রাজ্যের খবর

অনুমোদনের পরও মেলেনি আয়ুষ্মান কার্ড! জনতার দরবারে ক্যানসার আক্রান্ত মহিলার স্বামী

স্ত্রীর ক্যানসারের চিকিৎসার জন্য অনুমোদিত আয়ুষ্মান কার্ড দ্রুত হাতে পাওয়ার ব্যবস্থা করেছেন আধিকারিকেরা

Truth of Bengal: কারও দীর্ঘদিনের পৈতৃক জমি দখল করে থাবা বসিয়েছিল স্থানীয় মাফিয়ারা, কারও আবার এক বছরেরও বেশি সময় ধরে বন্ধ হয়ে পড়েছিল বৃদ্ধ ভাতা। কেউ আবার স্ত্রীর মারণ ব্যাধি ক্যানসারের চিকিৎসায় অনুমোদিত আয়ুষ্মান কার্ড হাতে না পেয়ে দিশেহারা ছিলেন। এমনকি সরকারি প্রকল্পের কাজ শেষ করার ৯ বছর পেরিয়ে গেলেও মেলেনি প্রাপ্য অর্থ, অথচ খাতায়-কলমে টাকা মিটে যাওয়ার খবর এসেছে। এমন হাজারো জটিল ও দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত সমস্যার একদিনেই নজিরবিহীন মুশকিল আসান ঘটল পুরুলিয়া জেলা প্রশাসনিক ভবনে।

বৃহস্পতিবার পুরুলিয়ার জেলাশাসক কার্যালয়ে আয়োজিত বিশেষ জনশুনানিতে আমজনতার অভিযোগ শুনতে সরাসরি মুখোমুখি বসেন উচ্চপদস্থ প্রশাসনিক কর্মকর্তারা। উপস্থিত ছিলেন জেলাশাসক সুধীর কোস্থম, অতিরিক্ত জেলাশাসক (সাধারণ) উৎকর্ষ সিং, নির্বাচন দপ্তরের অফিসার ইনচার্জ আবুল আলা মামুদ আনসার এবং স্বনির্ভর গোষ্ঠী ও স্বনিযুক্তি প্রকল্প দপ্তরের আধিকারিক সঞ্জয় বিশ্বাস। জেলার দূরদূরান্ত থেকে আসা প্রবীণ ও সাধারণ মানুষ নিজেদের ক্ষোভ ও সমস্যার কথা জানান। বেশ কিছু জটিল সমস্যার সমাধান তৎক্ষণাৎ অন-স্পট করে দেওয়া হয় এবং বাকিগুলির ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক সরকারি প্রক্রিয়া শুরু করা হয়।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, এই উদ্যোগ ‘আপনার সরকার আপনার পাশে’ প্রকল্পের আওতাভুক্ত। প্রতি মঙ্গলবার ও বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা ৩০ মিনিট থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত জেলা প্রশাসনিক ভবন ছাড়াও বিডিও অফিস, মহকুমাশাসক দপ্তর এবং পুলিশ সুপার কার্যালয়েও এই জনশুনানি চলবে। বৃহস্পতিবার পুলিশ সুপার কুমার সানি রাজও নিজের কার্যালয়ে একইভাবে মানুষের অভিযোগ শোনেন। রেজিস্ট্রেশনের জন্য আবেদন পত্রে নিজের নাম, ঠিকানা ও পরিচয়পত্রের বিবরণ নথিভুক্ত করে সরাসরি শীর্ষ কর্মকর্তাদের কাছে পৌঁছানোর সুযোগ পাচ্ছেন নাগরিকেরা।

বহু বছর ধরে আটকে থাকা টাকা ও আয়ুষ্মান কার্ডের দ্রুত সমাধানের আশ্বাসে এদিন চওড়া হাসি ফোটে মানবাজারের পরমানন্দ মাহাতো, পুরুলিয়া ২ ব্লকের অমৃত মাহাতো এবং পুরুলিয়া শহরের নডিহার বাসিন্দা বিভাস ভৌমিকের মুখে। নডিহার বিভাসবাবু জানান, স্ত্রীর ক্যানসারের চিকিৎসার জন্য অনুমোদিত আয়ুষ্মান কার্ড দ্রুত হাতে পাওয়ার ব্যবস্থা করেছেন আধিকারিকেরা। একইভাবে ৯ বছর ধরে আটকে থাকা ৪ লাখ টাকার বিল মেটানোর প্রক্রিয়ার আশ্বাস পেয়েছেন ব্যবসায়ী স্বপনকুমার দাঁ। জেলাশাসক সুধীর কোস্থম স্পষ্ট জানিয়েছেন, আমজনতা ও প্রশাসনের মধ্যকার দূরত্ব ঘোচাতে এই জনশুনানি অব্যাহত থাকবে।

Related Articles