রাজ্যসভার সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা সুস্মিতা দেবের, তৃণমূল ছেড়েই সাক্ষাৎ হিমন্তের সঙ্গে
রাজ্যসভা ও দল থেকে ইস্তফা সুস্মিতা দেবের, হিমন্তের সঙ্গে বৈঠকে পদ্ম শিবিরের জল্পনা তুঙ্গে
Truth of Bengal: লোকসভায় ২০ জন সাংসদের এনডিএ ব্লকে যোগদানের মেগা ধাক্কা এখনও সামলে উঠতে পারেনি আদি তৃণমূল কংগ্রেস, তার মাঝেই এবার রাজ্যসভাতেও শুরু হয়ে গেল ‘অপারেশন লোটাস’ (Operation Lotus)। প্রবীণ নেতা সুখেন্দুশেখর রায়ের পর এবার দল ছাড়লেন তৃণমূলের আরও এক হেভিওয়েট রাজ্যসভার সাংসদ সুস্মিতা দেব (Sushmita Dev)। কেবল সংসদীয় পদ ত্যাগ করাই নয়, তিনি তৃণমূল কংগ্রেসের প্রাথমিক সদস্যপদ থেকেও ইস্তফা দিয়েছেন। আর এই নাটকীয় দলত্যাগের পরেই অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার (Himanta Biswa Sarma) সঙ্গে সশরীরে দেখা করেছেন সুস্মিতা। যার ফলে তিনি খুব শীঘ্রই বিজেপিতে (BJP) যোগ দিচ্ছেন, এই রাজনৈতিক জল্পনা এখন উত্তর-পূর্ব ভারত থেকে শুরু করে দিল্লির অলিন্দে ১০০ গুণ বেড়ে গিয়েছে।
সন্তোষমোহনের কন্যার বিদায়ে থমকে গেল তৃণমূলের ‘ত্রিপুরা-অসম’ মিশন
সুস্মিতা দেব আদতে অসমের রাজনীতির অত্যন্ত পরিচিত এবং প্রভাবশালী মুখ। সে রাজ্যের প্রখ্যাত কংগ্রেস নেতা তথা প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সন্তোষমোহন দেবের কন্যা তিনি। একসময় অসমের শিলচর লোকসভা কেন্দ্র থেকে কংগ্রেসের টিকিটে সাংসদও নির্বাচিত হয়েছিলেন সুস্মিতা। তবে ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে তিনি পরাজিত হন। পরবর্তীতে ২০২১ সালের অগস্ট মাসে দিল্লিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে তৃণমূলে (TMC) যোগ দিয়েছিলেন তিনি।
তারুণ্য ও অভিজ্ঞতার মেলবন্ধনে তৃণমূল নেতৃত্ব সুস্মিতাকে রাজ্যসভায় পাঠায় এবং অসম তথা ত্রিপুরার মতো উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলিতে ঘাসফুল শিবিরের সংগঠন বিস্তারের প্রধান দায়িত্ব বা সেনাপতির ব্যাটন তুলে দিয়েছিল। কিন্তু ছাব্বিশের বঙ্গে ক্ষমতা বদলের পর থেকেই দেশের রাজনৈতিক সমীকরণ দ্রুত বদলাতে শুরু করে। লোকসভার সংসদীয় দল হাতছাড়া হওয়ার পর রাজ্যসভার সাংসদদের ওপর কালীঘাটের নিয়ন্ত্রণ যে শিথিল হয়ে পড়েছে, সুস্মিতার এই আচমকা পদত্যাগ তারই জলজ্যান্ত প্রমাণ।
হিমন্তের সঙ্গে সাক্ষাৎ, নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, সুস্মিতা দেবের এই সিদ্ধান্ত শুধু ব্যক্তিগত স্তরে সীমাবদ্ধ নয়। ইস্তফা দেওয়ার পর অসমের দাপুটে বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার সঙ্গে তাঁর এই হাই-প্রোফাইল সাক্ষাৎ স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে, তিনি আগামী দিনে নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ পদ্ম শিবিরেই দেখছেন। অসমের বরাক উপত্যকায় দেব পরিবারের যে বিশাল ভোটব্যাঙ্ক রয়েছে, তা যদি এখন বিজেপির ঝুলিতে যায়, তবে উত্তর-পূর্বে আদি তৃণমূলের অস্তিত্ব সম্পূর্ণ মুছে যাবে।
অন্যদিকে, একের পর এক রাজ্যসভার সাংসদদের এই দলবদল বিরোধী শিবিরের জন্য বড় বিপর্যয় ডেকে আনছে। রাজনৈতিক মহলে জোর গুঞ্জন, সুস্মিতার এই ইস্তফা আসলে হিমবাহের চিলতে মাত্র, আগামী কয়েকদিনের মধ্যে রাজ্যসভার আরও বেশ কয়েকজন তৃণমূল সাংসদ দিল্লির আসল স্রোতে গা ভাসাতে পারেন।





