জেআইএস এর উদ্যোগে ‘জীবাণু-প্রতিরোধ ক্ষমতা অর্জন’ বিষয়ক আলোচনা
এই পদ্ধতির অংশ হিসেবে কলকাতা ও হাওড়ার প্রায় ১,৩০০ জন স্নাতক ও স্নাতকোত্তর স্তরের অ-চিকিৎসা বিজ্ঞানের (নন মেডিকেল) শিক্ষার্থীর ওপর একটি বিস্তারিত সমীক্ষা চালানো হয়।
রাহুল চট্টোপাধ্যায়: জেআইএস আইএএসআর এবং আইসিএমআর – এনআইআরবি আই-এর যৌথ উদ্যোগে ‘অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স এবং স্টুয়ার্ডশিপ’ বিষয়ক সম্মেল আয়োজিত হলো।জেআইএস ইনস্টিটিউট অফ অ্যাডভান্স স্টাডিজ এন্ড রিসার্চ (জেআইএসআইএ এসআর)-এর একটি উদ্যোগ—সেন্টার ফর হেলথ সাইন্স এন্ড টেকনোলজি —আই সি এম আর- ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর রিসার্চ ইন ব্যাকটেরিয়াল ইনফেকশন্স ( আইসিএমআর – এনআইআরবিআই)-এর সহযোগিতায় হাওড়ার সাঁতরাগাছিতে অবস্থিত জে আইএস আইএএসআর ক্যাম্পাসে সফলভাবে এন্টি মাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স এন্ড স্টুয়ার্ডসিপ ‘-(আরক্ষা) সম্মেলনের আয়োজন করে। এই সম্মেলনে একটি অনন্য ও জন-অংশগ্রহণমূলক পদ্ধতির মাধ্যমে ‘অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স’ -এর ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা করা হয়। এই পদ্ধতির অংশ হিসেবে কলকাতা ও হাওড়ার প্রায় ১,৩০০ জন স্নাতক ও স্নাতকোত্তর স্তরের অ-চিকিৎসা বিজ্ঞানের (নন মেডিকেল) শিক্ষার্থীর ওপর একটি বিস্তারিত সমীক্ষা চালানো হয়। এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য ছিল জনস্তরে সচেতনতা বৃদ্ধি করা এবং অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল স্টুয়ার্ডশিপ বা ওষুধের দায়িত্বশীল ব্যবহারের সংস্কৃতিকে উৎসাহিত করা। আশা করা হচ্ছে, এই সমীক্ষার ফলাফল কলকাতা ও তার পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল স্টুয়ার্ডশিপের বর্তমান পরিস্থিতি বিশ্লেষণের ওপর ভিত্তি করে একটি আদর্শ ‘হোয়াইট পেপার’ বা নীতি-দলিল প্রণয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।
এই সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন আই সি এম আর , নয়াদিল্লির ‘অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স ডিভিশন’-এর ‘সায়েন্টিস্ট জি’ ও বিভাগীয় প্রধান ড. কামিনী ওয়ালিয়া, জেআইএসআইএএসআর এর অধিকর্তা পদ্মশ্রী অধ্যাপক অজয় কুমার রায়,অধ্যাপক রুখসানা চৌধুরী, আই সি এম আর- এন আই আর বি আই-এর ‘সায়েন্টিস্ট জি’ ড. আশিস কুমার মুখোপাধ্যায়, কলকাতা মেডিকেল কলেজের ড. অরুণাংশু তালুকদার,আই পি জিএমইআর ও কোয়াড্রা মেডিকেল সার্ভিসেস প্রাইভেট লিমিটেড এর ড. কুমকুম ভট্টাচার্য, মনিপাল হসপিটালস্ এর ডাঃ দীপঙ্কর সরকার, জেআইএস স্কুল অফ মেডিকেল সায়েন্স এন্ড রিসার্চ -এর অধ্যক্ষ ডাঃ মঞ্জুশ্রী রায়,ড. রাজার্ষি মুখোপাধ্যায়, ড. সন্দীপ পাল,ড. প্রমিত ঘোষ, ড. দেবজিৎ চক্রবর্তী,। এই সমগ্র উদ্যোগটি তিনটি ধাপে সম্পন্ন হয়—যার মধ্যে ছিল পরিচিতিমূলক বা ‘ওরিয়েন্টেশন’ অধিবেশন, আই সি এম আর-অনুমোদিত প্রশ্নাবলির মাধ্যমে জনস্তরে সমীক্ষা পরিচালনা এবং সবশেষে মূল আলোচনা সভা বা ‘সিম্পোজিয়াম’। লেডি ব্র্যাবোর্ন কলেজ, স্কটিশ চার্চ কলেজ, বিজয়গড় কলেজ, অ্যাডামাস ইউনিভার্সিটি , জেআই এস আইএএসআর-এর শিক্ষার্থীরা এই সার্টিফিকেট প্রোগ্রামে অংশগ্রহণ করে অনুষ্ঠানের চলাকালীন তাদের সমীক্ষার ফলাফল উপস্থাপন করে। তারা (অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স) সচেতনতামূলক ‘রিল’ প্রদর্শন করে এবং একটি এএমআর কুইজ প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়। এই সিম্পোজিয়ামের একটি অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ছিল ‘ভারতে কমিউনিটি-স্তরে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবস্থাপনার অগ্রগতি: করণীয় পদক্ষেপসমূহ’ -শীর্ষক একটি প্যানেল আলোচনা।যার মূল লক্ষ্য ছিল অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবস্থাপনার উদ্যোগগুলোকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে কার্যকর কর্মপন্থাগুলো চিহ্নিত করা।
এই কর্মসূচিটি ভারত সরকারের সাইন্টিফিক সোশ্যাল রেসপন্সিবিলিটি (এস এস আর) – অনুসন্ধান ন্যাশনাল রিসার্চ ফাউন্ডেশন(এএনআরএফ)’-এর পাশাপাশি ‘ জেআইএস গ্রুপ এডুকেশনাল ইনিসিয়েটিভ-এর সহায়তায় পরিচালিত হয়।
এই অনুষ্ঠান প্রসঙ্গে জেআই এস গ্রুপের পরিচালক সর্দার সীমারপ্রীত সিং বলেন, ‘অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স বা জীবাণু-প্রতিরোধ ক্ষমতা অর্জন আমাদের বর্তমান সময়ের অন্যতম বৃহত্তম জনস্বাস্থ্য চ্যালেঞ্জ। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কমিউনিটি বা সমাজ-স্তরে সম্মিলিত সচেতনতা এবং দায়িত্বশীল পদক্ষেপ গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি। ‘আরক্ষা’-এর মাধ্যমে আমরা তরুণ প্রজন্মকে জ্ঞান, গবেষণার অভিজ্ঞতা এবং ব্যবহারিক অংশগ্রহণের সুযোগ দিয়ে ক্ষমতায়িত করতে চাই, যাতে তারা ভবিষ্যতে অ্যান্টিবায়োটিকের দায়িত্বশীল ব্যবহারের পক্ষে সোচ্চার প্রবক্তা হয়ে উঠতে পারে। এ ধরনের উদ্যোগগুলো অর্থবহ ও প্রভাববিস্তারী শিক্ষাগত সহযোগিতার ক্ষেত্র তৈরি এবং জাতীয় স্বাস্থ্য অগ্রাধিকারগুলোর বাস্তবায়নে অবদান রাখার বিষয়ে আমাদের অঙ্গীকারকেই প্রতিফলিত করে’।





