দেশ

‘বাবার টাকায় নয়, মেধার জোরেই আমেরিকা জয়!’ আরটিআই-এর সপাট জবাবে বিস্ফোরক অভিজিৎ দীপকে

সংগঠনের পিছনে বিদেশি অর্থসাহায্য কিংবা অন্য কোনও রাজনৈতিক শক্তির মদত রয়েছে বলেও বিভিন্ন মহল থেকে অভিযোগ করা হয়েছে।

Truth of Bengal: আমেরিকায় উচ্চশিক্ষা, প্রবাসে থাকাকালীন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ প্রতিষ্ঠা এবং দেশে ফিরে নিট কেলেঙ্কারির বিরুদ্ধে পড়ুয়াদের সংগঠিত করে আন্দোলন—অভিজিৎ দীপকের রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ড নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই নানা প্রশ্ন উঠেছে। তাঁর সংগঠনের পিছনে বিদেশি অর্থসাহায্য কিংবা অন্য কোনও রাজনৈতিক শক্তির মদত রয়েছে বলেও বিভিন্ন মহল থেকে অভিযোগ করা হয়েছে। এমনকি অভিজিতের পারিবারিক আর্থিক অবস্থার সঙ্গে তাঁর আমেরিকায় পড়াশোনার বিপুল খরচের সামঞ্জস্য নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। সেই সূত্রেই তথ্যের অধিকার আইনে তাঁর উচ্চশিক্ষার অর্থের উৎস জানতে চাওয়া হয়েছিল। এবার সেই বিতর্কের জবাব দিলেন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র প্রতিষ্ঠাতা। অভিজিৎ দীপকের দাবি, বাবার উপার্জনের টাকায় নয়, মেধার ভিত্তিতে পাওয়া বৃত্তি এবং শিক্ষা ঋণের সাহায্যেই তিনি আমেরিকায় উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করেছেন। প্রয়োজনে সেই সংক্রান্ত সমস্ত নথি প্রকাশ করতেও তিনি প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন।

মহারাষ্ট্রের এক সরকারি কর্মচারী পরিবারের সন্তান অভিজিৎ। তাঁর বাবা ভগবানরাও দীপকে মহারাষ্ট্র ইন্ডাস্ট্রিয়াল ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশনে জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তাঁর মাসিক বেতন প্রায় ৬০ থেকে ৬৫ হাজার টাকা ছিল বলে দাবি। সেই আয়ে ছেলের আমেরিকায় পড়াশোনার খরচ কীভাবে বহন করা হয়েছিল, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে আরটিআই করেন সমাজকর্মী অমিত তিওয়ারি। অভিজিৎ দীপকের সংগঠন প্রথম আন্দোলনে সাফল্য পাওয়ার পর দেশজুড়ে বিভিন্ন মামলায় জড়ানো কর্মীদের আইনি সহায়তার জন্য একটি তহবিল গঠনের ঘোষণা করা হয়েছিল। সংগঠনের তরফে জানানো হয়েছিল, বর্ষীয়ান আইনজীবী কপিল সিব্বল ওই তহবিলে এক কোটি টাকা দেওয়ার কথা বলেছেন। পাশাপাশি আন্দোলন চলাকালীন বিদেশ থেকে অর্থসাহায্য পাওয়ার অভিযোগও ওঠে। এই সমস্ত অভিযোগের ভিত্তিতেই সংগঠন এবং তার প্রতিষ্ঠাতার আর্থিক উৎস খতিয়ে দেখার দাবি তুলেছিলেন আরটিআই আবেদনকারী। তার জবাবে অভিজিৎ জানিয়েছেন, তাঁর উচ্চশিক্ষার খরচের একটি বড় অংশ বহন করেছে বস্টন বিশ্ববিদ্যালয়।

অভিজিতের কথায়, “বস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ের বৃত্তির সাহায্যেই আমি উচ্চশিক্ষা করেছি। পাশাপাশি শিক্ষা ঋণও নিয়েছিলাম। এখন সেই ঋণ পরিশোধের সময় এসেছে।” নিজের দাবির সমর্থনে বৃত্তি সংক্রান্ত নথিও প্রকাশ করেছেন তিনি। ২০২৪ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে বস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ের তরফে ধাপে ধাপে তাঁকে যে অর্থ দেওয়া হয়েছিল, তার বিস্তারিত নথি সামনে এনেছেন অভিজিৎ। বিদেশি অনুদানের অভিযোগও সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন তিনি। তাঁর দাবি, আন্দোলনের সময়ে সাধারণ মানুষ খাবার, জল এবং দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় সামগ্রী দিয়ে তাঁদের সাহায্য করেছিলেন। এমনকি দিল্লি পুলিশের কয়েকজন কর্মীও পরিচয় গোপন রেখে আন্দোলনকারীদের জলের বোতল দিয়েছিলেন বলে দাবি করেছেন অভিজিৎ।

Related Articles