বয়স ও প্রতিবন্ধকতাকে বুড়ো আঙুল! ৪০ বছরে এসে দেশের কঠিনতম পরীক্ষা জয় এই গৃহবধূর
তাঁর এই জয় প্রমাণ করে, স্বপ্নের পেছনে ছোটার জন্য কোনো নির্দিষ্ট বয়স লাগে না।
Truth of Bengal: কঠোর পরিশ্রম, অদম্য ইচ্ছা আর দৃঢ় সংকল্পের সামনে বয়স কিংবা শারীরিক প্রতিবন্ধকতা যে কোনো বাধাই নয়, তা আরও একবার প্রমাণ করে দেখালেন নিসা উন্নিরাজন (IAS Nisa Unnirajan)। ৪০ বছর বয়সে এসে দেশের কঠিনতম পরীক্ষা ইউপিএসসি (UPSC) পাস করে তিনি এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। কেরালার বাসিন্দা নিসা অসংখ্য সামাজিক ও শারীরিক প্রতিকূলতাকে পেছনে ফেলে ২০২৪ সালের সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় নিজের সপ্তম চেষ্টায় সর্বভারতীয় স্তরে ১০০০তম স্থান অর্জন করেন। তাঁর এই জয় প্রমাণ করে, স্বপ্নের পেছনে ছোটার জন্য কোনো নির্দিষ্ট বয়স লাগে না।
যে বয়সে অধিকাংশ মানুষ নিজেদের কর্মজীবনে সুপ্রতিষ্ঠিত হয়ে অবসর জীবনের কথা ভাবতে শুরু করেন, ঠিক ৩৫ বছর বয়সে এসে সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার প্রস্তুতি শুরু করেছিলেন নিসা। দুই ছোট সন্তান— নন্দনা (১১) ও থানভি (৭)-কে সামলানো, পেশায় সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার স্বামী অরুণের পাশে থাকা এবং বয়স্ক শ্বশুর-শাশুড়ির দেখাশোনা— সব সামলেই তিনি চালিয়ে গিয়েছেন পড়াশোনা। উপরন্তু, নিসার একটি বড় শারীরিক সীমাবদ্ধতা ছিল, তিনি শ্রবণ প্রতিবন্ধী। কানে ঠিকমতো শুনতে না পাওয়া সত্ত্বেও পরিবার ও সংসারের দায়িত্ব পালন করে তিনি ইউপিএসসির প্রস্তুতি চালিয়ে গিয়েছেন।
নিসার এই সাফল্যের পেছনে ছিল বারবার ব্যর্থ হয়েও ঘুরে দাঁড়ানোর এক অদম্য মানসিকতা। পরপর ছয়বার ব্যর্থ হলেও তিনি কখনো আশা হারাননি; বরং প্রতিটি ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে নিজের প্রস্তুতির কৌশল পরিবর্তন করেছেন। প্রস্তুতি নিতে তিনি তিরুবনন্তপুরমের একটি বেসরকারি কোচিং সেন্টারের সাহায্য নেন। পাশাপাশি কোট্টায়মের তৎকালীন সাব-কালেক্টর রঞ্জিত— যিনি নিজেও একজন শ্রবণ প্রতিবন্ধী অফিসার ছিলেন— তাঁর কাছ থেকেই মূল অনুপ্রেরণা খুঁজে পান নিসা। রঞ্জিতের সাফল্য দেখে নিজের ওপর বিশ্বাস আরও দৃঢ় হয় নিসার।
উল্লেখ্য, ইউপিএসসি নিয়মানুসারে প্রতিবন্ধী (PwBD) প্রার্থীদের জন্য বয়সসীমায় বিশেষ ছাড় দেওয়া হয়। সাধারণ, ওবিসি এবং ইডব্লিউএস বিভাগের দৃষ্টি বা শ্রবণ প্রতিবন্ধী প্রার্থীরা ৪২ বছর বয়স পর্যন্ত মোট ৯ বার এই পরীক্ষায় বসতে পারেন (যেখানে এসসি/এসটি প্রার্থীদের ক্ষেত্রে বয়সের মধ্যে সর্বোচ্চ বার চেষ্টা করার সুযোগ থাকে)। সরকারি এই সুযোগকে পূর্ণ সদ্ব্যবহার করে নিজের অধ্যাবসায় ও লড়াইয়ের জোরে নিসা আজ হাজারো স্বপ্নদর্শীর কাছে এক অনুপ্রেরণার প্রতীক।






