ভবিষ্যৎ ইতিহাসে গণহত্যাকারী হিসেবে চিহ্নিত হবেন নির্বাচন কমিশনের কর্তারা
সব মিলিয়ে ব্যাপারটা এই দাঁড়াল যে, এসআইআর পর্বের শুরু থেকে এই পর্যন্ত এসআইআর জনিত আতঙ্কে মৃতের সংখ্যা অর্ধশতাধিক ছাড়িয়ে গিয়েছে।
রন্তিদেব সেনগুপ্ত: গত শুক্রবার কোচবিহার জেলার বাণেশ্বরে আশিস ধর নামে এক বিএলও হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গিয়েছেন। তাঁর পরিবারের লোকেরা অভিযোগ করেছেন, এসআইআর নিয়ে কমিশনের অস্বাভাবিক চাপ ছিল তাঁর ওপর। সেই চাপেই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে তাঁর। ওই দিনই মৃত্যু হয়েছে হুগলি জেলার রিষড়ায় ধনঞ্জয় চক্রবর্তী নামে পঁচাশি বছরের এক বৃদ্ধের। তাঁর পরিবারের অভিযোগ, ২০০২-এর ভোটার তালিকায় নাম না থাকায় শুনানিতে ডাক পেয়েছিলেন তিনি। তাতে আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়েন এবং তার ফলেই এই মৃত্যু। একই দিনে মৃত্যু হয় দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার জয়নগরের নাজিতুল মোল্লা নামে সত্তরের কাছাকাছি বয়সের এক বৃদ্ধেরও। তাঁর পরিবারেরও অভিযোগ, এসআইআরের আতঙ্কেই এই মৃত্যু। উত্তর চব্বিশ পরগণার হিঙ্গলগঞ্জে ওই শুক্রবারই অসিত কুণ্ডু নামে আশি বছরের এক বৃদ্ধও হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গিয়েছেন। তাঁর পুত্রবধূ বলেছেন, ‘শুনানিতে যাচ্ছি শুনে অসিতবাবু বলেন, এতদিন এখানে রয়েছি তবু কেন আমাদের পরিবারকে ডাকা হল? এই ভেবেই তিনি আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়েন। হৃদরোগে আক্রান্ত হন।’ তা হলে কী দাঁড়াল? মাত্র একটি দিনে এই রাজ্যের চারটি প্রান্তে চারজনের মৃত্যু হয়েছে। তাঁদের মধ্যে একজন নির্বাচন কমিশন নিযুক্ত বিএলও, বাকি তিনজন প্রবীণ নাগরিক। এবং প্রতিটি ক্ষেত্রেই এঁদের পরিবারের মানুষজন কাঠগড়ায় তুলেছেন নির্বাচন কমিশনকে। সব মিলিয়ে ব্যাপারটা এই দাঁড়াল যে, এসআইআর পর্বের শুরু থেকে এই পর্যন্ত এসআইআর জনিত আতঙ্কে মৃতের সংখ্যা অর্ধশতাধিক ছাড়িয়ে গিয়েছে।
আর কী দেখছি আমরা? দেখছি, এসআইআরের শুনানি পর্বে মানুষের চূড়ান্ত হেনস্থা। অসুস্থ, প্রবীণ নাগরিকদের শুনানির চিঠি পাঠিয়ে ডেকে আনা হয়েছে। দীর্ঘক্ষণ ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েছেন তাঁরা। এঁদের ভিতর অনেকেই আশি ঊর্ধ্ব। অনেকে গুরুতর অসুস্থ। সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত ছবিতেই দেখেছি, কাউকে অ্যাম্বুল্যান্সে চাপিয়ে হাসপাতালে নিয়ে আসতে বাধ্য হয়েছেন পরিবার-পরিজন। কারও নাকে অক্সিজেনের নল লাগানো অবস্থায় হাজিরা