মতুয়াদের সিএএ সনদ প্রদান অনুষ্ঠানে নাম না করে তৃণমূলের তীব্র সমালোচনা মুখ্যমন্ত্রীর
মতুয়াদের নাগরিকত্ব প্রদানকে কেন্দ্র করে বাংলার রাজনীতি দীর্ঘদিন ধরেই সরগরম।
Truth of Bengal: “নাগরিকত্ব কাড়তে নয়, বরং নাগরিকত্ব দিতেই সিএএ আইন বলবৎ করা হয়েছে”—নিউটাউনের মঞ্চ থেকে ফের একবার এই স্পষ্ট বার্তা দিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শনিবার উত্তর ২৪ পরগনার প্রায় ৩০০ জন মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষের হাতে ভারতের নাগরিকত্বের আনুষ্ঠানিক সার্টিফিকেট তুলে দেন তিনি। এই উপলক্ষে আয়োজিত সভায় বক্তব্য রাখার সময় তিনি আশ্বাস দেন, আগামী দিনে আরও বহু মানুষকে নাগরিকত্বের সনদ প্রদান করা হবে। একই সঙ্গে দেশজুড়ে নাগরিকত্ব পেতে সাধারণ মানুষকে বিন্দুমাত্র আতঙ্কিত না হয়ে নির্ভয়ে এগিয়ে আসার আবেদন জানান তিনি।
মতুয়াদের নাগরিকত্ব প্রদানকে কেন্দ্র করে বাংলার রাজনীতি দীর্ঘদিন ধরেই সরগরম। ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের পূর্বে মতুয়াগড়ে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী প্রথম আশ্বাস দিয়েছিলেন যে, বাংলাদেশ থেকে শরণার্থী হিসেবে আসা মতুয়ারা ভারতে স্থায়ী নাগরিকত্ব পাবেন। কেন্দ্রে মোদী সরকার দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় আসার পর নাগরিকত্ব সংশোধন আইন (সিএএ) পাশ করলেও করোনা অতিমারির কারণে এটি বাস্তবায়নে কিছুটা বিলম্ব ঘটে। পরবর্তীতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বনগাঁর সভা থেকেও সেই প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। নিউটাউনের মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেন, কেন্দ্রের সেই দেওয়া কথা ও দীর্ঘদিনের প্রতিশ্রুতিই আজ বাস্তবে রক্ষিত হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে ভাষণ দিতে গিয়ে রাজ্যের প্রাক্তন শাসকদল ও প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তীব্র সমালোচনা করেন শুভেন্দু অধিকারী। নাম না করে তিনি তোপ দেগে বলেন, বিগত দিনে রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে সাধারণ মানুষ ও মতুয়া সম্প্রদায়কে সিএএ নিয়ে সম্পূর্ণ ভুল বোঝানো হয়েছিল। আন্দোলনের নামে সরকারি সম্পত্তি ধ্বংস, বাস-ট্রেন ও রেলস্টেশনে অগ্নিসংযোগের মতো ঘটনা তুলে ধরে তিনি সেদিনের রাজনৈতিক বিরোধিতার তীব্র নিন্দা করেন। পরিশেষে, রাজ্যে সার্বিক উন্নয়নের পাশাপাশি প্রতিটি উপযুক্ত পরিবার যাতে নাগরিকত্ব পায়, তার জন্য রাজ্য সরকার সবরকম সহযোগিতা বজায় রাখবে বলে জানান তিনি।






