কলকাতা

বাংলায় ১ কোটি ১০ লক্ষ বৃক্ষরোপণের মেগা টার্গেট! পরিবেশ দিবসে একগুচ্ছ ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

কংক্রিটের জঙ্গল পরিষ্কার করতে এবার কড়া অ্যাকশনে সরকার! পরিবেশ দিবসে ‘মায়ের নামে’ গাছ লাগালেন মুখ্যমন্ত্রী

Truth of Bengal: বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে রাজ্যে এক অভূতপূর্ব সবুজ বিপ্লবের সূচনা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শুক্রবার কেন্দ্রীয় সরকার আয়োজিত একটি বিশেষ কর্মসূচিতে যোগ দিয়ে তিনি রাজ্যজুড়ে ১ কোটি ১০ লক্ষ গাছের চারা লাগানোর এক বিশাল লক্ষ্যমাত্রা ঘোষণা করেন। শুক্রবার থেকেই যুদ্ধকালীন তৎপরতায় সরকারের এই পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ চালু হয়ে গিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, শুধুমাত্র শুক্রবার, অভিযানের প্রথম দিনেই রাজ্যজুড়ে রেকর্ড পরিমাণ প্রায় ছ’লক্ষ গাছের চারা রোপণ করা হচ্ছে।

‘একটি গাছ মায়ের নামে’, নলবনে আবেগঘন মুখ্যমন্ত্রী

এদিন বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে কলকাতার নলবনে আয়োজিত এই বিশেষ কর্মসূচির নাম দেওয়া হয়েছিল ‘একটি গাছ মায়ের নামে’। এই অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নিজের প্রয়াত মাতাকে স্মরণ করে একটি চারা গাছ উৎসর্গ করেন। তিনি জানান, শুধু কলকাতা নয়, আজ রাজ্যের প্রতিটি প্রান্তের স্কুল, কলেজ ও পার্কগুলিতে এই সবুজায়ন কর্মসূচি ধুমধাম করে পালন করা হচ্ছে। প্রথম দিনে যে ছ’লক্ষ গাছ লাগানো হচ্ছে, তার সিংহভাগই হল ফলের গাছ। তবে শুধু গাছ লাগানোই নয়, সেই চারাগাছগুলিকে যাতে সঠিকভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করে মহীরুহে পরিণত করা যায়, তার সম্পূর্ণ দায়িত্ব রাজ্য সরকার নেবে বলে তিনি স্পষ্ট করেছেন। এই মহান উদ্দেশ্যে বিশেষ করে ছাত্রছাত্রী ও যুবসমাজকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

বদলাচ্ছে স্কুলের পাঠ্যক্রম, নজরে বৃহত্তর কলকাতা

ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে পরিবেশ সচেতন করে তুলতে এক বড়ো প্রশাসনিক পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। এবার স্কুল স্তরের পাঠ্যক্রমে বৃক্ষরোপণ ও পরিবেশবিদ্যার উপযোগিতাকে আরও গুরুত্ব সহকারে অন্তর্ভুক্ত করতে পাঠ্যসূচির মূল্যায়ন করা হবে। বারাসত থেকে সোনারপুর-বারুইপুর পর্যন্ত বিস্তৃত বৃহত্তর কলকাতার বর্তমান রূপ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আকাশপথে দেখলে মনে হয় এ যেন শুধু কংক্রিটের জঙ্গল! জীবিকার তাগিদে শহরের পরিধি বাড়বে ঠিকই, কিন্তু বিগত সময়ে পরিকল্পিতভাবে সবুজায়নের কোনও চেষ্টা করা হয়নি। প্রকৃতির সঙ্গে হওয়া অন্যায়ের খেসারত আমাদের দিতে হচ্ছে। এবার আমরা আরও যত্নবান হব।”

২ ঘণ্টার পরিচ্ছন্নতা এবং ধর্মীয় ক্ষেত্রের সৌন্দর্যায়ন

মুখ্যমন্ত্রী মনে করিয়ে দেন, রাজ্যে ইতিমধ্যেই চালু হয়েছে ‘স্বচ্ছতা অ্যাপ’। এর মাধ্যমে কোথাও আবর্জনা পড়ে থাকার ছবি তুলে পাঠালেই মাত্র ২ ঘণ্টার মধ্যে তা পরিষ্কার করে দেওয়া হবে। আপাতত ১০টি শহরে এই পরিষেবা চালু থাকলেও দ্রুত রাজ্যের সব পুরসভায় তা ছড়িয়ে দেওয়া হবে। এর পাশাপাশি কালীঘাট, দক্ষিণেশ্বর, তারাপীঠ, মদনমোহন মন্দির ও জল্পেশ-সহ রাজ্যের সমস্ত বিখ্যাত ধর্মীয় এবং পর্যটন ক্ষেত্রগুলির পারিপার্শ্বিক পরিবেশকে ঢেলে সাজানোর নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

পুরুলিয়া ও ডুয়ার্সে বেআইনি অরণ্য ছেদনকে ‘বিপজ্জনক’ আখ্যা দিয়ে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। একই সঙ্গে, দরিদ্র পরিবারগুলিতে ধোঁয়া ও পরিবেশ দূষণ কমাতে কয়লা বা কাঠের বদলে ইলেকট্রিক চুল্লির ব্যবস্থা করার জন্য পরিবেশ দফতরকে নিজস্ব তহবিল ব্যবহার করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। পশ্চিমবঙ্গকে দেশের মধ্যে এক নম্বর স্বচ্ছ ও সবুজ রাজ্য হিসেবে গড়ে তোলাই এখন নতুন সরকারের মূল লক্ষ্য।

Related Articles