‘বাংলার মহিলাদের ধোঁকা দিয়েছে তৃণমূল’, ভোটবাক্সে ‘সাজা’ দেওয়ার নিদান মোদির
“৪ মে-র পর বাংলায় বিজেপিরই মুখ্যমন্ত্রী!”, পুরুলিয়ায় দাঁড়িয়ে মমতার বিদায় ঘণ্টা বাজালেন মোদি
Truth of Bengal: পুরুলিয়ার তপ্ত রোদে দাঁড়িয়ে এবার সরাসরি পশ্চিমবঙ্গ দখলের নীল নকশা পেশ করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। প্রচারের শেষ লগ্নে দাঁড়িয়ে মোদির গলায় ঝরল আত্মবিশ্বাসের সুর। স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, ৪ মে ভোটের ফল বেরোলেই বাংলায় পদ্ম শিবিরের মুখ্যমন্ত্রী হওয়া স্রেফ সময়ের অপেক্ষা। জঙ্গলমহলের সভা থেকে তৃণমূলের ‘মহাজঙ্গলরাজ’ খতম করার ডাক দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর হুঙ্কার, “রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, ৪ মে-র পর বাংলায় বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী নিশ্চিত। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ও দেশের প্রধানমন্ত্রী দুজনেই বিজেপির হলে পুরুলিয়ার বিকাশ হবে দ্বিগুণ গতিতে।”
বিষ্ণুপুরের পর পুরুলিয়া থেকেও মহিলা সংরক্ষণ বিল ইস্যুতে তৃণমূলকে তুলোধোনা করেন মোদি। তিনি অভিযোগ করেন, সংসদে ৩৩ শতাংশ মহিলা সংরক্ষণ সুনিশ্চিত করতে চেয়েছিল কেন্দ্র, কিন্তু তৃণমূল তা হতে দেয়নি। মোদি বলেন, “সংসদে আমরা সংরক্ষণ করতে চেয়েছিলাম, তৃণমূল সেটা চায় না। তাই তারা বিরোধিতা করেছে। ভোট দেওয়ার সময় তৃণমূলের এই অপরাধের সাজা আপনাদের দিতে হবে।” প্রধানমন্ত্রীর দাবি, মহিলারা যত বেশি সংখ্যায় ক্ষমতায় আসবেন, তৃণমূলের ‘সিন্ডিকেট’ রাজ তত বিপন্ন হবে, আর সেই ভয় থেকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল সংরক্ষণে বাধা দিচ্ছে।
রাজ্যের বেকারত্ব ও শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি নিয়েও এদিন চাঁচাছোলা আক্রমণ শানান প্রধানমন্ত্রী। তাঁর মতে, পশ্চিমবঙ্গে বেকারত্ব এখন এক ভয়াবহ সঙ্কটে দাঁড়িয়েছে। নিয়োগ দুর্নীতিতে যোগ্য যুবকদের স্বপ্ন চুরির প্রসঙ্গ তুলে মোদি বলেন, “তৃণমূল জঙ্গলরাজ ছাড়া আর কিছু দিতে পারেনি। কাটমানি ছাড়া এখানে কোনও কাজ হয় না। কাটমানি আর মাফিয়াদের মেলা চললে শিল্প আসবে কোত্থেকে? তাই এখানকার শিল্প আজ বেহাল।” তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, বিজেপি ক্ষমতায় এলে জঙ্গলমহল থেকে এই কাটমানির খেলা চিরতরে বন্ধ হবে।
আদিবাসী জেলাগুলিতে অনুন্নয়ন এবং পানীয় জলের সমস্যা নিয়ে মমতার সরকারকে কড়া ভাষায় বিঁধেছেন প্রধানমন্ত্রী। অযোধ্যা পাহাড় ও সীতাকুণ্ডের মতো পবিত্র ভূমিতেও মানুষ কেন জলের জন্য হাহাকার করছে, সেই প্রশ্ন তুলে মোদীর তোপ, “তৃণমূলের নির্মম সরকার শুধু লুটে যাচ্ছে আর লুটেরাদের বাঁচাচ্ছে। আদিবাসীদের জমি আজ সিন্ডিকেটের দখলে।” বিপরীতে, আদিবাসী সমাজকে বিজেপিই যোগ্য সম্মান দিয়েছে দাবি করে তিনি মনে করিয়ে দেন, বীরসা মুণ্ডার স্বীকৃতি থেকে শুরু করে দেশের প্রথম আদিবাসী রাষ্ট্রপতি দেওয়া, সবটাই বিজেপির সৌজন্যে হয়েছে। সব মিলিয়ে, পুরুলিয়ার মাটি থেকে তৃণমূলকে সমূলে উপড়ে ফেলার ডাক দিয়ে বাংলায় নতুন সূর্যোদয়ের বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী।