দিতে হয়েছে শুনানিতে। ব্রেন স্ট্রোকে আক্রান্ত প্রবীণ নাগরিককেও তাঁর পরিবারের লোকদের সাহায্যে অনেক কষ্টে শুনানিতে আসতে হয়েছে। অন্তঃসত্ত্বাকেও বাধ্য করা হয়েছে শুনানির লাইনে দাঁড়াতে। এমনকী ছিয়ানব্বই বছরের অসুস্থ শয্যাশায়ী বৃদ্ধাকেও শুনানিতে হাজিরা থাকার চিঠি পাঠিয়েছে কমিশন। সম্প্রতি এক বিএলও সমাজমাধ্যমে তাঁর অভিজ্ঞতা লিখেছেন। তিনি লিখেছেন, শুনানির লাইনে যখন দীর্ঘক্ষণ বহু মানুষ উৎকন্ঠা নিয়ে অপেক্ষা করছেন, যাঁদের মধ্যে বহু বৃদ্ধ, অসুস্থ মানুষজনও রয়েছেন, তখন শুনানি বন্ধ রেখে দায়িত্বে থাকা আধিকারিকরা প্রায় একঘণ্টা ধরে তাঁদের মধ্যাহ্নভোজ সেরেছেন। লাইনে দাঁড়ানো মানুষগুলির দুর্ভোগের প্রতি কোনও দৃষ্টিপাতই করেননি তাঁরা। এই ঘটনাগুলি শুনে কী মনে হচ্ছে? এটাই কি মনে হচ্ছে না, এসআইআরের শুনানির লাইনে দাঁড়ানো এই অসুস্থ আতঙ্কগ্রস্ত মানুষগুলির সঙ্গে হিটলারের জার্মানিতে কনসেনট্রেশন ক্যাম্পে ঢোকার লাইনে দাঁড়ানো মানুষদের কোনও তফাত নেই। সেই একই রকমের চূড়ান্ত অমানবিক কাজের নজির হয়ে থাকছে, জাতীয় নির্বাচন কমিশনার শ্রীল শ্রীযুক্ত জ্ঞানেশ কুমারের নেতৃত্বে চলা এই এসআইআর প্রক্রিয়া।
এই যে এসআইআর প্রক্রিয়া চালু করেছেন জ্ঞানেশ কুমার বাবু অ্যান্ড কোম্পানি, যার ফলশ্রুতিতে এই রাজ্যের কয়েক লক্ষ সাধারণ মানুষকে হেনস্থার শিকার হতে হচ্ছে, তাকে কেন্দ্র করে কিছু প্রশ্ন স্বাভাবিকভাবেই উঠছে এবং উঠবে। প্রথম প্রশ্ন এই যে, এসআইআর প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে প্রথম থেকে এই শুনানি পর্ব অবধি নির্বাচন কমিশনের নানা অবাস্তব নির্দেশিকা এবং কার্যকলাপকে ঘিরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ল সাধারণ ভোটারদের মধ্যে, তার ফলে এ পর্যন্ত পঞ্চাশজনেরও বেশি মানুষ মারা গেলেন— এর দায় কে নেবে? মনে রাখতে হবে, ঠিক এই প্রশ্ন এর আগেও যে কেউ তোলেনি এমন নয়। বহু ব্যক্তি বহু সংগঠন এই প্রশ্ন তুলেছে। জ্ঞানেশ কুমার অ্যান্ড কোং কোনও উত্তর দেওয়ার প্রয়োজনটুকু বোধ করেননি। গত বছরের শেষ দিনটিতে নাগরিক সংগঠন দেশ বাঁচাও গণমঞ্চের পক্ষ থেকে একটি প্রতিনিধি দল রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের সঙ্গে দেখা করেন। সৌভাগ্যক্রমে সেই প্রতিনিধি দলে আমিও ছিলাম। সেই সাক্ষাৎকারে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিককে ঠিক এই প্রশ্নই করা হয়। উনি আমলাসুলভ অমানবিক মনোভাব প্রকাশ করে বলেন, ওই ব্যক্তিরা যে এসআইআর আতঙ্কে প্রাণ হারিয়েছেন তার প্রমাণ কী? শুনে মনে হচ্ছিল রাজ্যের বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী-সুকান্ত