টাকা নিয়েছেন কিন্তু ছবি করেননি! তৃণমূল বিধায়ক সোহম চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে হাইকোর্টে মামলা
নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় জেল খাটা শাহিদ ইমামের এই মামলাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে শোরগোল পড়ে গিয়েছে।
Truth of Bengal: বিধানসভা নির্বাচনের মুখে বড়সড় আইনি বিপাকে পড়লেন তৃণমূল কংগ্রেসের তারকা প্রার্থী তথা অভিনেতা সোহম চক্রবর্তী। করিমপুর কেন্দ্রের এই প্রার্থীর বিরুদ্ধে আর্থিক প্রতারণার গুরুতর অভিযোগ তুলে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন শাহিদ ইমাম নামে এক ব্যক্তি। অভিযোগ, ছবি তৈরির নাম করে কয়েক লক্ষ টাকা নিলেও তা আর ফেরত দেননি অভিনেতা। নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় জেল খাটা শাহিদ ইমামের এই মামলাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। আগামী সপ্তাহে বিচারপতি গৌরাঙ্গ কান্তের এজলাসে এই মামলার শুনানির সম্ভাবনা রয়েছে।
মামলাকারীর দাবি অনুযায়ী, ২০২১ সালে একটি চলচ্চিত্র নির্মাণের বিষয়ে সোহম চক্রবর্তীর সঙ্গে এক কোটি টাকার চুক্তি হয়েছিল তাঁর। সেই চুক্তি মোতাবেক অভিনেতা ধাপে ধাপে মোট ৬৮ লক্ষ টাকা গ্রহণ করেছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই ছবি তৈরি হয়নি এবং সোহম ওই টাকাও ফেরত দেননি বলে অভিযোগ। শাহিদ ইমাম জানিয়েছেন, তিনি যখন টাকা ধার দিয়েছিলেন তখন তিনিও যুব তৃণমূলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ২০২২ সালে নিয়োগ দুর্নীতিতে গ্রেফতার হয়ে দু’বছর জেল খাটার পর জামিনে মুক্ত হয়ে তিনি সোহমের কাছে পাওনা টাকা ফেরত চান। কিন্তু টাকা ফেরত না পেয়ে এবং উল্টে হুমকির মুখে পড়ে তিনি আদালতের শরণাপন্ন হতে বাধ্য হন।
এর আগেও এই বিষয়টি নিয়ে আদালত উভয় পক্ষকে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা মিটিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। তবে তাতে কোনো সুরাহা না হওয়ায় এবার নতুন করে আর্থিক তছরুপের মামলা দায়ের করেছেন শাহিদ। ভোটের মুখে খোদ প্রার্থীর বিরুদ্ধে এমন চঞ্চল্যকর অভিযোগ ওঠায় অস্বস্তিতে পড়েছে শাসক শিবির। চণ্ডীপুরের বিদায়ী বিধায়ক সোহমকে এবার নদিয়ার করিমপুর থেকে টিকিট দিয়েছে তৃণমূল। ঠিক এই সময়েই তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা প্রতারণার অভিযোগকে হাতিয়ার করে আসরে নেমেছে বিজেপি।
করিমপুরের বিজেপি প্রার্থী সমরেন্দ্রনাথ ঘোষ এই ঘটনার তীব্র সমালোচনা করে জানিয়েছেন, যিনি নিজ দলের কর্মীদের সঙ্গেই এমন আর্থিক কেলেঙ্কারি করতে পারেন, তিনি বিধায়ক হলে সাধারণ মানুষের অবস্থা কী হবে তা সহজেই অনুমেয়। করিমপুরের মানুষ দুর্নীতিগ্রস্ত কাউকে ভোট দেবেন না বলেও তিনি দাবি করেন। অন্যদিকে, তৃণমূলের স্থানীয় নেতৃত্ব এই অভিযোগকে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র হিসেবেই দেখছে। করিমপুর ২ ব্লক সভাপতি সৌমেন বিশ্বাসের মতে, ভোটের আগে প্রার্থীর ভাবমূর্তি কালিমালিপ্ত করতেই পুরনো বিষয় নিয়ে জলঘোলা করা হচ্ছে। আদালতের রায়ের দিকেই এখন তাকিয়ে রয়েছে রাজনৈতিক মহল।






