দেশ

শসা চাষে নিজের মন্ত্রক থেকেই প্রায় কোটি টাকার ভর্তুকি! বিতর্কের মুখে শেষমেশ টাকা ফেরত দিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী

কোটি টাকার বিরাট কেলেঙ্কারি! লোকসভায় অভিষেকের তোপের মুখে পড়ে নতিস্বীকার কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর?

Truth of Bengal: নিজের মালিকানাধীন খামারে শসা চাষের জন্য স্বীয় মন্ত্রক থেকেই ৯৯ লক্ষ টাকার মোটা অঙ্কের সরকারি ভর্তুকি নিয়ে চরম বিতর্কের মুখে পড়েছিলেন কেন্দ্রীয় কৃষি প্রতিমন্ত্রী ভগীরথ চৌধুরী। বিরোধীদের তীব্র রাজনৈতিক আক্রমণ এবং লাগাতার প্রশ্নের পর শেষমেশ সেই সম্পূর্ণ অর্থ ফেরত দিলেন মন্ত্রী। সোমবার লোকসভায় একটি লিখিত জবাবে কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানানো হয়েছে। তবে একই সঙ্গে সরকারের দাবি, এই জাতীয় প্রকল্পে আর্থিক সুবিধার ক্ষেত্রে সরকারি পদে থাকা কোনও ব্যক্তির ‘স্বার্থের সংঘাত’ (Conflict of Interest) সংক্রান্ত কোনও নির্দিষ্ট আইনি নিষেধাজ্ঞা বর্তমানে নেই।

উল্লেখ্য, দেশের কৃষকদের উৎসাহিত করতে ক্যাপসিকাম, শসা, টমেটো বা অর্কিডের মতো নির্দিষ্ট কিছু শাকসবজি ও ফুলের বাণিজ্যিক চাষের ক্ষেত্রে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত (সর্বোচ্চ ১ কোটি টাকা) অনুদান দেয় কেন্দ্রীয় কৃষি মন্ত্রকের অধীনস্থ ‘জাতীয় উদ্যানপালন পর্ষদ’। রাজস্থানের অজমেঢ়ের সাংসদ তথা কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী ভগীরথ চৌধুরী নিজেই এই পর্ষদের অন্যতম উপাধ্যক্ষ। তাঁর ১৬,৫৯২ বর্গমিটারের বিশাল খামারে শসা চাষের জন্য গত বছর জাতীয় উদ্যানপালন পর্ষদের দেওয়া অনুদানের তালিকায় স্থান পেয়েছিল মন্ত্রীর খামারও। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই বিরোধী শিবির সোচ্চার হয়।

বিতর্কের এই আবহেই লোকসভায় বিষয়টি আবার নতুন করে তুলে ধরেন ডায়মন্ড হারবারের তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি প্রশ্ন তোলেন, জাতীয় উদ্যানপালন পর্ষদের প্রকল্পগুলিতে অনুদান অনুমোদনের ক্ষেত্রে ঠিক কী কী মাপকাঠি মানা হয়? এর পেছনে কোনও স্বার্থের সংঘাত থাকলে তা এড়াতে বর্তমান প্রক্রিয়া পর্যালোচনার কোনও পরিকল্পনা কেন্দ্রের রয়েছে কি না এবং গত পাঁচ বছরে আর কোনও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বা সাংসদ এমন সরকারি সুবিধা পেয়েছেন কি না, তা নিয়ে লিখিত জবাব চান তিনি।

অভিষেকের এই ধারালো প্রশ্নের উত্তরে অপর কেন্দ্রীয় কৃষি প্রতিমন্ত্রী রামনাথ ঠাকুর সংসদে লিখিতভাবে জানান, বিতর্কের পর ভগীরথ চৌধুরী সেই ৯৯ লক্ষ টাকা সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে ফিরিয়ে দিয়েছেন এবং ব্যাংককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন তারা ওই অর্থ জাতীয় উদ্যানপালন পর্ষদের কাছে ফেরত পাঠায়। পাশাপাশি কেন্দ্র এ-ও জানায়, ভগীরথ ছাড়াও রাজস্থানের সিরোহির বিজেপি সাংসদ লুম্বারামও এই জাতীয় প্রকল্পের আর্থিক সুবিধা লাভ করেছেন। সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ অনলাইনে ও স্বচ্ছতার সঙ্গেই সম্পন্ন হয় এবং যোগ্যতার মাপকাঠি পূরণ করলে সরকারি পদের তোয়াক্কা না করে সব আবেদনকারীকে সমান চোখে দেখা হয়।

Related Articles