পরীক্ষা বাতিলের ধাক্কা সামলে বাজিমাত! দিনে ৬-৭ ঘণ্টা পড়েই নিট-এ দেশসেরাদের তালিকায় হরিয়ানার যুবক
সংবাদমাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পন্শুল জানান, পরীক্ষা শেষে এনটিএ-র ওএমআর শিট প্রকাশের পরই তিনি নিজের উত্তর মিলিয়ে হিসেব কষে বুঝেছিলেন যে ৭১৫ নম্বর পেতে চলেছেন।
Truth of Bengal: দেশের মেডিক্যাল স্নাতক স্তরে ভর্তির যোগ্যতা নির্ণায়ক প্রবেশিকা পরীক্ষা ‘নিট ইউজি’ (NEET UG)-র চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করেছে ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (NTA)। এবারের পরীক্ষায় সর্বোচ্চ ৭১৫ নম্বর পেয়ে নজর কেড়েছেন পঞ্জাবের আরিয়ান গুপ্ত এবং হরিয়ানার পন্শুল বনসল। ফলাফল প্রকাশের পর থেকেই দেশজুড়ে আলোচনা শুরু হয়েছে এই দুই কৃতীকে নিয়ে। তবে প্রথম দশে নিজের নাম থাকা নিয়ে আগে থেকেই সম্পূর্ণ নিশ্চিত ছিলেন হরিয়ানার যুবক পন্শুল।
সংবাদমাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পন্শুল জানান, পরীক্ষা শেষে এনটিএ-র ওএমআর শিট (OMR Sheet) প্রকাশের পরই তিনি নিজের উত্তর মিলিয়ে হিসেব কষে বুঝেছিলেন যে ৭১৫ নম্বর পেতে চলেছেন। তাঁর কথায়, “ফলাফল বেরোনোর পর প্রথমটায় খুব বেশি উত্তেজিত হয়ে পড়িনি, কারণ এই নম্বর আমি আগে থেকেই আশা করছিলাম। প্রথম দশের মধ্যে অল ইন্ডিয়া র্যাঙ্ক যে পাকা, তা জানাই ছিল। তবে অবাক হয়েছিলাম এটা দেখে যে, এবার কেউ এর চেয়ে বেশি নম্বর পায়নি! ফলে আমার অল ইন্ডিয়া র্যাঙ্ক ২ এসে গেল। এটা সত্যিই আমার কাছে একটা বড় চমক ছিল।”
উল্লেখ্য, আরিয়ান ও পন্শুল দুজনেই পরীক্ষায় সমসংখ্যক (৭১৫) নম্বর পেলেও এনটিএ-র নিজস্ব ‘টাই-ব্রেকিং’ নিয়মের জেরে আরিয়ান প্রথম স্থান অর্থাৎ অল ইন্ডিয়া র্যাঙ্ক (AIR) ১ পান এবং পন্শুল হন এআইআর (AIR) ২। এ নিয়ে অবশ্য পন্শুলের মনে কোনও আক্ষেপ বা ক্ষোভ নেই। তিনি অত্যন্ত পরিণত মানসিকতার পরিচয় দিয়ে বলেন, “দ্বিতীয় হওয়া আর প্রথম হওয়া আসলে একই ব্যাপার, আমার কাছে এর তফাৎ খুব একটা নেই।” একইসঙ্গে তিনি যোগ করেন, তাঁর একটি প্রশ্নের উত্তরে নম্বর কাটা গিয়েছে। তবে তাঁর এখনও ধারণা তিনি সঠিক উত্তরই লিখে এসেছেন। যদি ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি তাঁর যুক্তি মেনে নিত, তা হলে পূর্ণাঙ্গ ৭২০ নম্বরই আসত তাঁর ঝুলিতে।
ডাক্তারির কঠিন প্রস্তুতির পাশাপাশি দ্বাদশ শ্রেণির বোর্ড পরীক্ষাতেও ৯৪ শতাংশ নম্বর পেয়ে বাজিমাত করেছেন পন্শুল। জোড়া পড়াশোনা একসঙ্গে সামলানোর রণকৌশল নিয়ে তিনি জানান, ফিজিক্স, কেমিস্ট্রি ও বায়োলজির ক্ষেত্রে নিটের পড়াশোনাতেই বোর্ডের প্রস্তুতি সম্পূর্ণ হয়ে গিয়েছিল। বোর্ডের জন্য তাঁকে মূলত ইংরেজি এবং ফিজিক্যাল এডুকেশন— এই বিষয় দুটির ওপর আলাদাভাবে জোর দিতে হয়েছিল। এমনকি ছুটির দিনগুলিতে তিনি ফিজিক্যাল এডুকেশনের প্র্যাক্টিক্যাল ফাইল তৈরির কাজ আগেভাগেই সেরে রাখতেন যাতে মূল পড়াশোনায় কোনও ব্যাঘাত না ঘটে।
চলতি বছরে নিট পরীক্ষা ঘিরে দেশজুড়ে যে তীব্র ডামাডোল এবং বিতর্ক তৈরি হয়েছিল, তার আঁচ পড়েছিল পন্শুলের ওপরেও। প্রথমবার নিট দেওয়া এই যুবক জানান, “শুরুতে পরীক্ষা বাতিলের খবর শুনে মানসিকভাবে একটু ভেঙে পড়েছিলাম। তবে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই নিজেকে সামলে নিই এবং নতুন করে পড়াশোনা শুরু করে দিই। যেন একটা স্বাভাবিক নিট পরীক্ষার জন্যই ফের প্রস্তুতি নিচ্ছি, এটাই মাথায় বসিয়ে নিয়েছিলাম।” কোনও রকম অতিরিক্ত চাপ না নিয়ে দিনে মাত্র ৬ থেকে ৭ ঘণ্টা পড়াশোনা করেই এই অভাবনীয় সাফল্য ছিনিয়ে এনেছেন হরিয়ানার এই কৃতী সন্তান।


