সংসারে অভাব থাকলেও মেধায় নয়, চাষীর মেয়ে আজ মস্ত বড় অফিসার
Although there is a shortage in the family, but not in talent, the farmer's daughter is a great officer today

The Truth Of Bengal : পেটে ভাতের অভাব থাকলেও পড়াশোনাতে কোনদিনও ইচ্ছা শক্তির অভাব ঘটেনি মুর্শিদাবাদের ভূমি কন্যার। দারিদ্র্যতা থাকলেও লড়াই করে নিজের লক্ষ্যে পৌঁছানো যায় তা আবার প্রমাণ করে দেখালেন প্রত্যন্ত গরীব বাড়ির মেয়ে। শুধুমাত্র নিজের প্রচেষ্টায় বিশ্বের অন্যতম কঠিন পরীক্ষা অর্থাৎ WBCS পরীক্ষায় জেনারেল ক্যাটাগরি তে ২৭তম স্থান অধিকার করেছেন এই মেধাবী ছাত্রী।
মুর্শিদাবাদ জেলার প্রত্যন্ত গ্রাম দৌলতবাদে ছোটবেলা থেকেই বাস রোকাইয়া সুলতানার। বাবা রুহুল হোসেন এবং মা আরজুমা খাতুন। বাবার ছিলেন পেশায় একজন চাষী। দুবেলা দুমুঠো খাওয়ার জোটাতে দিনরাত কঠোর পরিশ্রম করতেন বাবা-মা দুজনেই। অত্যন্ত দরিদ্র পরিবারের মেয়ে রোকাইয়া, প্রথম শ্রেণী থেকে চতুর্থ শ্রেণী পর্যন্ত স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয় কোনরকম তার পড়াশোনা চালিয়ে গিয়েছিলেন। এরপর পঞ্চম থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যন্ত বহরমপুরে মহারানী গার্লস হাই স্কুলে পড়াশোনা করেন তিনি। বাবা রুহুল হোসেন দিনরাত অক্লান্ত পরিশ্রম করে মেয়ের পড়াশোনার খরচ চালাতেন। এরপর অনেক কষ্টে মেয়েকে ভর্তি করেন বহরমপুর কে এন কলেজে। সেখান থেকেই কেমিস্ট্রি অনার্স এবং পরবর্তীকালে কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার ডিগ্রি সম্পন্ন করেন রোকাইয়া। মাস্টার ডিগ্রী পূরণের পর WBCS এর পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি শুরু করেন। প্রথমে কোনরকম ভাবে কষ্ট করে টাকা ম্যানেজ করে একটি কোচিং সেন্টারে ভর্তি হন তিনি। কিন্তু ভাগ্যের এমনই পরিহাস পাঁচ মাস পর করো না মহামারী কালে কোচিনবদ্ধ হয়ে যায় অপরদিকে আর্থিক অনটনের কারণে অবশেষে তাকে কোচিং ছেড়ে দিতে হয়।। যার কারনে বাড়িতেই শুরু করেন WBCS পরীক্ষার পূর্ব প্রস্তুতি। কিন্তু কন্যাদায়গ্রস্ত পিতার দ্বারা আর সম্ভব হয়নি মেয়ের পড়াশোনার খরচ চালানোর। তাই বিবাহযোগ্যা মেয়ের বিয়ের ব্যবস্থা করেন পিতা। রোকাইয়া সুলতানার বিয়ের পর প্রথম বছর তিনি WBCS পরীক্ষায় বসতে ব্যর্থ হন। পরবর্তীকালে হার না মেনে সংসার এবং পড়াশোনা দুটোই সামলে ২০২১ সালে WBCS দেন। তাতেই আসে সাফল্য। এরপর ২০২৩ সালে মেন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন তিনি। একজন চাষির মেয়ে হয়ে রোকাইয়ার এহেন সাফল্য জানা জানি হতেই এলাকায় কার্যত আনন্দের বাতাবরণের সৃষ্টি হয়।
মেয়ের সাফল্যে আনন্দে চোখে অশ্রুধারা নেমে আসে পরিবারের সদস্যদের। এরপর খুব দ্রুত ট্রেনিং শেষ করে BDO পদে বসেন রোকাইয়া সুলতানা। জেলার মেয়ের এ্যানো সাফল্যে অত্যন্ত গর্বিত গোটা মুর্শিদাবাদ। রোকাইয়া জানায়, ” করোনার সময় কিছুটা ধাক্কা খেয়েছিলাম পড়াশোনার ক্ষেত্রে। আমার তখন কোচিংয়ে পড়া বন্ধ হয়ে যায়। চিন্তায় পড়ে গিয়েছিলাম যে এবার কি করব। কিন্তু তার আগে যা যা পড়েছিলাম, সেগুলো নিয়েই আর নিজে থেকে বাড়িতে পড়া শুরু করি। সাফল্য আসবে আশা ছিল, তবে ২৭ তম র্যাঙ্ক হবে, এতটা ভাবিনি।”
এরপর মেয়ের সাফল্যে গর্বিত হয়ে মা আরজুমা খাতুন জানান, ” আমাদের পরিবার অনেক গরীব পরিবার। তা সত্ত্বেও যে নিজের ইচ্ছেতে পড়াশোনা চালিয়ে গিয়েছে আমার মেয়ে, তাতে আমরা খুশি। আজ সে একজন সরকারি আধিকারিক। খুব আনন্দ হচ্ছে।”






