খেলা

অবসর নিয়ে গুঞ্জনের মাঝেই অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের ফাইনালে জোকোভিচ

আগের রাউন্ডে ইতালির লরেঞ্জো মুসেত্তির চোটের কারণে কিছুটা সুবিধা পেলেও, সিনারের বিরুদ্ধে এই জয়কে নিজের মানসিক দৃঢ়তা ও অভিজ্ঞতার ফল বলেই মনে করছেন তিনি।

Truth Of Bengal: অবসরের জল্পনা উড়িয়ে দিয়ে আরও একবার নিজের শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ দিলেন নোভাক জোকোভিচ। অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের সেমিফাইনালে পাঁচ সেটের ম্যারাথন লড়াইয়ে ইতালির জানিক সিনারকে হারিয়ে ফাইনালে পৌঁছেছেন সার্বিয়ান তারকা। শনিবার মেলবোর্নে ৫ ঘণ্টা ৩০ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে ৩-৬, ৬-৩, ৪-৬, ৪-৬, ৬-৪ গেমে জয় ছিনিয়ে নেন ৩৮ বছর বয়সি জোকোভিচ।এই জয়ের সঙ্গে সঙ্গেই রেকর্ড ২৫তম গ্র্যান্ড স্ল্যাম জয়ের থেকে মাত্র এক ধাপ দূরে পৌঁছে গেছেন তিনি। তবে ম্যাচের থেকেও বেশি আলোচনায় এসেছে জোকোভিচের সাংবাদিক সম্মেলনের বক্তব্য। তাঁকে ঘিরে চলা অবসরের জল্পনা এবং সমালোচকদের উদ্দেশে কড়া বার্তা দেন জোকার।

জোকোভিচ বলেন, আমি কখনও নিজের উপর বিশ্বাস হারাইনি। ইদানীং হঠাৎ করেই অনেক বিশেষজ্ঞ তৈরি হয়েছেন, যাঁরা গত কয়েক বছর ধরে আমাকে বার বার অবসরে পাঠাতে চেয়েছেন। তাঁদের সবাইকে ধন্যবাদ জানাতে চাই। কারণ, তাঁরাই আমাকে আরও শক্তিশালী করেছেন। তাঁদের ভুল প্রমাণ করার তাগিদ থেকেই আমি অনুপ্রেরণা পাই।ফাইনালে ওঠার পথ মোটেও সহজ ছিল না বলেই স্বীকার করেন জোকোভিচ। আগের রাউন্ডে ইতালির লরেঞ্জো মুসেত্তির চোটের কারণে কিছুটা সুবিধা পেলেও, সিনারের বিরুদ্ধে এই জয়কে নিজের মানসিক দৃঢ়তা ও অভিজ্ঞতার ফল বলেই মনে করছেন তিনি।জোকোভিচের কথায়,কেরিয়ারের বিভিন্ন সময়ে গ্র্যান্ড স্ল্যামে এমন ম্যাচ খেলেছি, যেখানে নিজের সেরা ছন্দে ছিলাম না। তবুও জেতার রাস্তা খুঁজে নিতে হয়েছে। আজকের ম্যাচটাও তেমনই ছিল।

উল্লেখ্য, এই ম্যাচের আগে টানা পাঁচ বার জোকোভিচকে হারিয়েছিলেন সিনার। ফলে অনেকেই ধরে নিয়েছিলেন যে টেনিসের মুকুট এবার তরুণ প্রজন্ম—সিনার বা কার্লোস আলকারাজ়ের হাতে চলে গেছে। কিন্তু সেমিফাইনালের এই জয় সেই ধারণাকে আপাতত ভুল প্রমাণ করল। সিনারের মতো উচ্চমানের প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা কতটা কঠিন, সেটাও তুলে ধরেন জোকোভিচ। তিনি বলেন, পরিকল্পনা করা এক বিষয়, আর সিনারের মতো খেলোয়াড়ের বিরুদ্ধে সেটা কাজে লাগানো সম্পূর্ণ আলাদা চ্যালেঞ্জ।অবসরের জল্পনা, বয়স নিয়ে প্রশ্ন কিংবা ভবিষ্যৎ নিয়ে সংশয়—সব কিছুর জবাব কোর্টেই দিয়েছেন জোকোভিচ। এখন নজর শুধু ফাইনালের দিকে, যেখানে ইতিহাস গড়ার হাতছানি তাঁর সামনে।

Related Articles