কলকাতা

“দলে আর কোনও ভৃত্য নেই, আমরা সবাই টিম!”, স্পিকারের স্বীকৃতি পেতেই হুঙ্কার নতুন দলনেতা ঋতব্রতর

শক্তি পরীক্ষায় পাস ঋতব্রত! ৫৮ বিধায়কের চিঠিতে স্পিকারের সিলমোহর, বিধানসভায় অফিশিয়ালি ভাঙল তৃণমূল

Truth of Bengal: ছাব্বিশের বঙ্গে ক্ষমতা বদলের পর এবার রাজ্য রাজনীতিতে ঘটে গেল সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক ভূমিকম্প। সমস্ত জল্পনায় চূড়ান্ত সিলমোহর দিয়ে বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্রনাথ বোস স্বীকৃতি দিলেন তৃণমূলের বিক্ষুব্ধ বিধায়কদের চিঠিকে। অর্থাৎ, আইনি লড়াই ও সংখ্যাতত্ত্বের জোর দেখিয়ে বিধানসভার পরিষদীয় দলে ‘আসল মালিকানা’ ছিনিয়ে নিলেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর সঙ্গী বিধায়করা। স্পিকারের এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তের পর বিধানসভার বিরোধী দলনেতার অফিশিয়াল তকমা পেয়ে গেলেন উলুবেড়িয়ার বিধায়ক ঋতব্রত। ইতিমধ্যেই বিধানসভায় বিরোধী দলনেতার জন্য বরাদ্দ ঘরের চাবিও তাঁর হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। স্পিকারের ঘর থেকে বেরিয়েই এক জমকালো সাংবাদিক বৈঠকে ঋতব্রত ঘোষণা করেন, “আজ থেকে বিরোধী দল হিসেবে আমাদের নতুন পথচলা শুরু হল।”

“কেউ নেতা, কেউ ভৃত্য নয়, আমরা একটা টিম”

সাংবাদিক বৈঠকে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘদিনের তৈরি করা সাম্রাজ্য পতনের ইঙ্গিত দিয়ে ঋতব্রত বলেন, “অষ্টাদশ পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার তৃণমূলের যে পরিষদীয় দল, তাতে আর কোনও একনায়কতন্ত্র বা চেনা নেতা নেই। এখানে কেউ নেতা আর কেউ ভৃত্য, এই সংস্কৃতি আমরা শেষ করেছি। এটা পুরোপুরি একটা টিম। আজ পর্যন্ত এই টিমে ৫৮ জন বিধায়ক রয়েছেন, আরও ২ জন দ্রুত যোগ দেবেন।”

পরিষদীয় এই নতুন কাঠামোর পদাধিকারীদের নাম ঘোষণা করে তিনি জানান, দলের চিফ হুইপ বা মুখ্য সচেতক হচ্ছেন আখরুজ্জামান। আর উপদলনেতা হিসেবে যৌথভাবে কাজ করবেন জাভেদ খান, সাবিনা ইয়াসমিন, শিউলি সাহা ও সন্দীপন সাহা। ঋতব্রত আরও যোগ করেন, “আমরা ৫৮ জন বিধায়ক সশরীরে স্পিকারের সামনে উপস্থিত হয়ে সমর্থনের চিঠি দিয়েছিলাম। আমরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দলের পরামর্শদাতা হিসেবে চাই। তবে সরকারের চোখে চোখ রেখে যেমন গঠনমূলক বিরোধিতা করব, তেমনই ভালো কাজের প্রশংসাও করব।”

বিধানসভায় জয়, কিন্তু ‘জোড়াফুল’ প্রতীক কার?

সংখ্যাতত্ত্বের নিয়মে বিধানসভায় দলত্যাগ বিরোধী আইন এড়াতে তৃণমূলের মোট ৮০টি আসনের দুই-তৃতীয়াংশের (অর্থাৎ ৫২ জন বিধায়ক) সমর্থন প্রয়োজন ছিল। ঋতব্রতরা ৫৮ জনের সই জমা দিয়ে বিধানসভার অন্দরে অনায়াসে ‘আসল তৃণমূল’ তকমা পেয়ে গেলেও, লড়াই কিন্তু এখানেই শেষ নয়।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিধানসভার পরিষদীয় দলের রাশ হাতবদল হওয়া আর মূল রাজনৈতিক দলের নাম, প্রতীক বা সম্পত্তি ব্যবহারের অধিকার পাওয়া, দুটি সম্পূর্ণ আলাদা বিষয়। ঋতব্রতরা যদি নিজেদের সামগ্রিকভাবে ‘আসল তৃণমূল’ দাবি করতে চান, তবে এবার জল গড়াবে ভারতের নির্বাচন কমিশনের (Election Commission) দরবারে। কমিশন তখন দলের সমস্ত বিধায়ক, সাংসদ এবং সাংগঠনিক পদাধিকারীদের গোপন মতামত যাচাই করবে। সেই দীর্ঘ প্রক্রিয়ার পর কমিশনই ঠিক করবে জোড়াফুল প্রতীক মমতার কাছে থাকবে নাকি বিদ্রোহীদের ট্রফিতে পরিণত হবে। ফলে বিধানসভায় শুভেন্দু-ঋতব্রত অক্ষের বড় জয় হলেও, আসল আইনি যুদ্ধ যে সবে শুরু হলো, তা বলাই বাহুল্য।

Related Articles