আয়ুষ্মান ভারত প্রধানমন্ত্রী জন আরোগ্য যোজনায় পশ্চিমবঙ্গ
শুভেন্দুর উপস্থিতিতে দিল্লিতে সই হচ্ছে মেগা চুক্তি, ৩৬তম রাজ্য হিসেবে বাংলায় চালু হচ্ছে ‘আয়ুষ্মান ভারত’
রাহুল চট্টোপাধ্যায়: অবশেষে পশ্চিমবঙ্গ ‘আয়ুষ্মান ভারত প্রধানমন্ত্রী জন আরোগ্য যোজনা’ (এবি পিএম- জেএওয়াই) কার্যকরকারী ৩৬তম রাজ্য/কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল হতে চলেছে। উল্লেখ্য,দীর্ঘদিন ভারত সরকারের অনুরোধ সত্বেও রাজ্যের পূর্বতন তৃণমূল কংগ্রেস পরিচালিত সরকার এই প্রকল্প পশ্চিমবঙ্গে চালু করেননি।
পশ্চিমবঙ্গে ‘আয়ুষ্মান ভারত প্রধানমন্ত্রী জন আরোগ্য যোজনা’ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ৮ জুন, সোমবার নয়াদিল্লিতে ন্যাশনাল হেলথ অথরিটি (এনএইচ এ) এবং পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এম ও ইউ) স্বাক্ষরিত হতে চলেছে।পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর উপস্থিতিতে আয়োজিত এই সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী জগত প্রকাশ নাড্ডা।সবার জন্য স্বাস্থ্য পরিষেবা নিশ্চিত করার (ইউনিভার্সাল হেলথ কভারেজ) ভারতের যাত্রাপথে এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক স্পর্শ করে, পশ্চিমবঙ্গ সরকার বিশ্বের বৃহত্তম সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত স্বাস্থ্য সুরক্ষা প্রকল্প- ‘আয়ুষ্মান ভারত প্রধানমন্ত্রী জন আরোগ্য যোজনা’ (এবি পিএম- জেএওয়াই)-তে যুক্ত হতে চলেছে। নয়াদিল্লির বিজ্ঞান ভবনে ভারত সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রকের অধীনস্থ ‘ন্যাশনাল হেলথ অথরিটি’ (এন এইচ এ) এবং পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ‘স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ দপ্তর’-এর মধ্যে পশ্চিমবঙ্গে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হবে।
এই সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গ দেশের ৩৬তম রাজ্য/কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল হিসেবে ওই প্রকল্প কার্যকর করতে চলেছে। এই ঘটনাটি সারা দেশের সকল নাগরিকের জন্য ন্যায়সঙ্গত ও সহজলভ্য স্বাস্থ্য পরিষেবা নিশ্চিত করার যাত্রায় একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন আয়ুষ মন্ত্রকের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী প্রতাপ রাও যাদব,স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ এবং রাসায়নিক ও সার বিষয়ক কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী অনুপ্রিয়া প্যাটেল, কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য সচিব পুণ্য সলিলা শ্রীবাস্তব, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য সচিব মনোজ কুমার আগরওয়াল, স্বাস্থ্য দপ্তরের প্রধান সচিব নারায়ন স্বরূপ নিগম এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রক, ন্যাশনাল হেলথ অথরিটি ও পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। ‘আয়ুষ্মান ভারত পিএম-জেএওয়াই প্রকল্পের আওতায় যোগ্য সুবিধাভোগীদের পরিবারপিছু বছরে ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত স্বাস্থ্য সুরক্ষা প্রদান করা হয়, যা মূলত মাধ্যমিক ও উচ্চতর স্তরের (সেকেন্ডারি ও টারশিয়ারি) চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। চালুর পর থেকেই এই প্রকল্পটি ভারতের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনের ক্ষেত্রে একটি মূল স্তম্ভ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে।এটি তালিকাভুক্ত সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালের বিশাল নেটওয়ার্কের মাধ্যমে উন্নত মানের চিকিৎসার সুযোগ বাড়িয়েছে এবং চিকিৎসার জন্য রোগীদের নিজস্ব পকেট থেকে ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করেছে।
পশ্চিমবঙ্গে এই প্রকল্পের বাস্তবায়নের ফলে রাজ্যের লক্ষ লক্ষ যোগ্য সুবিধাভোগী স্বাস্থ্যজনিত বড় ধরনের ও ব্যয়বহুল চিকিৎসার ক্ষেত্রে আর্থিক সুরক্ষা পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।পাশাপাশি, এর মাধ্যমে সারা দেশজুড়ে স্বাস্থ্যসেবা সংক্রান্ত সুবিধাগুলি নির্বিঘ্নে পাওয়ার (পোর্টেবিলিটি) সুযোগও নিশ্চিত হবে। এছাড়া, উন্নত মানের ও সাশ্রয়ী স্বাস্থ্যসেবা পরিষেবার প্রাপ্যতা বৃদ্ধির মাধ্যমে এটি রাজ্যের সামগ্রিক স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাকেও আরও শক্তিশালী করে তুলবে।






