মমতা ভাল, অভিষেক খারাপ! দল ভাঙার পরই ঘুরিয়ে ‘যুবরাজের’ বহিষ্কার চাইছেন ঋতব্রতরা
সাজানো রাজ্যপাটে মহাভারত! চোখের সামনে ভাঙন দেখেও কেন ‘পিতামহ ভীষ্ম’ হয়ে রইলেন মমতা?
Truth of Bengal: ছাব্বিশের বঙ্গে ক্ষমতা বদলের পর তৃণমূলের পরিষদীয় দলের রাশ এখন আনুষ্ঠানিকভাবে ‘নব্য তৃণমূল’ তথা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Ritabrata Banerjee) নিয়ন্ত্রণে। স্পিকারের সিলমোহর পেয়ে বিরোধী দলনেতার চেয়ারে বসেই এবার ঘাসফুল শিবিরের অভ্যন্তরীণ সমীকরণকে এক মারাত্মক আইনি ও রাজনৈতিক বৃত্তে বেঁধে ফেললেন বিদ্রোহীরা। বুধবার বিধানসভায় নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করে ঋতব্রত এবং তাঁর সঙ্গী বিধায়করা একযোগে আওড়াতে শুরু করেছেন এক নতুন তত্ত্ব, ‘মমতা ভাল, অভিষেক খারাপ’। ৬০ জন বিধায়ককে এক ছাতার তলায় এনে ঋতব্রত সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি নেত্রী হিসেবে তাঁদের পূর্ণ শ্রদ্ধা রয়েছে এবং তাঁরা চান নেত্রী স্রেফ পরামর্শদাতা বা মেন্টর হিসেবে তাঁদের গাইড করুন। তবে দলের অন্দরে কোনওভাবেই আর অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) ‘কর্পোরেট স্টাইল’ দাপট মেনে নেওয়া হবে না।
“সম্পর্ক থাকলে কি কেউ ২৬ দিন লুকিয়ে থাকে?”
তৃণমূলের অন্দরের ক্ষোভকে কাজে লাগিয়ে পরিষদীয় দলের ‘আসল মালিকানা’ ছিনিয়ে নেওয়ার পর অভিষেককে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন ঋতব্রত। তিনি বলেন, “তৃণমূলের পরিষদীয় দলের সঙ্গে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দূর-দূরান্ত পর্যন্ত কোনও সম্পর্ক নেই। এমনকি জনগণেরও ওঁর সঙ্গে কোনও সম্পর্ক নেই। সম্পর্ক থাকলে উনি ২৬ দিন লুকিয়ে থাকতেন না, চোরের মতো মার খেতেন না।”
বিদ্রোহীদের হাবেভাবে স্পষ্ট, অভিষেক যে বৃত্তে থাকবেন, সেখানে এই ৬০ জন বিধায়ক কোনও অবস্থাতেই থাকবেন না। তবে মমতা যদি ভাইপোর অন্ধ স্নেহ ত্যাগ করে বিদ্রোহীদের পাশে দাঁড়ান, তবে পরিস্থিতি কিছুটা নরম হতে পারে বলে ইঙ্গিত মিলেছে। তবে সে ক্ষেত্রেও মমতার ভূমিকা থাকবে স্রেফ পরামর্শদাতার, দলের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে সম্মিলিতভাবে।
মমতাকে প্যাঁচে ফেলার মারাত্মক ‘মাস্টারস্ট্রোক’!
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিদ্রোহীদের এই ‘মমতা ভালো, অভিষেক খারাপ’ তত্ত্ব আসলে সুপ্রিমোকে এক চরম উভয়সংকটে ফেলার সুচতুর রাজনৈতিক কৌশল। বিদ্রোহী বিধায়কদের একাংশ মমতাকে সম্মান করলেও, অভিষেকের চাপিয়ে দেওয়া নেতৃত্বকে তাঁরা মনে-প্রাণে ঘৃণা করতেন। আর এই ক্ষোভকে অস্ত্র করেই ঋতব্রতরা এমন এক পরিস্থিতি তৈরি করেছেন, যেখানে মমতাকে হয় নিজের ভাইপো নতুবা তাঁর প্রিয় দল, যেকোনও একটিকে বেছে নিতে হবে।
মমতা যদি নিজের ভাইপোর পাশে দাঁড়ান, তবে রাজ্যে বার্তা যাবে যে অপত্যস্নেহে অন্ধ হয়ে তিনি নিজের তৈরি দলকেই শেষ করে দিলেন। আর যদি তিনি বিধায়কদের দাবি মেনে নেন (যা আপাত অসম্ভব), তবে অভিষেক রাজনৈতিকভাবে সম্পূর্ণ নিঃস্ব হয়ে পড়বেন এবং ইডি-সিবিআই-সিআইডির সাঁড়াশি আক্রমণে তাঁর জেলযাত্রা ত্বরান্বিত হবে।
মহাভারতের ‘পিতামহ ভীষ্ম’ মমতা!
বর্তমান পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে তৃণমূল সুপ্রিমোর অবস্থা এখন ঠিক মহাভারতের পিতামহ ভীষ্মের মতো। চোখের সামনে নিজের তিল তিল করে সাজানো রাজ্যপাট ও উত্তরাধিকারের লড়াইয়ে দল তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়তে দেখছেন তিনি। অথচ, অভিষেকের প্রতি অন্ধ স্নেহ এবং দলের বিধায়কদের বাস্তব ক্ষোভের মাঝখানে দাঁড়িয়ে তাঁর আজ কোনও পক্ষ নেওয়ার উপায় নেই। এখন এই রাজনৈতিক মহাযুদ্ধে মমতা নীরব দর্শক হয়েই থাকবেন, নাকি শেষবেলায় নেমে ভাইপোর পক্ষে ব্যাটিং করবেন, সেদিকেই তাকিয়ে গোটা রাজ্য।






