খেলা

সোনা না এলেও জোড়া পদকে ইতিহাস, গ্লাসগোয় আলো ছড়ালেন নীরজ ও যশবীর

২০১৮ সালে সোনা জয়ের পর এই প্রথম কমনওয়েলথ গেমসে নামলেন নীরজ।

Truth of Bengal: গ্লাসগোর স্কটসটাউন স্টেডিয়ামে একসঙ্গে ধরা দিল আনন্দ আর আক্ষেপ। ভারতের জ্যাভলিন শিবিরে ইতিহাস গড়ার উচ্ছ্বাস যেমন ছিল, তেমনই ছিল সোনা হাতছাড়া হওয়ার কষ্ট। কমনওয়েলথ গেমসে পুরুষদের জ্যাভলিনে রুপো জিতলেন নীরজ চোপড়া, আর ব্রোঞ্জ জিতে চমকে দিলেন যশবীর সিং। একই ইভেন্টে ভারতের জোড়া পদক দেশের অ্যাথলেটিক্সে নতুন নজির গড়লেও সবার মনে থেকে গেল নীরজের সোনা না পাওয়ার আক্ষেপ।

২০১৮ সালে সোনা জয়ের পর এই প্রথম কমনওয়েলথ গেমসে নামলেন নীরজ। ৪ বছর আগে চোটের কারণে প্রতিযোগিতায় খেলতে পারেননি তিনি। দীর্ঘ সময় চোটের সঙ্গে লড়াই করে গ্লাসগোয় ফিরেছিলেন ভারতের সোনার ছেলে। তাই এই প্রত্যাবর্তনের মঞ্চ ছিল তাঁর কাছে আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

প্রতিযোগিতার শুরুতে আবহাওয়া কোনওভাবেই জ্যাভলিন ছোড়ার অনুকূলে ছিল না। ঠান্ডা হাওয়া আর কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও আত্মবিশ্বাসী শুরু করেন নীরজ। প্রথম থ্রোয়ে ৮০.৯৭ মিটার ছোড়ার পর দ্বিতীয় প্রচেষ্টায় মরশুমের সেরা ৮৫.৮৩ মিটার নিক্ষেপ করেন। সেই সময় পর্যন্ত তিনিই ছিলেন সোনা জয়ের সবচেয়ে বড় দাবিদার। অনেকের ধারণা ছিল, অলিম্পিক চ্যাম্পিয়ন পাকিস্তানের আরশাদ নাদিমই হবেন নীরজের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী। কিন্তু ফর্মের অভাবে আরশাদ ফাইনালের প্রথম রাউন্ডেই ছিটকে যান। শেষ ৮ জনের লড়াইয়ে জায়গা করে নেন ৩ ভারতীয়— নীরজ চোপড়া, যশবীর সিং এবং রোহিত যাদব। তাতেই পরিষ্কার হয়ে যায়, এই ইভেন্টে ভারতের দাপট কতটা।

তবে নাটকীয় মোড় আসে শ্রীলঙ্কার রুমেশ থরঙ্গা পাথিরাগের হাত ধরে। প্রথম থ্রো ফাউল করার পর দ্বিতীয় প্রচেষ্টাতেই ৮৯.৭৫ মিটার ছুড়ে সবাইকে স্তব্ধ করে দেন তিনি। সেই দুর্দান্ত নিক্ষেপই শেষ পর্যন্ত তাঁকে সোনা এনে দেয়। এরপর আর কোনওভাবেই ওই দূরত্ব স্পর্শ করতে পারেননি নীরজ। শেষ মুহূর্তে বড় চমক দেন যশবীর সিং। নিজের শেষ থ্রোয়ে ব্যক্তিগত সেরা ৮৫.৪১ মিটার নিক্ষেপ করে ব্রোঞ্জ জিতে নেন তিনি। তাঁর এই সাফল্য ভারতের জোড়া পদকের ইতিহাসকে আরও উজ্জ্বল করে তোলে।

প্রতিযোগিতা শেষে নীরজ স্বীকার করেন, প্রতিটি থ্রোয়ের আগে তিনি ভয় পাচ্ছিলেন। চোটের আশঙ্কা মাথায় ঘুরছিল বলেই পুরো গতিতে দৌড়াতে চাননি। শরীরকে নিয়ন্ত্রণে রেখে ছোড়ার চেষ্টা করেছেন। তিনি বলেন, গ্লাসগোর ঠান্ডা আবহাওয়াও সবার জন্য কঠিন ছিল। তাঁর মতে, নিজেরও মাত্র একটি ভাল থ্রো হয়েছে, আর রুমেশ থরঙ্গা পাথিরাগেও একটি দুর্দান্ত থ্রোতেই জয় নিশ্চিত করেছেন।

রুপো জিতে পোডিয়ামে ফিরলেও নীরজ জানিয়ে দিয়েছেন, তাঁর লক্ষ্য এখনও আরও উন্নতি করা। চোট কাটিয়ে ধীরে ধীরে ছন্দে ফিরছেন তিনি। আর সেই লড়াইয়ের মধ্যেই গ্লাসগো সাক্ষী থাকল ভারতের জোড়া পদকের গর্ব আর সোনা হাতছাড়া হওয়ার মিশ্র অনুভূতির।

Related Articles