দেশ

মাথার দাম কোটি টাকা, ঝাড়খণ্ডে গ্রেফতার ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ শীর্ষ মাও নেতা 

ঝাড়খণ্ডের পারশনাথ পাহাড় সংলগ্ন জঙ্গল থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে মাওবাদী সংগঠনের একমাত্র জীবিত পলিটব্যুরো সদস্য মিসির বেসরাকে।

Truth of Bengal: দেশে মাওবাদী দমনে বড় সাফল্য পেল নিরাপত্তা বাহিনী। ঝাড়খণ্ডের পারশনাথ পাহাড় সংলগ্ন জঙ্গল থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে মাওবাদী সংগঠনের একমাত্র জীবিত পলিটব্যুরো সদস্য মিসির বেসরাকে। মঙ্গলবার রাতে যৌথ অভিযানে তাঁকে আটক করে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী। তাঁর সঙ্গে আরও দুই মাওবাদী কমান্ডারকেও গ্রেফতার করা হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, দীর্ঘ প্রায় দুই দশক ধরে নিরাপত্তা বাহিনীর চোখে ধুলো দিয়ে আত্মগোপন করে ছিলেন মিসির বেসরা। সম্প্রতি গোয়েন্দাদের কাছে খবর আসে, তিনি গিরিডি ও ধানবাদ জেলার সীমানায় পারশনাথ পাহাড় সংলগ্ন জঙ্গলে কয়েকজন সহযোগীকে নিয়ে লুকিয়ে রয়েছেন। সেই তথ্যের ভিত্তিতে সিআরপিএফ, গিরিডি ও ধানবাদ পুলিশের যৌথ বাহিনী তল্লাশি অভিযান শুরু করে। মঙ্গলবার রাত প্রায় ৯টা নাগাদ পালানোর চেষ্টা করার সময় তাঁকে আটক করা হয়।

মিসির বেসরার বিরুদ্ধে বহু নাশকতা, হামলা ও নিরাপত্তা বাহিনীর উপর আক্রমণের অভিযোগ রয়েছে। তাঁর মাথার দাম ঘোষণা করা হয়েছিল ১ কোটি টাকা। ঝাড়খণ্ড পুলিশের দাবি, গিরিডি জেলার হালরাডিহি গ্রামের বাসিন্দা মিসির বেসরা মাওবাদী সংগঠনের মধ্যে ‘ভাস্কর’ ও ‘সাগর’ নামেও পরিচিত ছিলেন।

এটি মিসির বেসরার প্রথম গ্রেফতার নয়। ২০০৭ সালে ঝাড়খণ্ডে তাঁকে একবার গ্রেফতার করা হয়েছিল। তবে ২০০৯ সালে বিহারের লখিসরাই জেলা আদালতে হাজিরার সময় মাওবাদীরা অতর্কিতে হামলা চালিয়ে পুলিশের হেফাজত থেকে তাঁকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়। সেই ঘটনার পর থেকেই তিনি ফের আত্মগোপনে চলে যান এবং দীর্ঘদিন ধরাছোঁয়ার বাইরে ছিলেন।

ঝাড়খণ্ড পুলিশের মতে, বর্তমানে মাওবাদী সংগঠনের পলিটব্যুরোর একমাত্র জীবিত সদস্য ছিলেন ৬৬ বছর বয়সি মিসির বেসরা। সংগঠনের অন্যান্য শীর্ষ নেতারা ইতিমধ্যেই হয় নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে গ্রেফতার হয়েছেন, নয়তো সংঘর্ষে নিহত হয়েছেন। ফলে তাঁর গ্রেফতারকে মাওবাদী সংগঠনের সাংগঠনিক কাঠামোর উপর বড় আঘাত হিসেবে দেখছেন নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা। তবে এই গ্রেফতারেই সংগঠনের কার্যক্রম সম্পূর্ণ শেষ হয়ে যাবে কি না, সে বিষয়ে এখনও সরকারি ভাবে কোনও ঘোষণা করা হয়নি।

 

Related Articles