কার স্বার্থ রক্ষা করতে ভারতকে, ‘মার্কিন কলোনি’ করছেন মোদি?
তার আগেই কোনও একটা সম্মানজনক উপায়ে মোদিকে সরিয়ে দিয়ে বিকল্প কাউকে প্রধানমন্ত্রীর কুরশিতে বসিয়ে দিতে পারে সংঘ।
রন্তিদেব সেনগুপ্ত: দিল্লির আমলা মহলে এখন জোর গুঞ্জন। গুঞ্জন এই যে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র দামোদরদাস মোদি এবার পড়েছেন ‘ইঁদুর-কলে’। বিশেষ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অঙ্গুলিহেলনে যে বাণিজ্য চুক্তিটি তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে করেছেন, তার পরে দেশের স্বার্থ রক্ষায় তিনি কতখানি যোগ্য প্রশ্ন উঠছে তা নিয়েই। এর সঙ্গে আবার গোঁদের ওপর বিষফোঁড়ার মতো এপস্টিন ফাইলে তাঁর নাম উঠে এসেছে। যৌন কেলেঙ্কারিতে অভিযুক্তের গোপন কথাবার্তার ফাইলে যদি দেশের প্রধানমন্ত্রীর নাম উঠে আসে তা হলে তা শুধু প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে নয়, সমগ্র দেশের পক্ষেই সম্মানহানিকর এমনটাই মনে করছেন সবাই। তদুপরি গত কয়েকবছরে উগ্র সাম্প্রদায়িক রাজনীতি এবং সংখ্যালঘুদের প্রতি মোদি সরকারের বিমাতৃসুলভ মনোভাবের কারণে আন্তর্জাতিক মহলেও ভারতের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয়েছে। দিশাহীন বিদেশনীতির ফলে ভারতের প্রতি বন্ধুমনোভাবাপন্ন দেশের সংখ্যাও কমেছে। এরই পাশাপাশি সরকারের স্বেচ্ছাচারী কার্যকলাপ এবং স্বৈরতান্ত্রিক মনোভাবের কারণে দেশের ভিতরেও ক্ষোভ অসন্তোষ বাড়ছে। দেশের অর্থনৈতিক অবস্থাও সুবিধাজনক নয়। মোদির জনপ্রিয়তার গ্রাফও এখন নিম্নমুখী।
দিল্লির আমলা মহলের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখেন এমন এক ব্যক্তি বলছিলেন, সব মিলিয়ে অবস্থাটা এখন এমন যে, বিজেপি এবং সংঘ নেতৃত্ব বুঝতে পারছেন, মোদিকে সামনে রেখে আরও যতই এগোনোর চেষ্টা করবে বিজেপি, ততই তাদের আরও অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সামনে পড়তে হবে। এমনও হতে পারে সেই পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার মতো অবস্থা তাদের থাকবে না। তার আগেই কোনও একটা সম্মানজনক উপায়ে মোদিকে সরিয়ে দিয়ে বিকল্প কাউকে প্রধানমন্ত্রীর কুরশিতে বসিয়ে দিতে পারে সংঘ। অবস্থা সেদিকেই নাকি চলেছে, এমনটাই ধারণা আমলাদের একাংশের। তেমন হলে ২০২৯-এর লোকসভা নির্বাচনে মোদি নয়, হয়তো অন্য কারও নেতৃত্বে বিজেপিকে ভোটের ময়দানে নামতে হতে পারে।
