খেলা

কনুইয়ের লিগামেন্ট ছেঁড়া থেকে গ্লাসগোয় রূপোলি সাফল্য! কে এই অদম্য ভারতীয় তারকা?

এক সময় এই অ্যাথলেটের কেরিয়ার ধ্বংসের মুখে পড়েছিল।

Truth of Bengal: চার বছর আগে কমনওয়েলথ গেমসের দলে ঠাঁই না পাওয়া থেকে শুরু করে একের পর এক চোট—সব বাধা ও হতাশা পেরিয়ে গ্লাসগোর মঞ্চে রুপোলি সাফল্য পেলেন ভারতের রাজা মুথুপান্ডি। পুরুষদের ৬৫ কেজি ভারোত্তোলন বিভাগে স্ন্যাচ এবং ক্লিন অ্যান্ড জার্ক মিলিয়ে মোট ২৮৬ কেজি তুলে দেশকে চতুর্থ পদক এনে দেন তামিলনাড়ুর এই অ্যাথলেট। শুরুর ধাক্কা সামলে স্ন্যাচে ১২৬ কেজি তোলার পর ক্লিন অ্যান্ড জার্কে এক সাহসী সিদ্ধান্তে ১৬০ কেজি তুলে কিছুক্ষণের জন্য গেমস রেকর্ডও গড়েন তিনি। তবে শেষ প্রচেষ্টায় ১৭০ কেজি তোলার ঝুঁকি সফল না হওয়ায় সোনা হাতছাড়া হলেও তাঁর রুপোর পদক নিশ্চিত হয়ে যায়।

এক সময় এই অ্যাথলেটের কেরিয়ার ধ্বংসের মুখে পড়েছিল। ২০১৯ সালের কমনওয়েলথ ওয়েটলিফটিং চ্যাম্পিয়নশিপে ডান কনুইয়ের লিগামেন্ট ছিঁড়ে যাওয়ার পর অস্ত্রোপচার ও দীর্ঘ পুনর্বাসনের মধ্য দিয়ে যেতে হয় তাঁকে। ২০২২ সালের কমনওয়েলথ গেমসে দল থেকে বাদ পড়ার যন্ত্রণাও সহ্য করতে হয়েছিল। তবে হার না মেনে ২০২৪ সালে জাতীয় রেকর্ড গড়া, ২০২৫ সালের কমনওয়েলথ চ্যাম্পিয়নশিপে রুপো জয় এবং অবশেষে গ্লাসগোয় এই আন্তর্জাতিক সাফল্য তাঁর কঠোর পরিশ্রমি মানসিকতারই প্রমাণ দেয়।

তবে রুপো জিতলেও সোনা হাতছাড়া হওয়ায় নিজের পারফরম্যান্সে পুরোপুরি সন্তুষ্ট হতে পারেননি মুথুপান্ডি। তিনি জানান, কোচ তাঁর ওপর সোনা জয়ের ভরসা রেখেছিলেন যা তিনি পূরণ করতে পারেননি, তাই এই পদক তিনি তাঁর বাবা-মা ও কোচ বিজয় শর্মাকে উৎসর্গ করছেন। এই ইভেন্টে মালয়েশিয়ার আজনিল বিন বিদিন মুহাম্মদ মোট ২৯৯ কেজি তুলে টানা তৃতীয়বার গেমস রেকর্ডসহ সোনা জয় করেন এবং পাপুয়া নিউ গিনির মোরিয়া বারু ব্রোঞ্জ পান। মীরাবাঈ চানুর সোনা এবং ঋষিকান্ত সিংয়ের রুপোর পর মুথুপান্ডির এই অর্জনে ভারতের মোট ভারোত্তোলন ও প্যারা পাওয়ারলিফটিং পদক সংখ্যা চারে পৌঁছাল।