সাড়ে ৫ ঘণ্টার লুকোচুরি শেষ, জসিমুদ্দিনকে টেনে বের করল পুলিশ, কাউন্সিলরকে ‘ডিম-থেরাপি’ স্থানীয়দের
শেষপর্যন্ত চাবিওয়ালা ডেকে তালা ভেঙে ঘরের ভিতর থেকে কাউন্সিলরকে একপ্রকার টেনে বের করল জোড়াসাঁকো থানার পুলিশ।
Truth of Bengal: রবিবার ভোররাতে কলকাতার কলেজ স্ট্রিট এলাকায় টানটান উত্তেজনা। দীর্ঘ সাড়ে ৫ ঘণ্টার হাইভোল্টেজ ড্রামা শেষে অবশেষে পুলিশের জালে ধরা পড়লেন কলকাতা পুরসভার ৩৯ নম্বর ওয়ার্ডের প্রভাবশালী তৃণমূল কাউন্সিলর মহম্মদ জসিমউদ্দিন। গ্রেফতারি এড়াতে নিজের ঘরের দরজায় বাইরে থেকে তালা ঝুলিয়ে ভিতরে ঘাপটি মেরে লুকিয়ে ছিলেন তিনি। তবে শেষ রক্ষা হলো না। শেষপর্যন্ত চাবিওয়ালা ডেকে তালা ভেঙে ঘরের ভিতর থেকে কাউন্সিলরকে একপ্রকার টেনে বের করল জোড়াসাঁকো থানার পুলিশ।
পুলিশি সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২৩ সালে কলেজ স্ট্রিট এলাকারই এক নাবালিকাকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে। সেই ঘটনায় কাউন্সিলর মহম্মদ জসিমউদ্দিন এবং তাঁরই অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ৮ জনের বিরুদ্ধে পকসো (POCSO) ধারায় মামলা রুজু হয়েছিল। অভিযোগ, মামলা তুলে নেওয়ার জন্য দীর্ঘদিন ধরেই নির্যাতিতার পরিবারকে অনবরত হুমকি ও চাপ দিচ্ছিল কাউন্সিলরের সাঙ্গপাঙ্গরা। এরপর গত শনিবার রাতে স্থানীয় কলাবাগান এলাকায় ওই তরুণীকে রাস্তায় একা পেয়ে ফের চড়াও হয় কাউন্সিলর ঘনিষ্ঠরা। প্রথমে অশালীন কটূক্তি এবং পরে তার প্রতিবাদ করায় ওই তরুণীকে নির্মমভাবে চড় ও লাথি মারা হয় বলে অভিযোগ। বর্তমানে ওই তরুণী মধ্য কলকাতার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ঘটনা ধামাচাপা দিতে ওই এলাকার সমস্ত সিসিটিভি ক্যামেরা ভেঙে ফেলারও অভিযোগ উঠেছে কাউন্সিলর অনুগামীদের বিরুদ্ধে।
শনিবার রাতের এই নৃশংস হামলার ঘটনার পরই রবিবার ভোর সাড়ে ৫টা নাগাদ বিশাল পুলিশ বাহিনী নিয়ে কাউন্সিলরের বাড়ি ঘিরে ফেলে জোড়াসাঁকো থানা। পুলিশ এসেছে বুঝতে পেরেই চতুর কাউন্সিলর ঘরের দরজা লক করে ভিতরে আত্মগোপন করেন। দীর্ঘক্ষণ ডাকাডাকি করার পরেও কোনো সাড়া না মেলায় পুলিশ নিশ্চিত হয় যে তিনি ভিতরেই লুকিয়ে আছেন। এরপর পুলিশ বাধ্য হয়ে এক চাবিওয়ালাকে ডেকে এনে বাড়ির সদর দরজা এবং ভেতরের কোলাপসিবল গেটের তালা একে একে খোলে। ঘরের ভেতরে ঢুকে লুকিয়ে থাকা অবস্থায় জসিমউদ্দিনকে পাকড়াও করেন আধিকারিকরা।
এদিকে ধৃত কাউন্সিলরকে বাড়ি থেকে বের করার সময় রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় গোটা এলাকা। একদিকে কাউন্সিলর ঘনিষ্ঠরা পুলিশের গাড়ি ঘিরে ধরে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করে, অন্যদিকে পাল্টা ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয় প্রতিবেশীরা। উত্তেজিত জনতা পুলিশি ঘেরাটোপের মধ্যেই ধৃত জসিমউদ্দিনকে লক্ষ্য করে একের পর এক ডিম ছুঁড়তে শুরু করেন। পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে গেলে জমায়েত হঠাতে পুলিশ লাঠি উঁচিয়ে তাড়া করে বিক্ষোভকারীদের। জোড়াসাঁকো থানার পুলিশ জানিয়েছে, পকসো মামলার নির্যাতিতার ওপর নতুন করে হামলার অভিযোগে এই ঘটনায় কাউন্সিলর মহম্মদ জসিমউদ্দিন-সহ মোট ২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকি অভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ।






