কলকাতা

“রাজাবাজার থেকে এক পা-ও এগোতে দেব না!”, তৃণমূলের মিছিল নিয়ে চরম হুঁশিয়ারি মুখ্যমন্ত্রীর!

দরকার পড়লে নামবে সেন্ট্রাল ফোর্স! উৎসবের মরশুমে রাজনৈতিক মিছিল রুখতে মেগা অ্যাকশনে শুভেন্দু

Truth of Bengal: মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে কালীঘাট তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে মঙ্গলবার একটি মিছিলের ডাক দেওয়া হয়েছে। রাজাবাজার থেকে পার্কসার্কাস পর্যন্ত এই প্রতিবাদ মিছিল হওয়ার কথা রয়েছে। তবে এই রাজনৈতিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সোমবার সন্ধ্যা থেকেই রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছিল, আর গভীর রাতে খোদ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সরাসরি হুঁশিয়ারিতে পরিস্থিতি একেবারে চরমে পৌঁছে গেল। পুজো তথা উৎসবের মরশুমে তিলোত্তমার রাজপথে কোনও প্রকার আইনশৃঙ্খলার অবনতি বা বিশৃঙ্খলা যে একবিন্দুও বরদাস্ত করা হবে না, তা অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

সোমবার রাতে একটি দুর্গাপুজোর মণ্ডপ উদ্বোধনে গিয়ে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেখানে তৃণমূলের মঙ্গলবারের এই মিছিল সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে তিনি এক বিন্দুমাত্র রাখঢাক না করে সোজাসাপ্টা ভাষায় বলেন, “আমি তাদের এক পা-ও রাজাবাজার থেকে এগোতে দেব না। পুলিশ কমিশনারকে ইতিমধ্যেই কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যদি প্রয়োজন হয়, তবে এই মিছিল আটকাতে সেন্ট্রাল ফোর্স বা কেন্দ্রীয় বাহিনীও নামাতে বলেছি। কোনওমতেই রাজ্যে কোনও বিশৃঙ্খলা তৈরি করতে দেব না, বিশেষ করে এই দুর্গাপুজোর আনন্দের দিনে।” মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্যের পরেই স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে যে, রাজ্য সরকার এই রাজনৈতিক কর্মসূচিকে কতটা কঠোর দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখছে। কলকাতা পুলিশ যদি পরিস্থিতি সামাল দিতে ব্যর্থ হয়, তবে প্রয়োজনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের অধীনে থাকা কেন্দ্রীয় বাহিনী দিয়ে কড়া হাতে দমন করা হবে, এই বার্তা দিয়ে রাজ্য প্রশাসন তাদের অনমনীয় মনোভাব বুঝিয়ে দিয়েছে।

যদিও মঙ্গলবারের এই মিছিলে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্বয়ং থাকবেন কি না, তা সোমবার রাত পর্যন্ত দলের তরফে আনুষ্ঠানিকভাবে স্পষ্ট করা হয়নি। তবে কালীঘাট তৃণমূলের ছাত্র-যুব সংগঠনের এই কর্মসূচির বিরুদ্ধে সরকারের এমন কড়া অবস্থানের পর ঘাসফুল শিবিরের অন্দরে অস্বস্তি যে বহুগুণ বেড়ে গিয়েছে, তা বলাই বাহুল্য। তৃণমূলের অন্দরের ঘরোয়া আলোচনা অনুযায়ী, মিছিলের রুট ও এলাকার চরিত্র ভিন্ন হওয়া সত্ত্বেও রাজ্য সরকার রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে এটিকে ভিন্ন চোখে দেখতে চাইছে।

উৎসবের মরশুমে যখন গোটা তিলোত্তমা সেজে উঠেছে আলোকমালায় এবং মানুষ মেতে উঠেছে পুজো পরিক্রমায়, ঠিক তখনই রাজাবাজারে তৃণমূলের এই পূর্বঘোষিত জমায়েত শেষ পর্যন্ত কতটা বাস্তবায়িত হয় এবং পুলিশ বা কেন্দ্রীয় বাহিনী প্রশাসন কীভাবে তা মোকাবিলা করে, এখন সমস্ত নজর সেদিকেই রয়েছে।

Related Articles