মজুমদারেরা যে কথা বলেন, সেই কথারই পুনরাবৃত্তি করছেন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল। এই আমলাকে বুঝিয়ে ওঠা যায়নি বা উনি নিজেই হয়তো ইচ্ছে করে বুঝতে চাননি যে, এসআইআর-আতঙ্কে যাঁর হৃদরোগে মৃত্যু হচ্ছে, তাঁর ডেথ সার্টিফিকেটটিতে হৃদযন্ত্র বিকল হওয়ার কারণটিই লেখা থাকবে। আসলে বুঝতে পারছেন না বা বুঝতে চাইছেন না এই কারণেই যে, নির্বাচন কমিশন মানবিকতার সঙ্গে বিষয়টি দেখতে নারাজ। তারা দেশের অগণিত মানুষকে নিষ্পেষণের বস্তু মনে করেন। মনে করেন রাষ্ট্রযন্ত্রের জাঁতাকলে ফেলে তাদের ইচ্ছেমতো নিষ্পেষণ করবেন। এককথায় পুরোপুরি স্বৈরতান্ত্রিক মানসিকতা, স্বৈরতান্ত্রিক আচরণ।
নির্বাচন কমিশনের এই অমানবিক কাজের সমর্থনে অবশ্য দাঁড়িয়ে গিয়েছে বিজেপি। বিজেপি নেতা কেন্দ্রের মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার বলেছেন, ভোটের লাইনে যদি দঁড়াতে পারে তা হলে এসআইআরের লাইনে দাঁড়াতে আপত্তি কোথায়? অমানবিক মুখের আর একটি নজির। গাঁটছড়াটা কার সঙ্গে কার বাঁধা এটাও পরিষ্কার হয়ে যায় না কি?
অবশ্য বিভিন্ন মহলে সমালোচনার পর নির্বাচন কমিশন ঘোষণা করেছে, পঁচাশি বছরের ঊর্ধ্বে যাঁদের বয়স, তাঁদের ক্ষেত্রে বাড়িতে গিয়েই শুনানি হবে। প্রশ্ন উঠছে এক্ষেত্রেও। পঁচাশি বছরে পা রাখেননি অথচ প্রবীণ নাগরিক, তাঁদের ডেকে এনে শুনানির লাইনে দাঁড় করিয়ে হেনস্থাই বা করা হবে কোন যুক্তিতে? যদি শুনানির লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে কোনও প্রবীণ ব্যক্তি অসুস্থ হয়ে পড়েন বা কোনও অন্তঃসত্ত্বা অসুস্থ হয়ে পড়েন, তার চিকিৎসার দায় নেবে কে? প্রশ্নটি কিন্তু এমনি এমনি উঠছে না। কারণ এরকম ঘটনা ইতিমধ্যেই ঘটেছে। মনে রাখবেন, প্রধানমন্ত্রীর মর্জিমাফিক নোটবন্দি ঘোষণার পরেও আতঙ্কিত মানুষজন ব্যাঙ্কে লাইন লাগিয়েছিলেন। তাঁদের ভিতর মারাও গিয়েছিলেন অনেকে। না, প্রধানমন্ত্রী বা তাঁর মন্ত্রিসভার কেউ সে জন্য ক্ষমাপ্রার্থনা করেননি। কাজেই মানুষকে আতঙ্কগ্রস্ত করে তার জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলার প্র্যাকটিসটা এই সরকারের বহুদিনের।
প্রশ্ন আরও উঠেছে, এই যে প্রবীণ মানুষগুলি যাঁরা দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন নির্বাচনে ভোট দিয়ে এসেছেন, এমনকী মাত্র দেড় বছর আগে অনুষ্ঠিত লোকসভা নির্বাচনেও যাঁরা ভোট দিয়েছেন, তাঁদের আবার নতুন করে এই হেনস্থা করার কারণ কী? জ্ঞানেশ কুমার অ্যান্ড কোং-এর মর্জিমাফিক কি তাঁদের প্রমাণ করতে হবে, তাঁরা ভারতীয় গণতন্ত্রের অংশীদার, কী নন?
