আমেরিকার বাজারে ভারতীয় পণ্যের জয়জয়কার! কর কমাল বাইডেন প্রশাসন, বড় ঘোষণা পীযূষ গয়ালের
বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পণ্যের ওপর শুল্ক একদম শূন্য করে দেওয়া হয়েছে।
Truth of Bengal: ভারত ও আমেরিকার মধ্যে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে শনিবার বড় ঘোষণা করলেন কেন্দ্রীয় বাণিজ্য মন্ত্রী পীযূষ গয়াল। এই নতুন চুক্তির ফলে দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্কে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে চলেছে। মন্ত্রী জানিয়েছেন, ভারতের ওপর আগে আরোপিত ৫০ শতাংশ রেসিপ্রোক্যাল ট্যারিফ কমিয়ে এখন ১৮ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়েছে। এর পাশাপাশি অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ করও সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। বাণিজ্যমন্ত্রীর দাবি অনুযায়ী, অন্যান্য প্রতিযোগী দেশগুলোর তুলনায় ভারতের জন্য এই ট্যারিফ রেট অনেকটাই সুবিধাজনক। বর্তমানে চিনা পণ্যের ওপর ৩৫ শতাংশ, ভিয়েতনাম ও বাংলাদেশের ওপর ২০ শতাংশ এবং ইন্দোনেশিয়ার পণ্যের ওপর ১৯ শতাংশ ট্যারিফ ধার্য রয়েছে। সেই তুলনায় ভারতের জন্য ১৮ শতাংশ কর যথেষ্ট ইতিবাচক। শুধু তাই নয়, বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পণ্যের ওপর শুল্ক একদম শূন্য করে দেওয়া হয়েছে।
শুল্কমুক্ত বা জিরো ট্যারিফ সুবিধার আওতায় থাকা পণ্যগুলোর একটি তালিকাও প্রকাশ করেছেন মন্ত্রী। এখন থেকে ভারত থেকে মূল্যবান রত্ন, হিরে, চা, কফি, কাজু, নারকেল ও নারকেল তেল এবং বিভিন্ন ধরনের ফল ও মশলা আমেরিকায় রপ্তানি করতে কোনো কর দিতে হবে না। এছাড়া অটো পার্টস, বিমানের যন্ত্রাংশ, ঘড়ি এবং এসেন্সিয়াল অয়েলের মতো পণ্যগুলোও শুল্কমুক্ত রপ্তানির সুবিধা পাবে। একইভাবে স্মার্টফোন এবং ফার্মাসিউটিক্যাল পণ্যের ওপর কোনো শুল্ক চাপানো হচ্ছে না।তবে দেশের অভ্যন্তরীণ বাজার এবং কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করেছে সরকার। যেসব পণ্যের ক্ষেত্রে ভারত বর্তমানে আত্মনির্ভর, সেগুলোকে এই চুক্তির আওতার বাইরে রাখা হয়েছে। মাংস, দুগ্ধজাত দ্রব্য, পোলট্রি, সয়াবিন, গম, চিনি এবং মিলেটের মতো পণ্যে কোনো ছাড় দেওয়া হয়নি; এগুলোর ওপর ১৮ শতাংশ কর বহাল থাকবে। এছাড়া গ্রিন টি, কাবুলি চানা, মুগ ডাল, তৈলবীজ এবং ইথানলের মতো পণ্যেও শুল্ক ছাড় পাওয়া যাবে না। বেশ কিছু বিদেশি ফল যেমন স্ট্রবেরি, অ্যাভোকাডো বা কিউই-র ক্ষেত্রেও করছাড় প্রযোজ্য হচ্ছে না।
পীযূষ গয়ালের মতে, আমেরিকার সঙ্গে এই ৫০০ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য চুক্তির ফলে ভারতের অর্থনীতি শক্তিশালী হবে এবং বিশেষত কৃষি ও ডেয়ারি শিল্পের প্রভূত উন্নতি ঘটবে। দুই দেশের স্বার্থরক্ষা করে আগামীদিনেও এই আলোচনা জারি থাকবে বলে তিনি আশাপ্রকাশ করেছেন। সরকারের দাবি, এই চুক্তির মাধ্যমে বিশ্ববাজারে ভারতীয় পণ্য আরও প্রতিযোগিতামূলক হয়ে উঠবে এবং দেশের সামগ্রিক আর্থিক সমৃদ্ধি ত্বরান্বিত হবে।






