা শুরু হল। এতদিন তাঁরা যে স্বপ্ন দেখতে পারেননি, এবার তা বাস্তবে রূপ নেবে। সরকারি প্রকল্পের সুবিধা এখন সরাসরি তাঁদের হাতে পৌঁছাবে।”
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের ঘোষিত ২০২৬ সালের ৩১ মার্চের মধ্যে মাওবাদ নির্মূলের লক্ষ্যমাত্রার অংশ হিসেবে বস্তারে যৌথ বাহিনীর অভিযান গত দু’বছরে তীব্রতর হয়েছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এখনও পর্যন্ত বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে ৪৫০-র বেশি মাওবাদী নিহত হয়েছেন, যার প্রায় ৮০ শতাংশই বস্তারের সাত জেলায়।
এই সময়ের মধ্যে নিহত শীর্ষ মাওবাদী নেতাদের মধ্যে রয়েছেন সিপিআই (মাওবাদী)-র সাধারণ সম্পাদক নাম্বালা কেশব রাও ওরফে বাসবরাজ, পলিটব্যুরো সদস্য চলপতি, কেন্দ্রীয় কমিটি সদস্য সুধাকর এবং অরুণা-সহ পিএলজিএ-র একাধিক কমান্ডার।
একই সঙ্গে রাজ্য সরকারের ‘নিয়া নার নিয়া পুলিশ’, ‘লোন ভারাতু’, ‘নিয়াদ নেল্লানার’ ও ‘পুনা মারগেম’ পুনর্বাসন প্রকল্পে সাড়া দিয়ে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মাওবাদী আত্মসমর্পণ করেছেন।
প্রশাসনের দাবি, মোবাইল নেটওয়ার্ক চালু হওয়ায় শুধু যোগাযোগ নয়, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও প্রশাসনিক পরিষেবায়ও বড় পরিবর্তন আসবে। দীর্ঘদিন অবহেলিত বস্তারের জনজীবনে এই ডিজিটাল সংযোগ এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করল বলে মনে করা হচ্ছে।