মানুষকে হেনস্থা করার আরও অনেক রকম কল করেছে নির্বাচন কমিশন। বলা হয়েছে, যে পরিবারের সদস্যরা কর্মসূত্রে প্রবাসে থাকেন, তাঁদের শুনানির নোটিশ পাওয়ার পর পাঁচদিনের ভিতর শুনানিতে হাজির থাকতে হবে। যে কোনও সাধারণ বোধবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষই বুঝবেন কোনও মানবিকতা বোধ থাকলে কেউ এই ধরনের নির্দেশিকা জারি করতে পারে না। যে মানুষটি প্রবাসে কর্মসূত্রে রয়েছেন, নির্বাচন কমিশনের খামখেয়ালিপনার শিকার হয়ে রাতারাতি কর্মক্ষেত্র শিকেয় তুলে দিয়ে তাঁর পক্ষে শুনানির লাইনে দাঁড়ানো অসম্ভব। জ্ঞানেশ কুমারের জমানায় নির্বাচন কমিশন সম্পূর্ণ একটি জনবিরোধী অমানবিক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হচ্ছে এসব নির্দেশিকা তারই প্রমাণ।
প্রশ্নটা উঠেছে নির্বাচন কমিশনের কার্যকলাপ নিয়েই। সংবাদে প্রকাশ, রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর থেকে পাঠানো এক মৌখিক নির্দেশকে কেন্দ্র করে সন্দেহ দেখা দিয়েছে। বলা হয়েছে, ওই নির্দেশিকা অনুযায়ী, কোনও ভোটারের ছয় বা তার অধিক সন্তান থাকলে বিএলও-দের খোঁজ নিতে হবে। কারও যদি ছ’টি সন্তান থাকে তার স্বপক্ষে নথি জমা দিতে হবে ভোটারকে। সেই নথি জেলাশাসকের দফতরে পৌঁছনোর পর পরীক্ষা করে দেখে শুনানিতে ডাকা হবে। এই ধরনের নির্দেশিকা যদি দেওয়া হয়ে থাকে, তার কারণ কী? ভোটার তালিকার সংশোধনের সঙ্গে কার ক’টি সন্তান— এই রকম তথ্য সংগ্রহ করার কারণ কী? নাকি ভোটার তালিকা সংশোধনের আড়ালে অন্য কোনও উদ্দেশ্য কাজ করছে নির্বাচন কমিশনের? যে অভিযোগ আগেই উঠেছিল, সেই অভিযোগ সত্য নয়তো? ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে আসলে ঘুরপথে এনআরসি করছেন জ্ঞানেশ কুমার অ্যান্ড কোং, ব্যাপারটা এরকম নয়তো?
তা হলে নির্বাচন কমিশন কী চায়? সত্যিই কি সে একটি স্বচ্ছ ভোটার তালিকা তৈরি করতে চায়? নাকি, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ভোটার তালিকা থেকে এক বিশাল সংখ্যক বৈধ ভোটারের নাম বাদ দিয়ে দেওয়ার গোপন অ্যাজেন্ডা নিয়ে আসরে নেমেছে? এই সংশয় বৈধ ভোটারদের ভিতরও এখন দেখা দিয়েছে। এক বৈধ ভোটার প্রশ্ন তুলেছেন শুনানি কতটা বৈধ তা নিয়েই। তিনি বলেছেন, যে ফর্মে ভোটারকে ডেকে আনা হচ্ছে ডকুমেন্ট জমা দেওয়ার জন্য সেই ফর্মে ভোটার কোন ডকুমেন্ট জমা দিচ্ছেন সেটা নির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করার জায়গা থাকা দরকার ছিল। সেটা নেই কেন? কোন কোন ডকুমেন্ট ইআরও জমা নিচ্ছেন সেটা ভোটারের সামনেই ফর্মে লিখে দেওয়া দরকার ছিল ইআরও-র। সেটা তিনি করছেন না কেন? এই বৈধ ভোটারের আরও অভিযোগ, ভোটারকে দিয়ে ফর্মের পিছনে সই করিয়ে নেওয়ার পর তাকে ছেড়ে দেওয়া হলেও কী কী ডকুমেন্ট তিনি জমা দিলেন তার কোনও প্রাপ্তিস্বীকার করা হচ্ছে না। যাবতীয় প্রমাণ দেওয়া সত্ত্বেও একজন বৈধ ভোটারকে যে বাদ দেওয়া হবে না— এই গ্যারান্টি কোথায়? একদম ন্যায্য প্রশ্ন।
