রাজ্যের খবর

“বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের কথা সেদিন তাঁর পার্টি শুনলে…!”, ২৫২টি মাদ্রাসা বন্ধের মুখে বিস্ফোরক শমীক

"শিক্ষায় কোনও ধর্মীয় নিয়ন্ত্রণ চলবে না!", খারিজি মাদ্রাসা ইস্যুতে বুদ্ধবাবুর পুরনো মন্তব্য মনে করালেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি

Truth of Bengal: রাজ্যজুড়ে পরিকাঠামো ও প্রয়োজনীয় নথিপত্র না থাকায় ২৫২টি অনুমোদনহীন মাদ্রাসা সম্পূর্ণ বন্ধের সরকারি নোটিস জারি হতেই রাজ্য রাজনীতিতে শুরু হয়েছে তোলপাড়। বন্ধ হতে যাওয়া এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলির সিংহভাগই ‘খারিজি মাদ্রাসা’ বলে জানা গিয়েছে। এই বিতর্কিত ইস্যু প্রসঙ্গে সরকারের কড়া প্রশাসনিক পদক্ষেপকে পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে বিস্ফোরক বক্তব্য রাখলেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের ঐতিহাসিক মন্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে তিনি সাফ জানান, এই সব বেআইনি খারিজি মাদ্রাসাগুলি বহু আগেই বন্ধ করে দেওয়া উচিত ছিল।

রাজ্যে ক্ষমতা হস্তান্তরের পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশে রাজ্যজুড়ে শুরু হওয়া সমীক্ষায় হাজার হাজার অনুমোদনহীন মাদ্রাসার সন্ধান মেলে। তার পরেই নবান্নের তরফে ২৫২টি খারিজি মাদ্রাসা বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এবং আরও ১০০টি মাদ্রাসাকে শো-কজ করা হয়। এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে ধর্মীয় ও রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হতেই শমীক ভট্টাচার্য বলেন, “একসময় তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যও প্রকাশ্যে স্বীকার করেছিলেন যে কিছু কিছু মাদ্রাসায় দেশের সার্বভৌমত্ব বিরোধী কাজ ও জঙ্গিপনা ছড়ানো হচ্ছে। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয়, বামফ্রন্টের অভ্যন্তরীণ তোষণ রাজনীতির চাপে পরে বুদ্ধবাবুকে নিজের অবস্থান থেকে পিছিয়ে আসতে হয়েছিল। সেদিন যদি বামফ্রন্ট বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের সেই দূরদর্শী কথা শুনত, তবে আজকের দিনে পশ্চিমবঙ্গের সীমান্তবর্তী জেলাগুলিতে শিক্ষার নামে এহেন উদ্বেগজনক পরিস্থিতি তৈরি হত না।”

শমীক ভট্টাচার্য স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন যে, বিজেপি কোনও অবস্থাতেই ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আড়ালে অনিয়ম বা উগ্রপন্থা সহ্য করবে না। ভারতে ধর্মের ভিত্তিতে মানুষের সুযোগ-সুবিধায় কোনও পার্থক্য থাকতে পারে না। তাই দেশের প্রতিটি শিশুর জন্য সমান অধিকার ও অভিন্ন মানের আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।

সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) পোস্ট করে শমীক লেখেন, “শিক্ষা হল একটি জাতির প্রধান মেরুদণ্ড। কিন্তু সেই শিক্ষা যদি কুসংস্কার, সংকীর্ণতা ও ধর্মীয় গোঁড়ামির বেড়াজালে আটকে পড়ে, তবে দেশের অগ্রগতি স্তব্ধ হয়ে যায়। ভারতীয় জনতা পার্টি চায় একটি বৈষম্যহীন, কুসংস্কারমুক্ত, বিজ্ঞানমনস্ক ও কর্মমুখী শিক্ষা ব্যবস্থা। যেখানে কোনও শিশুর ভবিষ্যৎ তার ধর্মীয় পরিচয়ের ওপর ভিত্তি করে নির্ধারিত হবে না। আমাদের একমাত্র লক্ষ্য, এক দেশ, এক শিক্ষা ব্যবস্থা।”

Related Articles