মেহতাব হোসেনকে কি রবীন্দ্রনাথের দেনাপাওনা উপন্যাসের কাদম্বরী হতে হবে?
২০০৫ থেকে ২০১৫ পর্যন্ত জাতীয় দলে ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার হিসেবে একটি নামই উঠে আসতো— মেহতাব হোসেন।
জয়ন্ত চক্রবর্তী: মেহতাব হোসেনকে স্পেশ্যাল ইনটেনসিভ রিভিশন বা এসআইআর-এর শুনানিতে ডেকে পাঠানো হয়েছে। তাই নিয়ে এত হইচই করার কী আছে? এসআইআর শুনানিতে তো ডেকে পাঠানো হচ্ছে ওপাড়ার ওই পঞ্চা তেলি কিংবা মজুমদার-কেও। আমরা কি দেখিনি হাসপাতাল থেকে স্যালাইন আর নাকে নল নল লাগিয়ে মানুষকে নগরিকত্বের প্রমাণ দিতে এসআইআর-এর শুনানিতে হাজির হতে? কিংবা দশমাসের অন্তঃসত্ত্বা রমনীকে শুনানির লাইনে দাঁড়াতে? এসআইআর আতঙ্কে মানুষের আত্মঘাতী হওয়ার ঘটনাও তো আকছারই ঘটছে। কিন্তু, ওপাড়ার ওই পঞ্চা তেলি কিংবা মজুমদাদের থেকে মেহতাব হোসেনের বিষয়টি একটু আলাদা। পঞ্চা তেলি কিংবা মজুমদার কোনওদিন ভারতের হয়ে ফুটবল খেলেননি। মেহতাব খেলেছেন। জাতীয় দলের জার্সি গায়ে দিয়ে যিনি দেশের প্রতিনিধি হিসেবে ঘাম-রক্ত ঝরিয়েছেন, তাঁকে আজকে প্রমাণ দিতে হবে যে তিনি এই দেশের নাগরিক! এর থেকে বড় ফ্যালাসি আর কী হতে পারে!
২০০৫ থেকে ২০১৫ পর্যন্ত জাতীয় দলে ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার হিসেবে একটি নামই উঠে আসতো— মেহতাব হোসেন। ইস্টবেঙ্গলের হয়ে দশ বছর খেলেছেন তিনি। মোহনবাগানের হয়ে পাঁচটি সিজন। আজ যদি মেহতাব তাঁর নিউটাউনের ফ্ল্যাটে বসে ভাবেন যে দশ বছর ধরে ভারতের হয়ে খেলার পর এই পুরস্কার কি আমার প্রাপ্য ছিল! তা হলে কি আপনারা দোষ দিতে পারবেন এই ডিফেন্সেভ মিডফিল্ডারকে? জানা গেছে, মেহতাব হোসেনকে তার সাবেক বাসভূমি বারুইপুরে ডেকে পাঠানো হয়েছে মায়ের দিকের কাগজে কিছু তথ্যের মিসম্যাচের জন্য। কিন্তু, নির্বাচন কমিশনের কাছে আমাদের প্রশ্ন, শুনানিতে ডাকার আগে ন্যূনতম হোমওয়ার্ক করার প্রয়োজনীয়তা কি নেই? দেশের হয়ে দশ বছর যিনি ফুটবল খেলেছেন তাঁকে কি নাগরিকত্বের প্রমাণ দেওয়ার জন্য আবার ডাকা যায়? আপনি জানতে নাই পারেন যে মেহতাব হোসেন কে? আপনাকে জানার জন্যে কেউ মাথার দোহাইও দিচ্ছে না। আপনাকে মেহতাব সম্পর্কে জানতেই হবে— এমন বলা উন্মাদও আমরা কেউ নই। কিন্তু, গুগল বাবা তো আপনার সঙ্গেই আছে, কাকে ডাকছেন, কেন ডাকছেন তা একবার পরীক্ষা করে নেবেন না? হিন্দু মেয়ে মৌমিতাকে বিয়ে করেছে মেহতাব। নিয়ম করে দুর্গাপুজো হয় নিউটাউনের বাড়িতে। এই মেহতাবকে নাগরিকত্বের প্রমাণ দিতে হবে?
মেহতাব একটি ব্যাপারেই সান্ত্বনা পেতে পারেন। মহম্মদ শামি আর লক্ষ্মীরতন শুক্লাকেও কমিশন ডেকে পাঠিয়েছে শুনানিতে। শামি ভারতের হয়ে ক্রিকেট খেলেছেন না? আর লক্ষীরতন ক’দিন আগে রাজ্যের উপক্রীড়ামন্ত্রী ছিলেন না?


