উঁচু ছাদ থেকে কলকাতা দেখার বায়নাই হল কাল! তারাতলা বিপর্যয়ে ভাগ্নের পর চলে গেলেন মামাও
তারাতলা ট্র্যাজেডিতে বাসন্তীর একই পরিবারে নামল অন্ধকারের কালো ছায়া
Truth of Bengal: উঁচু বিল্ডিংয়ের ছাদ থেকে আকাশ ছোঁয়া ফ্ল্যাট বাড়ি আর হুগলি ব্রিজ দেখার একরাশ স্বপ্ন ছিল কিশোর সাহিলের। মামার মুখে কলকাতার গল্প শুনে অনেক দিন থেকেই মনে মনে শহর দেখার স্বপ্ন বুনছিল সে। গরমের ছুটিতে মামারবাড়ি বেড়াতে এসে মামা খালেক সর্দারের হাত ধরে বায়না জুড়েছিল, “আমিও যাব তোমার সঙ্গে। ছাদ থেকে কলকাতা দেখব।” ভাগ্নের সেই নিষ্পাপ ইচ্ছেপূরণ করতেই বুধবার তাকে কাজের জায়গায় নিয়ে গিয়েছিলেন খালেক। কিন্তু নিয়তির কী নিষ্ঠুর পরিহাস! তারাতলার সেই অভিশপ্ত নির্মীয়মাণ গোডাউনের ছাদে ওঠার পরপরই বুধবার দুপুর ১২টা ৭ মিনিটে হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে কংক্রিটের ছাদ। ঘটনাস্থলেই লোহা আর কংক্রিটের নিচে পিষে মৃত্যু হয় দশম শ্রেণির ছাত্র সাহিলের। আর আজ, শনিবার দুপুরে এসএসকেএম (SSKM) হাসপাতালের ট্রমা কেয়ার সেন্টারে যমে-মানুষে দু’দিন টানাটানির পর শেষরক্ষা হলো না মামা খালেক সর্দারেরও।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, দক্ষিণ ২৪ পরগনার বাসন্তীর বাসিন্দা খালেক সর্দার আগে মুম্বইতে প্লাম্বারের কাজ করতেন। করোনাকালে কাজ হারিয়ে গ্রামে ফিরে আসার পর অনেক খুঁজেপেতে এই তারাতলার গোডাউনে কাজ পেয়েছিলেন। তিনি ছিলেন পরিবারের একমাত্র রোজগেরে সদস্য। বাড়িতে রয়েছে এক ছেলে ও এক মেয়ে। স্বামীর মৃত্যুর খবর বাসন্তীতে পৌঁছাতেই শোকে পাথর হয়ে গিয়েছেন স্ত্রী। এক লহমায় পুরো পরিবারটি এখন সম্পূর্ণ অনাথ ও নিঃস্ব।
এসএসকেএমে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও প্রাক্তন শ্রমমন্ত্রী, চিকিৎসাধীন আরও ২ জন
শনিবার দুপুরে এসএসকেএম হাসপাতালের ট্রমা কেয়ার ইউনিটে আহত শ্রমিকদের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিতে যান নবনিযুক্ত স্বাস্থ্যমন্ত্রী তথা বিশিষ্ট চিকিৎসক ডা. শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। তিনি চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলার পর জানান, “আহতদের অনেকেই এখন বিপন্মুক্ত ও সুস্থ। তাঁদের দ্রুত হাসপাতাল থেকে ছুটির বন্দোবস্ত করা হচ্ছে।” এদিন আহতদের সঙ্গে দেখা করতে আসেন প্রাক্তন শ্রমমন্ত্রী অনাদি সাহুও। তিনি এই ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে নির্মাণ শ্রমিকদের নিরাপত্তার অভাব নিয়ে সরব হন।
তারাতলা কাণ্ডে লাশের সংখ্যা বেড়ে ১৭, জারি রয়েছে ক্ষোভ
মামা খালেক সর্দারের মৃত্যুর পর তারাতলার এই মেগা বিল্ডিং বিপর্যয়ে সরকারিভাবে মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ১৭। বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী সাইটের কাজ শেষ করলেও এসএসকেএম হাসপাতালের ট্রমা কেয়ারে এখনও অত্যন্ত আশঙ্কাজনক অবস্থায় মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন আরও ২ জন শ্রমিক। কাটমানি আর বেআইনি নির্মাণের চক্করে আর কত পরিযায়ী শ্রমিকের রক্তে কলকাতার রাজপথ লাল হবে, সেই প্রশ্নই এখন তুলছেন বাসন্তীর শোকার্ত বাসিন্দারা।




