
The Truth of Bengal: লাল পলাশের দেশ পুরুলিয়া। পুরুলিয়ায় না জানি কত কি আছে! পাহাড়, ঝর্না, জঙ্গল, মন্দির সব কিছুই আপনি এই একটি জায়গায় এসেই পেয়ে যাবেন। ভ্রমনপিপাসুদের কাছে ভ্রমণের ক্ষেত্রে কম খরচে পুষ্টিকর ডেসটিনেশন পুরুলিয়া। পুরুলিয়ার মূল আকর্ষণ অযোধ্যা পাহাড় হলেও এই অঞ্চলে রয়েছে একাধিক জলাধার। অযোধ্যা পাহাড়ের পাদদেশেও রয়েছে একটি সুবিশাল জলাধার। যেখানে গেলে আপনি সপ্তাহান্তের ছুটিতে গিয়ে পেয়ে যাবেন দু দণ্ড শান্তি। সেই জায়গার নাম হল মুরগুমা ড্যাম। উঁচু থেকে জলের দিকে তাকালে আপনার ভয় ও লাগতে পারে। গভীর এই জলাধার দেখে ভয় করলেও এখানে প্রকৃতির যে শোভা টুকু আপনি পাবেন তা আর কোথাও গিয়ে পাবেন কিনা সন্দেহ।
এই জলধারার জলরাশির উচ্ছ্বাস আপনাকে মুগ্ধ করবে। আকাশে সূর্যের স্নিগ্ধ আলোর মোহ যখন এসে পড়বে এই জলাধারে তখন সেই দৃশ্য হয়ে ওঠে দেখার মতন। সবুজের বুক চিরে পাহাড়ের পাদদেশে এই জলাধারে আপনি চাইলে নিজের প্রেমিক বা প্রেমিকার পাশে বসে কিছুক্ষণের জন্য জলে পা ডুবিয়েও রাখতে পারেন। এখানে প্রকৃতির বহুরূপী রূপ দেখতে পারবেন। মুরগুমা ড্যাম থেকে দেড় থেকে দুই কিমি হাঁটা পথ অতিক্রম করলেই আপনি পৌঁছে যাবেন সুইসাইড পয়েন্টে। না এখানে কেউ সুইসাইড করতে যায় না। সুইসাইড পয়েন্ট হল পাহাড়ের কেন্দ্রবিন্দু। যার তিন দিকে ঘিরে রয়েছে খাদ ও জলাধার।
এর মাঝে রয়েছে সবুজে ঘেরা ছোট ছোট দ্বীপ। এখানে শাল,সেগুন ও মহুলের শোভা আপনার নজর কাড়বে। বাতাসের শীতল বিশুদ্ধ হাওয়ায় খেতে চাইলে এই সুইসাইড পয়েন্ট থেকে আপনি ঘুরে আসতেই পারেন। তবে বর্ষার সময় এখানে না যাওয়ায় ভালো হবে। লাল মাটির প্রদেশ পুরুলিয়ায় মুরগুমা ড্যাম যেতে চাইলে ট্রেনে করে পৌঁছে যেতে হবে পুরুলিয়া স্টেশন। সেখান থেকে মুরগুমার দূরত্ব ৫৫ কিমি। তারপর চাইলে গাড়ি বা বাসে করে পৌঁছে যেতে পারেন মুরগুমায়। এখানে থাকার জন্য পেয়ে যাবেন স্বল্প কিছু রিসর্ট । তাহলে দেরি না করে বসন্তের পলাশের ছোঁয়া লাগাতে পৌঁছে যান মুরগুমা ড্যামে।





