চেয়ারম্যান-ভাইস চেয়ারম্যান-সহ ২০ কাউন্সিলরের ইস্তফা, ভেঙে চুরমার উত্তর দমদমের পুরবোর্ড
পদত্যাগ করেই ‘ডবল ইঞ্জিন’ ও ‘সনাতন ধর্ম’ জপ বিদায়ী চেয়ারম্যানের! অর্জুন সিংয়ের সঙ্গে সাক্ষাতের পরই খেলা ঘুরে গেল?
Truth of Bengal: বঙ্গে ক্ষমতা বদলের পর থেকেই বারাকপুর শিল্পাঞ্চল জুড়ে আদি তৃণমূল কংগ্রেসের একের পর এক দুর্গে যে ভাঙন শুরু হয়েছিল, সোমবার তা এক চরম ও নজিরবিহীন রূপ নিল উত্তর দমদম পুরসভায় (North Dum Dum Municipality)। রাজনৈতিক জল্পনা সত্যি করে সোমবার পুরসভার চেয়ারম্যান বিধান বিশ্বাস, ভাইস চেয়ারম্যান লোপামুদ্রা দত্ত চৌধুরী-সহ একযোগে ২০ জন কাউন্সিলর নিজেদের পদত্যাগপত্র জমা দিলেন পুরসভার এগজিকিউটিভ অফিসারের কাছে। ৩৪টি আসনের এই পুরসভায় অর্ধেকেরও বেশি কাউন্সিলর একসঙ্গে ইস্তফা দেওয়ায় কার্যত তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ল পুরবোর্ড। এই ঘটনার পর থেকেই উত্তর দমদম পুরসভায় তড়িঘড়ি প্রশাসক বসানো নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে উঠেছে। তবে সবচেয়ে বড়ো চমক মিলেছে পদত্যাগের পর বিদায়ী চেয়ারম্যানের মুখে ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকারের প্রশংসা ও ‘সনাতন ধর্ম’ রক্ষায় সরব হওয়ার পর।
অর্জুন সিংয়ের সঙ্গে গোপন সাক্ষাৎ, তারপরেই নজিরবিহীন ইস্তফা!
পুরসভা সূত্রে খবর, বঙ্গে ক্ষমতার পরিবর্তনের পর থেকেই উত্তর দমদম পুরসভাকে ঘিরে চরম প্রশাসনিক টানাপোড়েন চলছিল। অস্থায়ী পুরকর্মীদের বকেয়া বেতন, তীব্র অর্থনৈতিক সংকট ও নাগরিক পরিষেবা থমকে যাওয়া নিয়ে বিদায়ী বোর্ডের ওপর সাধারণ মানুষের অসন্তোষ বাড়ছিল। এই জটিলতার মাঝেই কয়েকদিন আগে উত্তর দমদমের চেয়ারম্যান বিধান বিশ্বাসের বারাকপুরে গিয়ে নতুন বিজেপি মন্ত্রী অর্জুন সিংয়ের (Arjun Singh) সঙ্গে গোপন বৈঠক করা রাজনৈতিক মহলে আলোড়ন ফেলে দিয়েছিল। আর সেই বৈঠকের রেশ কাটতে না কাটতেই সোমবার এই মেগা ইস্তফার ঘটনা ঘটল। সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বিধান বিশ্বাস স্পষ্ট জানান, “উত্তর দমদমের বাসিন্দাদের আরও উন্নত নাগরিক পরিষেবা দিতে এবং পুরকর্মীদের ন্যায্য বকেয়া মেটাতেই আমরা একযোগে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আগের সরকারের বিভিন্ন স্তরে বারবার দরবার করেও কোনও আর্থিক সাহায্য মেলেনি।”
“আমি সনাতনী, বঙ্গে ডবল ইঞ্জিন সরকারই ভরসা!”
ইস্তফা দেওয়ার পর উত্তর দমদমের বিদায়ী চেয়ারম্যানের মুখে শোনা যায় সম্পূর্ণ এক নতুন সুর, যা তাঁর পদ্মশিবিরে যোগদানের জল্পনাকে ১০০% সিলমোহর দিয়েছে। স্থানীয় বিজেপি বিধায়ক সৌরভ শিকদারের (Sourav Sikdar) ভূয়সী প্রশংসা করে বিধান বিশ্বাস দাবি করেন, “সৌরভবাবুর যোগ্য নেতৃত্বেই এখন উত্তর দমদমের প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব।”
এখানেই শেষ নয়, নিজেকে ‘কট্টর সনাতনী ধর্মাবলম্বী’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আমি সনাতন ধর্মের মানুষ। বাংলার সনাতনী সমাজের শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য। কেন্দ্রের পাশাপাশি রাজ্যেও ডবল ইঞ্জিন সরকার (Double Engine Government) থাকায় এবার এলাকার থমকে যাওয়া উন্নয়ন ঝড়ের গতিতে এগোবে।” অন্যদিকে, বারাকপুর শিল্পাঞ্চলের এই মেগা ভাঙন নিয়ে স্থানীয় বিজেপি বিধায়ক সৌরভ শিকদার জানান, “কাউন্সিলরদের ওপর কোনও রাজনৈতিক চাপ ছিল না। তাঁরা এলাকার মানুষের স্বার্থে সম্পূর্ণ স্বেচ্ছায় এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আইন মেনেই পরবর্তী প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।” রাজনৈতিক মহলের মতে, লোকসভা ও বিধানসভার পর পুরবোর্ডগুলিও হাতছাড়া হওয়া আদি তৃণমূলের অস্তিত্বকে বঙ্গে চিরতরে মুছে দেওয়ার ইঙ্গিত।