কোন সম্মানজনক পদ্ধতিতে মোদিকে প্রধানমন্ত্রীর কুর্সি থেকে সংঘ নেতৃত্ব সরাবেন বা আদৌ সরাবেন কিনা, সেটা আরও কিছুদিন গেলে পরিষ্কার হবে। এর ভিতরে হয়তো মোদির সরকার এবং দলকে আরও কিছু অপ্রীতিকর এবং অস্বস্তিকর অবস্থার ভিতরে পড়তে হতেও পারে। তার আগে দেখা যাক, ছাপ্পান্ন ইঞ্চির ছাতি নিয়ে গর্ব করা নরেন্দ্র দামোদরদাস মোদি স্বাধীন সার্বভৌম ভারত রাষ্ট্রটিকে তাঁর শাসনকালের এক দশকের মাথায় কোথায় এনে দাঁড় করিয়েছেন। প্রথমেই তাকানো যাক মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যে বাণিজ্য চুক্তিটিতে আবদ্ধ হয়েছে মোদির সরকার সেই দিকে। এই চুক্তিটি এক ঝলক যদি কেউ চোখ বুলিয়ে থাকেন, তা হলে বুঝতে পারবেন এই চুক্তিতে কার্যত ভারতের সার্বভৌমত্বকে মার্কিন রাষ্ট্রপতির চরণে সমর্পণ করে ভারতকে একটি মার্কিন কলোনিতে পরিণত করার কাজটি করে এসেছেন নরেন্দ্র মোদি। কী বলা হয়েছে এই চুক্তিতে? বলা হয়েছে, রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কিনতে পারবে না ভারত। ভবিষ্যতেও যাতে রাশিয়ার কাছ থেকে ভারত তেল কিনতে না পারে তার ওপর নজরদারি রাখবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্রের পক্ষে এরকম একটি শর্তের কাছে মাথা নত করা কতখানি অপমানজনক, সেটি এই চুক্তিতে সম্মত হওয়ার আগে স্বঘোষিত ‘বিশ্বগুরু’ বুঝলেন না? একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে ভারত কোন দেশের সঙ্গে কতখানি বাণিজ্য করবে সেটা একান্তই ভারতের সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিষয়। এখন মার্কিন রাষ্ট্রপতির হুকুমনামা মেনে ভারতকে যদি বাণিজ্য করতে হয়, তা হলে ভারতের স্বাধীন স্বতন্ত্র অস্তিত্বই বিনষ্ট হতে বসে।
শুধু এটুকুই নয়। ওই চুক্তিতে আরও বলা হয়েছে, ভারত রাশিয়া থেকে তেল কিনবে না, এই শর্তে রাজি হওয়ার ফলে ভারতীয় পণ্যের ওপর থেকে ৫০ শতাংশ শুল্ক কমিয়ে তা ১৮ শতাংশ করে দিচ্ছে আমেরিকা। কিন্তু ভারতের ওপর আমেরিকার নজরদারি চলবে। যদি ভারত ভবিষ্যতে রাশিয়া থেকে তেল কিনতে যায় তা হলে আবার ৫০ শতাংশ শুল্ক চাপাবে আমেরিকা। ভাবখানা এমন যেন হাতে চাবুক নিয়ে মার্কিন প্রভুরা পাহারা দিচ্ছে। বেগড়বাই দেখলেই শপাং শপাং করে চাবুক নেমে আসবে ভারতবাসীর পিঠে।
ছাপ্পান্ন ইঞ্চির বিশ্বগুরু আর কী কী শর্তে মাথা বিকিয়ে দিয়ে এলেন আঙ্কল স্যামের কাছে? আমেরিকা ভারতীয় পণ্যের ওপর ১৮ শতাংশ শুল্ক চাপালেও ভারত আমেরিকার সমস্ত শিল্পজাত পণ্য এবং অসংখ্য খাদ্য ও কৃষিপণ্যে শুল্ক কমাবে অথবা একদম তুলে নেবে। এর ফল? ফল এই যে ভারতীয় কৃষক পেটে গামছা বেঁধে ‘আচ্ছে দিনের’ গপ্পো শুনবে এবং আঙ্কল স্যাম একতরফা মুনাফা লুটে বেরিয়ে যাবে।
এখানেও শেষ নয়। এই চুক্তি অনুযায়ী ভারত এবার ইরানের চাবাহার বন্দর থেকে হাত গুটিয়ে নেবে। এই চাবাহার বন্দর আধুনিকীকরণে ভারত প্রযুক্তিগত সহায়তা দিয়েছিল ইরানকে। এই বন্দরকে ব্যবহার করে মধ্যপ্রাচ্যে বাণিজ্য প্রসার করত ভারত। মার্কিনি চাপের কাছে মাথা নুইয়ে এবার নিজের সেই বাণিজ্যিক স্বার্থকেও যূপকাষ্ঠে চড়াতে হল।