একজন সাধারণ ভোটার নির্বাচন কমিশন সম্পর্কে এই যে সংশয়-সন্দেহ প্রকাশ করেছে, সেটি কমিশন নিজেই অনায়াসে দূর করতে পারত। শুনানির সময় যদি সবকটি রাজনৈতিক দলের বিএলএ-দের শুনানি কক্ষে থাকার অনুমতি দিত নির্বাচন কমিশন, তা হলে তাদের কার্যকলাপ নিয়ে এই সন্দেহ মানুষের মনে জন্ম নিত না। বিএলএ-দের শুনানি কক্ষে থাকতে না দেওয়ার পক্ষে নির্বাচন কমিশনের যুক্তি, সবকটি স্বীকৃত রাজনৈতিক দলের বিএলএ-রা উপস্থিত থাকলে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির সম্ভাবনা দেখা যায়। অথচ, বাড়ি বাড়ি ঘুরে ভোটার তালিকা যাচাইয়ের কাজে সবকটি দলের বিএলএ-রা অংশগ্রহণ করেছিলেন। ভোটের সময়ও সবকটি রাজনৈতিক দলের এজেন্টরা বুথে বসেন। তা হলে শুনানি কক্ষে সবকটি রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের রাখতে নির্বাচন কমিশনের হঠাৎ এত আপত্তি কেন? এরপর কি তারা ভোটের দিন বুথেও রাজনৈতিক দলের এজেন্টদের বসা বন্ধ করার নির্দেশিকা জারি করবেন? শুনানি কক্ষের বন্ধ দরজার ওপারে কী হচ্ছে তা জানার অধিকার প্রতিটি বৈধ ভারতীয় ভোটারের আছে। জ্ঞানেশ কুমার অ্যান্ড কোং-এর এটা বোঝা দরকার যে, কোনও ব্যক্তিবিশেষের মর্জিমাফিক নির্বাচন কমিশন চলবে এটা হতে পারে না। নির্বাচন কমিশনের উদ্দেশ্যটি এতদিনে পরিষ্কার। সাধারণ ভোটারদের ভিতর আতঙ্ক ছড়িয়ে এক বিরাট সংখ্যক ভোটারকে ভোট প্রক্রিয়া থেকে দূরে সরিয়ে রাখতে চায় কমিশন। বদলে শাসকের সুবিধামতো ভোটার বেছে নেওয়ার পথটিই সুগম করতে চায়।
বিজেপি সরকারের জমানায় নির্বাচন কমিশন তার নিরপেক্ষতা এবং বিশ্বাসযোগ্যতা বহুদিন হল হারিয়েছে। এখন নরেন্দ্র মোদি-অমিত শাহের স্নেহধন্য জ্ঞানেশ কুমার দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদটি অলঙ্কৃত করার পর নির্বাচন কমিশনের কফিনটিতে শেষ পেরেকটি ঠুকে দিয়ে যাচ্ছেন। স্বাধীন নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের ভাবনাটিকে গঙ্গাযাত্রা করিয়ে দিয়ে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে পরিচালিত একটি সংস্থায় রূপান্তর করছেন একে। কালের নিয়মেই একদিন জ্ঞানেশ কুমাররা নির্বাচন কমিশনের কুরশি থেকে সরে যাবেন। আর সেদিন ভারতের ইতিহাসে গণতন্ত্র ধ্বংসকারী-গণহত্যাকারী হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবেন তাঁরা। তাঁদের জীবনে এটাই হবে ট্র্যাজেডি।






