কলকাতা

তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেফতার পার্থ-ঘনিষ্ঠ বাপ্পাদিত্য! ‘চোর’ স্লোগান ক্ষুব্ধ জনতার

দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর বয়ানে একাধিক অসঙ্গতি মেলায় রাতেই তাঁকে রাষ্ট্রে আইনভঙ্গ ও তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেফতার করে পুলিশ। 

Truth of Bengal: তোলাবাজি, দুর্নীতির লাগামহীন গ্রাস ও সাধারণ মানুষকে শোষণের গুরুতর অভিযোগে এবার পুলিশের জালে ধরা পড়লেন কলকাতা পৌরসংস্থার ১০১ নম্বর ওয়ার্ডের দাপুটে তৃণমূল কাউন্সিলর বাপ্পাদিত্য দাশগুপ্ত। শনিবার সকালে প্রথমে বাপ্পাদিত্যর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ শাগরেদ তথা স্থানীয় তৃণমূল নেতা সৌরভ ঘোষকে গ্রেফতার করে পাটুলি থানার পুলিশ। এরপর সৌরভকে লকআপে নিয়ে ম্যারাথন জেরা শুরু করতেই খোদ কাউন্সিলরের নাম উঠে আসে। সেই তথ্যের ভিত্তিতেই শনিবার রাতে পাটুলি, বৈষ্ণবঘাটা অঞ্চলের এই প্রভাবশালী কাউন্সিলরকে তাঁর এলাকা থেকে আটক করে থানায় নিয়ে আসা হয়। দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর বয়ানে একাধিক অসঙ্গতি মেলায় রাতেই তাঁকে রাষ্ট্রে আইনভঙ্গ ও তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেফতার করে পুলিশ।

এককালে প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বৃত্তে থাকা বাপ্পাদিত্য দাশগুপ্তের বিরুদ্ধে পাটুলি ও সংলগ্ন বৈষ্ণবঘাটা এলাকার সাধারণ মানুষের ক্ষোভ দীর্ঘদিনের। অতীতে নিয়োগ দুর্নীতি মামলার তদন্তে নেমে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই (CBI) বাপ্পাদিত্যকে নিজাম প্যালেসে ডেকে দীর্ঘ জেরা করেছিল। তবে সে যাত্রায় কেন্দ্রীয় এজেন্সির হাত থেকে বেঁচে গেলেও, রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর এই তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে একের পর এক তোলাবাজি, হুমকি ও সিন্ডিকেট রাজের লিখিত অভিযোগ জমা পড়তে শুরু করে পাটুলি থানায়। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, এলাকায় নতুন কোনও বাড়ি তৈরি বা ব্যবসা করতে গেলেই বাপ্পাদিত্য এবং তাঁর ডানহাত সৌরভের বাহিনীকে মোটা অঙ্কের তোলা দিতে হতো। সেই সমস্ত সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতেই পুলিশ এবার কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করল।

শনিবার রাতে বাপ্পাদিত্যকে যখন পুলিশের গাড়িতে করে পাটুলি থানায় নিয়ে আসা হয়, তখন থানার বাইরে কার্যত এক নজিরবিহীন উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। অভিযুক্ত কাউন্সিলরকে গাড়ি থেকে নামানোর সাথে সাথেই সেখানে উপস্থিত শয়ে শয়ে স্থানীয় বাসিন্দা ও ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ ক্ষোভে ফেটে পড়েন। ধৃত নেতাকে লক্ষ্য করে জনতা ‘চোর’ স্লোগান দিতে শুরু করে। পরিস্থিতি এমন অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে যে মারমুখী জনতার হাত থেকে বাঁচিয়ে পুলিশকর্মীরা কোনও রকমে বাপ্পাদিত্যকে হিড়হিড় করে থানার ভেতরে ঢুকিয়ে নেন। বিক্ষোভকারী স্থানীয়দের দাবি, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর এই বাপ্পাদিত্য দাশগুপ্তের নেতৃত্বেই পাটুলি অঞ্চলে নির্বাচন-পরবর্তী হিংসা চরম আকার ধারণ করেছিল। চাকরি চুরি থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের জমি ও টাকা আত্মসাৎ করে এই নেতা গোটা এলাকাকে কার্যত নিজেদের তালুকে পরিণত করেছিলেন। ধৃত কাউন্সিলর ও তাঁর শাগরেদকে আজই আদালতে পেশ করে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানাবে পুলিশ।

Related Articles