শুধুমাত্র আমেরিকার স্বার্থ রক্ষাকারী এই চুক্তি ভবিষ্যতে ভারতকে আরও বেশি করে মার্কিনি নাগপাশে বেঁধে ফেলবে এমনই মনে করছেন আমলাদের এক বড় অংশ। শুধু তাই নয়, আমলারা আরও মনে করছেন, এর ফলে আন্তর্জাতিক মহলে ভারতকে আর একটি মার্কিন কলোনি বলেই গণ্য করতে থাকবে সবাই। তাতে ভারতের রাজনৈতিক গুরুত্বও কমবে।
নরেন্দ্র মোদির এভাবে ট্রাম্পের চরণতলে মাথা বিকিয়ে দিয়ে আসা বিজেপি এবং সংঘের বড় অংশও ভালভাবে দেখছে না। তারাও মনে করছে, দেশের স্বার্থরক্ষায় এই সরকার কতখানি যোগ্য সে প্রশ্নও উঠবে। ইতিমধ্যে অবশ্য সে কথা উঠতেও শুরু করেছে। আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঠান্ডা যুদ্ধের সময়ও যা করতে পারেনি আমেরিকা, এবার রাশিয়া থেকে ভারতের তেল কেনার ওপর নিষেধাজ্ঞা চাপিয়ে সেটা করার সাহস দেখালো। উঠে আসছে ইন্দিরা গান্ধির প্রধানমন্ত্রিত্ব কালের সঙ্গে তুলনাও। বাংলাদেশ যুদ্ধের সময় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যে দৃঢ়তা ইন্দিরা দেখিয়েছিলেন তার ধারকাছ দিয়েও তো ‘ছাপ্পান্ন ইঞ্চি’ যেতে পারলেন না। শুধু ইন্দিরা নন, এর আগে যাঁরা দেশের প্রধানমন্ত্রীর আসনটি অলঙ্কৃত করেছেন, তাঁরা কেউই তো এরকম অসম্মানজনক শর্তে কারও কাছে দেশের সার্বভৌমত্বকে বিকিয়ে দিয়ে আসেননি।
শুধু কি বাণিজ্য চুক্তি? এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে এপস্টিন ফাইল। বিজেপি বুঝতেই পারেনি, কেরল ফাইলস, বেঙ্গল ফাইলস এসব করতে করতে কখন এপস্টিন ফাইলস বাজারে এসে যাবে। আর এসে শুধু যাবে না, তাতে নাম জড়িয়ে যাবে ‘বিশ্বগুরুর’। এই এপস্টিন লোকটি কে ছিলেন, কী কীর্তিকলাপ ছিল তার এখন তা প্রকাশ্য। শিশু এবং নাবালক-নাবালিকাদের দিয়ে যৌনচক্র চালানো সহ নানাবিধ অসামাজিক কাজ চালাতেন এই এপস্টিন। সেই ফাঁদে জড়িয়ে ফেলে বিশিষ্ট এবং ধনী ব্যক্তিদের ব্ল্যাকমেল করতেন তিনি। যে তালিকায় প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট থেকে ব্রিটিশ যুবরাজ পর্যন্ত রয়েছেন। নানাবিধ কেচ্ছায় অভিযুক্ত এই এপস্টিনের রহস্যজনকভাবে মার্কিন কারাগারে মৃত্যু হয়। মার্কিন আদালতের নির্দেশে এপস্টিন সংক্রান্ত কিছু ফাইল প্রকাশ করেছে মার্কিন সরকার। তাতে বেশ কিছু বিশিষ্ট জনের নামও এসেছে। এপস্টিনের ফাইলে নাম আসাটা খুব সম্মানজনক হয়নি তাঁদের পক্ষে।
