দেশ

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে টার্গেট করেছিল জইশ জঙ্গি হামিম, জানাল এসটিএফ

এসটিএফের তদন্তে উঠে এসেছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চরমপন্থী ভাবধারার মগজধোলাইয়ের শিকার হয়েছিল হামিম।

Truth of Bengal: রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে মূল টার্গেট বানিয়েই ছক কষছিল পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মহম্মদ। শনিবার এক বিস্ফোরক সাংবাদিক বৈঠকে রাজ্য পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্সের (এসটিএফ) আইজি গৌরব শর্মা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। ধৃত জইশ জঙ্গি হামিম মণ্ডলের পাক-যোগের তথ্য তুলে ধরে তিনি জানান, মুখ্যমন্ত্রীর দিনভর গতিবিধি ও সুরক্ষার ফাঁকফোকরের ওপর নজর রাখাই ছিল হামিমের প্রধান কাজ। পাকিস্তানি হ্যান্ডলারদের নির্দেশে ও পাকিস্তানের কুখ্যাত ‘শেহজাদ ভাট্টি’ গ্যাংয়ের সক্রিয় সদস্য হিসেবে সে বাংলায় এই বিপজ্জনক নাশকতার ছক বুনেছিল।

এসটিএফের তদন্তে উঠে এসেছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চরমপন্থী ভাবধারার মগজধোলাইয়ের শিকার হয়েছিল হামিম। এনক্রিপটেড কোড ব্যবহার করে ইনস্টাগ্রাম, টেলিগ্রাম ও হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে রানা এবং উজায়েরের মতো পাক হ্যান্ডলারদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখত সে। তার মূল দায়িত্ব ছিল মুখ্যমন্ত্রী কোথায় যাচ্ছেন, তাঁর দৈনিক কর্মসূচির নিরাপত্তা কোথায় শিথিল—সেসব তথ্য সংগ্রহ করে পাক হ্যান্ডলারদের পাঠানো, যাতে নাশকতার একটি সুনির্দিষ্ট ‘ব্লু প্রিন্ট’ তৈরি করা যায়। বর্তমানে তার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ও আর্থিক লেনদেনের উৎস খতিয়ে দেখছে এসটিএফ।

তদন্তকারীদের দাবি, শুধু মুখ্যমন্ত্রীই নন, হামিমের নিশানায় ছিলেন হাওড়া উত্তরের বিধায়ক তথা পুর প্রতিমন্ত্রী উমেশ রাই-ও। তাঁর ছেলেকে ‘হানিট্র্যাপে’ ফেলে অপহরণ এবং একটি বড় ধরনের নাশকতার পরিকল্পনাও করেছিল এই জঙ্গি গোষ্ঠী।

এই ঘটনায় হামিমের পাশাপাশি ঝাড়খণ্ড থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে তার বান্ধবী অর্পিতা সরকারকেও, যার সঙ্গেও পাক হ্যান্ডলারদের সরাসরি যোগাযোগের প্রমাণ মিলেছে। রাজ্যে এই জঙ্গি নেটওয়ার্কের বিস্তার আর কতদূর ছড়িয়েছে, তাঁদের অর্থায়নের উৎস কী এবং এই পরিকল্পনার সঙ্গে অন্য কারা যুক্ত—তা জানতে হামিম ও অর্পিতাকে মুখোমুখি বসিয়ে ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদ চালাচ্ছেন এসটিএফ আধিকারিকরা।

Related Articles