কলকাতা

চোরবাগান কাণ্ডে চাঞ্চল্যকর তথ্য! ৩০টি সিসিটিভির মধ্যে ১৭টিই ছিল লোকদেখানো

গোয়েন্দা পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে এই তথ্য

Truth of Bengal: চোরবাগানের মণ্ডপে দুর্ঘটনার তদন্তে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসছে। মণ্ডপের বাইরে বেরোনোর গেটের কাছে লাগানো তিনটি সিসিটিভির মধ্যে দু’টিই ছিল বন্ধ। শুধু তাই নয়, মণ্ডপে লাগানো মোট ৩০টি সিসিটিভির মধ্যে ১৭টিই ছিল কার্যত লোকদেখানো। চোরবাগানের মণ্ডপে ১৯ জনের মৃত্যুর ঘটনায় গোয়েন্দা পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে এই তথ্য। প্রাথমিক তদন্তে এই বিপর্যয়ের জন্য পুজো কমিটির গাফিলতিকেই মূলত দায়ী করছেন তদন্তকারীরা। পুলিশের জেরায় ধৃত পুজো কমিটির সেক্রেটারি রাজকুমার সেওদা ওরফে রাজা শর্মা ওরফে মোটা রাজা জানিয়েছেন, পুজো আয়োজন থেকে শুরু করে ভিড় সামলানো, কোনও ক্ষেত্রেই কমিটির সদস্যদের পূর্ব অভিজ্ঞতা ছিল না। তা সত্ত্বেও তাঁরা পুজোর দায়িত্ব নিয়েছিলেন। তৃতীয়া থেকেই মণ্ডপে দর্শনার্থীদের ভিড় বাড়তে শুরু করলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কোনও কার্যকর পদক্ষেপ করেনি পুজো কমিটি। বুধবার পুলিশ হেফাজতের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর ধৃতদের ব্যাঙ্কশাল আদালতে পেশ করা হবে।

এদিকে, মণ্ডপের নকশা ও কাঠামো নিয়ে তদন্তে নেমেছে গোয়েন্দা পুলিশ। ইতিমধ্যেই মণ্ডপশিল্পী সুশান্তশিবানী পালকে লালবাজারে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। মণ্ডপের নকশা কীভাবে তৈরি হয়েছিল, পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ হয়েছিল কি না, প্রবেশ ও প্রস্থান পথের কাঠামো কেমন ছিল এবং ভিড়ের চাপে কীভাবে এই বিপর্যয় ঘটল, সেই সমস্ত বিষয় জানতে চেয়েছেন তদন্তকারীরা। তদন্তের স্বার্থে মেদিনীপুর, নদিয়ার চাকদহ এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনাতেও পুলিশের দল পাঠানো হয়েছে। দুর্ঘটনার সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত মৃতদের আত্মীয়স্বজন এবং আহতদের সঙ্গে কথা বলছেন গোয়েন্দারা। প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য থেকে দুর্ঘটনার সময়কার পরিস্থিতি বোঝার চেষ্টা চলছে।

গোয়েন্দা পুলিশের দাবি, মণ্ডপের বাইরে বেরোনোর গেটের কাছে থাকা তিনটি সিসিটিভির মধ্যে দু’টি বন্ধ ছিল। যে ক্যামেরাটি চালু ছিল, তার ফুটেজে দেখা গিয়েছে, মাত্র তিন মিনিটের মধ্যেই সবচেয়ে বড় বিপর্যয় ঘটে। এই ঘটনার প্রকৃত ছবি সামনে আনতে বিভিন্ন দিক থেকে ধারণ করা পাঁচটি সিসিটিভির ফুটেজ বিশ্লেষণ করছেন তদন্তকারীরা। তবে ৩০টি সিসিটিভির মধ্যে ১৭টি কার্যত অকেজো থাকায় বাকি ১৩টি ক্যামেরার ফুটেজ উদ্ধার করাই এখন পুলিশের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ। ইতিমধ্যেই দু’টি সিসিটিভির ডিভিআর বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। একটি ডিভিআরে ১৪টি এবং অন্যটিতে ১৬টি ক্যামেরার ফুটেজ থাকার কথা। কিন্তু একটি ডিভিআর থেকে এখনও পর্যন্ত মাত্র ১৩টি ক্যামেরার ফুটেজ উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।

Related Articles