ভারত এবং ভারতবাসীর দুর্ভাগ্য যে, এপস্টিন ফাইলে এদেশের প্রধানমন্ত্রীর নামটিও এসেছে। এপস্টিন ফাইলে বলা হয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে খুশি করতে ইজরায়েলে গিয়ে ‘নাচাগানা’ করেছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদি। এর আগে কোনও ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী সম্পর্কে এই ধরনের কথাবার্তা শোনা যায়নি। বরং ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুর সঙ্গে বিশ্বশ্রুত বিজ্ঞানী আইনস্টাইনের সখ্যতা ছিল। মনমোহন সিংয়ের সঙ্গে বিশ্বের তাবড় অর্থনীতিবিদদের নিয়মিত যোগাযোগ ছিল। ইন্দিরা গান্ধি জোট নিরপেক্ষ এবং সমাজতান্ত্রিক দেশগুলির রাষ্ট্রনেতাদের সম্ভ্রম আদায় করেছিলেন। এখন সে সব ইতিহাস। এখন হিন্দু রাষ্ট্রের প্রবক্তা প্রধানমন্ত্রীর নাম জ্বলজ্বল করছে এপস্টিন ফাইলে।
মোদি কী করছেন? এপস্টিন ফাইলে যে তাঁর নাম উঠে এসেছে, বিভিন্ন মহল থেকে যখন দাবি উঠেছে এই বিষয়ে মুখ খুলে মোদি নিজের বক্তব্য জানান, তখন প্রধানমন্ত্রী মুখে কুলুপ এঁটেছেন। বিদেশমন্ত্রকের পক্ষ থেকে অবশ্য এই অভিযোগ অস্বীকার করে একটি বিবৃতি দেওয়া হয়েছে। তবে সে নিতান্তই নিয়মরক্ষার বিবৃতি। এপস্টিন ফাইলে দেশের প্রধানমন্ত্রীর নাম উঠে আসা কতখানি লজ্জাজনক তা কি প্রধানমন্ত্রী স্বয়ং বা তাঁর বিদেশমন্ত্রক বোঝেন না? তা হলে প্রধানমন্ত্রীর এই অস্বাভাবিক নীরবতা কেন?
প্রশ্নটা এখানেই। আমেরিকা এবং ট্রাম্পের প্রসঙ্গ উঠলেই প্রধানমন্ত্রী মুখে কুলুপ আঁটেন কেন? কোনও অদৃশ্য সুতোয় কি তিনি বাঁধা পড়ে রয়েছেন ট্রাম্প এবং আমেরিকার কাছে? কারওর অদৃশ্য সুতোর টানে তিনি উঠছেন-বসছেন না তো? এই প্রশ্নগুলি উঠবেই। উঠবেই এই কারণে যে, প্রধানমন্ত্রী মোদির এইসব কার্যকলাপ এবং সিদ্ধান্তের সঙ্গে দেশের স্বার্থটিও জড়িত রয়েছে।
একটু মনে করে দেখুন, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সফরে গিয়ে দৃষ্টিকটূভাবে মোদি স্লোগান দিয়েছিলেন, ‘অব কি বার ট্রাম্প সরকার।’ কোনও ভিন রাষ্ট্রে গিয়ে তার অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে তিনি যে জড়াতে পারেন না, সেই বোধটিই তাঁর হয়নি। যদিও সেই নির্বাচনে ট্রাম্প হেরেছিলেন। আর এখন, ট্রাম্পের এই দ্বিতীয় দফায়? ট্রাম্প দাবি করেছেন ভারত-পাকিস্তান সীমান্ত সংঘর্ষ তাঁর নির্দেশেই নাকি বন্ধ হয়েছে। একবার নয়, বারবার এই দাবি করেছেন। ট্রাম্পের এই দাবির সামনে মোদি চুপ। ট্রাম্প চাপ দিয়েছেন রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধ করতে। চাপ দিয়েছেন চাবাহার বন্দর থেকে হাত গোটাতে। চাপ দিয়েছেন মার্কিন পণ্যের ওপর শুল্ক ছাড় অথবা নামমাত্র শুল্ক ধার্য করতে। বাধ্য ছেলের মতোই মোদি সব কিছু মেনে নিয়েছেন? কেন এই বাধ্যবাধকতা মোদির?
