কলকাতা

ব্রিগেডে ইতিহাস ও বর্তমানের মেলবন্ধন! শ্যামাপ্রসাদের সতীর্থ মাখনলালকে সশ্রদ্ধ প্রণাম মোদির

শ্রদ্ধাজ্ঞাপনের সেই ধারা বজায় রেখে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং নবনিযুক্ত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও তাঁর আশীর্বাদ গ্রহণ করেন।

Truth of Bengal: কলকাতার ব্রিগেডে আয়োজিত বিজেপি সরকারের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে শনিবার রাজনীতির ঊর্ধ্বে এক মানবিক ও ঐতিহাসিক চিত্র ফুটে উঠল। জনসঙ্ঘের প্রতিষ্ঠাতা ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের একদা ছায়াসঙ্গী, ৯৭ বছর বয়সি বর্ষীয়ান রাজনীতিক মাখনলাল সরকার এদিন ছিলেন অনুষ্ঠানের মধ্যমণি। নবতিপর এই জননেতাকে মঞ্চে দেখা মাত্রই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তাঁকে শাল পরিয়ে উত্তরীয় দান করেন এবং সশ্রদ্ধ প্রণাম জানান। শ্রদ্ধাজ্ঞাপনের সেই ধারা বজায় রেখে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং নবনিযুক্ত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও তাঁর আশীর্বাদ গ্রহণ করেন।

বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য মাখনলাল সরকারের দীর্ঘ রাজনৈতিক লড়াই ও ত্যাগের ইতিহাস জনসমক্ষে তুলে ধরেন। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, দেশাত্মবোধক গান গাওয়ার অপরাধে একসময় দিল্লির কংগ্রেস সরকার মাখনলালকে কারারুদ্ধ করেছিল। এমনকি আদালতে ক্ষমা চাওয়ার শর্তে মুক্তির প্রস্তাব দেওয়া হলেও তিনি নিজের আদর্শে অটল ছিলেন। কথিত আছে, বিচারকের অনুরোধে এজলাসেই গান গেয়ে শুনিয়েছিলেন তিনি। তাঁর দেশপ্রেম দেখে মুগ্ধ বিচারক কেবল মামলা থেকেই তাঁকে মুক্তি দেননি, বরং সসম্মানে বাড়ি ফেরার জন্য ট্রেনের প্রথম শ্রেণির টিকিট ও যাতায়াতের খরচ প্রদানের নির্দেশ দিয়েছিলেন।

মাখনলাল সরকারের জীবনের অন্যতম গৌরবময় অধ্যায় হলো ১৯৫২ সালের ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের সেই ঐতিহাসিক কাশ্মীর যাত্রা। কাশ্মীরে প্রবেশের সময় শ্যামাপ্রসাদের সঙ্গে যে কজন অনুগামী গ্রেফতার হয়েছিলেন, মাখনলাল তাঁদের মধ্যে অন্যতম। শমীক ভট্টাচার্য আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, সেই যাত্রার সঙ্গীদের মধ্যে আজ একমাত্র মাখনলালই জীবিত রয়েছেন। তাই বাংলায় শ্যামাপ্রসাদের ভাবাদর্শের সরকার প্রতিষ্ঠার এই সন্ধিক্ষণে তাঁর উপস্থিতি ছিল এক ঐতিহাসিক অনিবার্যতার মতো।

শিলিগুড়ির দাগ গ্রামের এই বাসিন্দা ১৯৪৫ সাল থেকে আরএসএস-এর সঙ্গে যুক্ত। ১৯৮০ সালে বিজেপি প্রতিষ্ঠার পর দলের সাংগঠনিক ভিত মজবুত করতে তিনি উত্তরবঙ্গের জেলাগুলোতে অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন। অবিভক্ত পশ্চিম দিনাজপুর, জলপাইগুড়ি এবং দার্জিলিং জেলায় দলের সমন্বয়কারী হিসেবে কাজ করার পাশাপাশি শিলিগুড়ির প্রথম সাংগঠনিক সভাপতি হওয়ার কৃতিত্বও তাঁর। আশির দশকে টানা সাত বছর জেলা সভাপতির দায়িত্ব পালন করা এই বর্ষীয়ান নেতাকে মঞ্চে কাছে পেয়ে বর্তমান প্রজন্মের বিজেপি নেতৃত্ব আজ যেন ইতিহাসের যোগসূত্র খুঁজে পেল।

Related Articles