রাজ্যের খবর

ধসে বিধ্বস্ত উত্তর সিকিম, চুংথাংয়ে আটকে শয়ে শয়ে পর্যটক, জারি লাল সতর্কতা

পরিস্থিতি সামাল দিতে স্থানীয় প্রশাসন ও উদ্ধারকারী দল দ্রুত কাজ শুরু করলেও আবহাওয়ার খামখেয়ালিপনায় উদ্ধারকাজ ব্যাহত হচ্ছে।

Truth of Bengal: প্রবল বর্ষণ আর তার জেরে পাহাড়জুড়ে নামা ধসে কার্যত বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে উত্তর সিকিম। প্রকৃতির রোষে পড়ে বর্তমানে বিপাকে পড়েছেন কয়েক’শ পর্যটক। ধসের কারণে রাস্তা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় লাচেনগামী বহু পর্যটক এই মুহূর্তে চুংথাং এলাকায় আটকে রয়েছেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে স্থানীয় প্রশাসন ও উদ্ধারকারী দল দ্রুত কাজ শুরু করলেও আবহাওয়ার খামখেয়ালিপনায় উদ্ধারকাজ ব্যাহত হচ্ছে।

উত্তর সিকিমের গ্যাংটক থেকে লাচেন এবং চুংথাং থেকে লাচেন যাওয়ার পথে একাধিক জায়গায় বড়সড় ধস নেমেছে। এর ফলে পর্যটকদের গাড়িগুলি মাঝপথেই থমকে যায়। জেলাশাসক জৈন জানিয়েছেন, আটকে পড়া পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। তাঁদের জন্য স্থানীয় আইটিবিপি (ITBP) শিবির এবং গুরুদ্বারে থাকার সুবন্দোবস্ত করা হয়েছে। তবে স্বস্তির খবর এই যে, লাচুং যাওয়ার পথে যে ধস নেমেছিল, তা ইতিমধ্যেই সরিয়ে ফেলা হয়েছে। ফলে লাচুং থেকে পর্যটকরা ধীরে ধীরে গ্যাংটকের দিকে ফিরতে শুরু করেছেন। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, আকাশ পরিষ্কার হলেই এবং ধস পুরোপুরি সরানো সম্ভব হলেই পর্যটকদের পুনরায় যাতায়াতের অনুমতি দেওয়া হবে। সিকিমের এই দুর্যোগের মধ্যেই প্রতিবেশী রাজ্য পশ্চিমবঙ্গের উত্তরভাগ নিয়েও আশঙ্কার কথা শুনিয়েছে আলিপুর আবহাওয়া দফতর। আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ৩১ মার্চ পর্যন্ত উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিতে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাত চলবে। তবে বিপদের মাত্রা বাড়তে পারে ২৭ মার্চ। ওই দিন দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার ও কোচবিহারে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির লাল সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

বৃষ্টির পাশাপাশি ঝোড়ো হাওয়ার দাপটও দেখা দেবে বলে জানিয়েছে হাওয়া অফিস। আগামী ২৮ ও ২৯ মার্চ উত্তরবঙ্গের এই জেলাগুলিতে ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে আবহাওয়া দফতর এবং সিকিম প্রশাসন। আপাতত পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন পাহাড়ে আটকে থাকা সাধারণ মানুষ।

Related Articles