গেরুয়া উত্তরীয়তে শুভেন্দুর শপথে জিৎ! তবে কি এবার রাজনীতির ময়দানে নামছেন ‘বস’?
তীব্র জল্পনার মাঝে মুখ খুললেন জিৎ! বিজেপি যোগ নাকি কেবলই সৌজন্য? সত্য জানালেন অভিনেতা
Truth of Bengal: নির্বাচনের ফলপ্রকাশের দিন থেকেই টলিপাড়ার অন্দরমহলে ঘুরপাক খাচ্ছিল একটিই প্রশ্ন, তবে কি এবার পর্দার ‘বস’ বাস্তব রাজনীতির ময়দানেও পা রাখতে চলেছেন? রবীন্দ্রজয়ন্তীর দিন বিকেলের ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ড যখন নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর শপথের সাক্ষী থাকছে, ঠিক তখনই মঞ্চে অভিনেতা জিতের উপস্থিতি সেই জল্পনার আগুনে ঘি ঢেলে দিল। সাদা পাঞ্জাবি আর কাঁধে গেরুয়া উত্তরীয়, জিতের এই সাজ দেখে অনেকেই ধরে নিয়েছিলেন যে টলিউডের এই ‘অরাজনৈতিক’ তারকা অবশেষে পদ্ম-শিবিরে নাম লিখিয়ে ফেললেন।
মৌনতা ভাঙলেন সুপারস্টার
একের পর এক ফোন এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় জল্পনা যখন চরমে, তখনই নিজের আপ্তসহায়কের মাধ্যমে জনৈক সংবাদমাধ্যমকে লিখিত বার্তা পাঠিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করলেন জিৎ। অভিনেতা জানিয়েছেন, তাঁর এই উপস্থিতির পেছনে কোনও রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা নেই।
জিৎ লিখেছেন, “জয়ী দল এবং নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী তাঁর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। তাঁকে সম্মান জানিয়ে সেই আমন্ত্রণ গ্রহণ করেছি। একই সঙ্গে তাঁকে শুভেচ্ছা জানাতে অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছি।”
২০১১-র প্রসঙ্গ টেনে মোক্ষম জবাব
শুধুমাত্র বর্তমান পরিস্থিতি নয়, জিৎ মনে করিয়ে দিয়েছেন তাঁর অতীত অবস্থানের কথাও। তিনি জানিয়েছেন, ২০১১ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রথম শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানেও তাঁকে একইভাবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল এবং সেখানেও তিনি উপস্থিত ছিলেন। জিতের স্পষ্ট দাবি, তাঁর কাছে এটি স্রেফ একটি সৌজন্যমূলক আচরণ। তিনি কোনও বিশেষ দলের প্রতিনিধি হিসেবে নয়, বরং একজন আমন্ত্রিত শিল্পী হিসেবেই সেখানে গিয়েছিলেন।
“রং দেবেন না”, অনুরোধ জিতের
বাংলার সিনেমা জগতের অন্যতম জনপ্রিয় এই অভিনেতা বিনীত অনুরোধ করেছেন, তাঁর এই উপস্থিতিতে যেন কোনও রাজনৈতিক রং লাগানো না হয়। তিনি আজও কোনও রাজনৈতিক দলের সদস্য নন এবং ভবিষ্যতেও নিজের অরাজনৈতিক ভাবমূর্তি বজায় রাখতে চান।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, টলিপাড়ার অনেক তারকাই যখন বিভিন্ন শিবিরে যোগ দিয়ে নিজেদের ভাগ্য পরীক্ষা করছেন, তখন জিৎ সুকৌশলে সৌজন্য ও রাজনীতির মধ্যে এক সূক্ষ্ম সীমারেখা টেনে দিলেন। আপাতত ‘বস’-এর ভক্তরা স্বস্তিতে যে, প্রিয় তারকা রুপোলি পর্দা ছেড়ে এখনই রাজনীতির ময়দানে স্থায়ীভাবে নামছেন না।