দিল্লির আমলা মহলে এ নিয়েও গুঞ্জন রয়েছে। একান্ত আলোচনায় তাঁরা বলছেন, নিজের ঘনিষ্ঠ শিল্পপতির স্বার্থরক্ষা করতে গিয়েই আমেরিকার কাছে আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হচ্ছেন মোদি। শোনা যাচ্ছে, ওই শিল্পপতির বেআইনি কিছু কারবার সংক্রান্ত ফাইল হোয়াইট হাউসের হাতে রয়েছে। আমেরিকান কোর্টে যদি এ সংক্রান্ত কোনও মামলা ওঠে তা হলে ওই শিল্পপতির সাজা হতে বাধ্য। আর ওইসব ফাইলই নাকি মোদিকে বশে রাখার ট্রাম্প কার্ড হয়ে উঠেছে হোয়াইট হাউসের কাছে। যদি এইসব গুঞ্জনের দশ শতাংশও সত্য হয় তা হলে বলতেই হবে মোদি প্রধানমন্ত্রী থাকার নৈতিক অধিকার হরিয়েছেন। যিনি ব্যক্তিস্বার্থে দেশের স্বার্থকে জলাঞ্জলি দেন— প্রধানমন্ত্রীর কুর্সিটা অন্তত তাঁর জন্য আর নয়।
তবে মোদি ভয় পেয়েছেন। কোনও প্রশ্নের সম্মুখীন তিনি আর হতে চাইছেন না। সম্প্রতি দু’দিন তাঁর দুটি আচরণ সে কথাই প্রমাণ করছে। বিরোধীদের বিক্ষোভ এড়িয়ে যাওয়ার জন্য লোকসভায় পা রাখলেন না তিনি। আর এর জন্য লোকসভার অধ্যক্ষের মাধ্যমে হাস্যকর অভিযোগ আনলেন। বলা হল, মোদি লোকসভায় এলে নাকি শারীরিকভাবে নিগৃহীত হতেন। এই ধরনের অভিযোগ যে কতখানি ঠুনকো এবং ছেলেমানুষি তা বোধকরি মোদিও বোঝেন। তবু এই ছেলেমানুষি ঠুনকো অভিযোগ তাঁকে তুলতে হল। কেন না, তিনি পালাতে চাইছেন।
দ্বিতীয়, সম্প্রতি দিল্লিতে গিয়ে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এসআইআর নিয়ে যেভাবে সওয়াল করেছেন সুপ্রিম কোর্টে তাতে জাতীয় রাজনীতিতে একটি সুদূরপ্রসারী প্রভাব পড়েছে। মোদি এবং বিজেপি-সংঘের নেতারা বুঝতে পারছেন পালের হাওয়া মমতা কেড়ে নিয়েছেন। এই ধাক্কা সামলাতে মোদিকে রাজ্যসভায় দাঁড়িয়ে সেই চিরপুরাতন হিন্দু-মুসলমান বিভাজনের কার্ড খেলতে হয়েছে। কিন্তু সে খেলাও ব্যর্থ হয়েছে। মোদির রাজ্যসভার ভাষণ শুনানির লাইনে দাঁড়িয়ে হেনস্থা হওয়া মানুষগুলির ক্ষোভ আরও বাড়িয়েই দিয়েছে। মমতার সামনে মোদির হিন্দু-মুসলমানের রাজনীতি বাংলার বাজারে আর চলছে না।
শেষ পর্যন্ত নরেন্দ্র দামোদরদাস মোদি মানে মানে প্রধানমন্ত্রীর কুর্সি ছেড়ে চলে যাবেন কিনা জানি না। রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ তাঁকে সরিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কুর্সিতে বিকল্প কাউকে আনবে কিনা এই মুহূর্তে সেটিও অজানা। তবু উপসংহারে আপাতত এটুকু বলা যেতেই পারে— নরেন্দ্র দামোদরদাস মোদি প্রকৃতপক্ষেই একজন দুর্বলচিত্ত প্রধানমন্ত্রী। ওঁর বুকের ছাতিটিও ছাপ্পান্ন ইঞ্চি নয়।






