৫ হাজার কোটির মালিক থেকে সোজা ভিখারি! মুম্বইয়ের রাস্তায় ভিক্ষা চাইলেন বিজেপি বিধায়ক
নিজের অ্যাপার্টমেন্টে ঢুকতেই নিরাপত্তারক্ষীর ধাক্কা, বন্ধু দিল তাড়িয়ে! বিধায়ক পরাগ শাহের চমকে দেওয়া অভিজ্ঞতা
Truth of Bengal: তিনি দেশের অন্যতম ধনী রাজনীতিক। স্থাবর-অস্থাবর মিলিয়ে সম্পত্তির পরিমাণ প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা। অথচ সেই অঢেল বিত্ত-বৈভব, বিলাসবহুল গাড়ি ও দেহরক্ষীদের বলয় এক লহমায় ত্যাগ করে সাধারণ ভিখারির রূপ ধারণ করলেন মুম্বইয়ের ঘটকোপার পূর্ব এলাকার বিজেপি বিধায়ক পরাগ শাহ। ছদ্মবেশে রাজপথের ধূলোবালিতে বসে ভিক্ষা চাওয়া থেকে শুরু করে পথচারীদের তীব্র বিদ্রূপ সহ্য করা, এক মহৎ আধ্যাত্মিক উদ্দেশ্যে নিজেকে সম্পূর্ণ নিঃস্ব হিসেবে সঁপে দিলেন তিনি। কোটিপতি বিধায়কের এই নজিরবিহীন পদক্ষেপে শোরগোল পড়ে গিয়েছে দেশজুড়ে।
ঘটনার নেপথ্যে রয়েছে জৈন ধর্মের পবিত্র ‘চতুরমাস’ উপলক্ষে তাঁর আধ্যাত্মিক গুরু নম্রমুনি মহারাজের এক অভিনব পরামর্শ। কোটিপতি শিষ্যের মন থেকে অর্থ, ক্ষমতা ও পদের অহঙ্কার চিরতরে দূর করতে গুরু আদেশ দেন, এক দিনের জন্য সম্পূর্ণ ভিখারি সেজে সমাজের কঠোর বাস্তবতাকে কাছ থেকে অনুভব করতে হবে। গুরুর নির্দেশকে শিরোধার্য করে পরাগ শাহ নিজের মেকআপ বদলে ছেঁড়া-ফাটা পোশাকে নিঃস্ব ছদ্মবেশে নেমে পড়েন ঘাটকোপারের রাজপথে। সারাদিন ধরে ভিক্ষা করা, ফুটপাথে বসে খাওয়া এবং সাধারণ মানুষের ঘৃণা ও অপমানের মুখোমুখি হওয়ার যন্ত্রণাদায়ক অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করেন তিনি।
এই অভিজ্ঞতা শেষ হওয়ার পর মেকআপ তুলে নিজের আসল পরিচয় নিয়ে ফের সেই একই জায়গাগুলিতে ফিরে যান বিধায়ক। সাধারণ মানুষের প্রতিক্রিয়া ও নিজের উপলব্ধির কথা জানিয়ে পরাগ শাহ বলেন, “সম্পদ, খ্যাতি ও ক্ষমতা মানুষের মনে অজান্তেই বিপুল অহঙ্কার এনে দেয়। গুরুর আদেশে ছদ্মবেশ ধারণ করার ফলে সেই অহঙ্কার পুরোপুরি চুরমার হয়ে গিয়েছে। এই শিক্ষা আমাকে সারাজীবন মাটির কাছাকাছি থাকতে সাহায্য করবে।”
ভিখারি সেজে কাটানো সেই এক দিনের এক হৃদয়বিদারক অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করে তিনি বলেন, “আমি যখন ভিখারির বেশে আমার নিজের আবাসনের গেটে ঢুকতে গেলাম, তখন আমারই দারোয়ান আমাকে ধাক্কা মেরে বের করে দিল! এমনকি আমার এক পরম বন্ধু, যে সবসময় দানধ্যান করে, আমি ভিখারি সেজে সাহায্য চাইতে গেলে সেও আমাকে তাড়িয়ে দেয়।” ক্ষোভ প্রকাশ করে বিধায়ক যোগ করেন, “মানুষ যে সম্পর্কের চেয়ে অর্থ, পদ আর ক্ষমতাকেই বেশি মূল্য দেয়, তা আজ হাড়ে হাড়ে টের পেলাম। তবে মানবতার মৃত্যু হয়নি; কয়েকজন তরুণ আমাকে দয়া করে ২০ টাকার একটি নোট দিয়েছিল।”






