দুবরাজপুরে উত্তপ্ত পরিবেশ, পৌরপ্রধানের অনুরাগীদের বিরুদ্ধে চরম দুর্ব্যবহারের অভিযোগ
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইসলামপুর পৌরসভা চত্বরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে
পার্থ দাস,বীরভূম: বীরভূমের দুবরাজপুর পৌরসভায় উত্তপ্ত পরিস্থিতি। পৌর প্রধানের অনুগামীদের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের সাথে দুবরাজপুর পৌরসভার চত্বরেই চরম দুর্ব্যবহার এবং মারধরের অভিযোগ উঠল। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইসলামপুর পৌরসভা চত্বরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ যে তারা তাদের দীর্ঘদিনের সমস্যা নিয়ে কথা বলতে গেলে চেয়ারম্যানের অনুগামীরা তাদের ওপর চড়াও হয়।
এলাকাবাসীদের দাবি অনুযায়ী ইসলামপুর পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ডাঙালপাড়া এলাকায় অবস্থিত একটি কিলখানা দীর্ঘদিন ধরে অত্যন্ত নোংরা অবস্থায় রয়েছে। সেখান থেকে নির্গত পচা দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এলাকাবাসীর বক্তব্য যে এই অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের কারণে সেখানে বসবাস করা দায় হয়ে পড়েছে। এই সমস্যার স্থায়ী সমাধানের জন্য তারা এর আগে প্রায় ১০ থেকে ১২ বার চেয়ারম্যান ও ইও-কে লিখিতভাবে জানিয়েছিলেন। কিন্তু বারবার জানানো সত্ত্বেও কোনো সুরাহা না হওয়ায় আজ বেশ কয়েকজন এলাকাবাসী পুনরায় চেয়ারম্যানের সাথে দেখা করতে যান।
অভিযোগকারী শেখ আমিরুলের দাবি তারা যখন চেয়ারম্যানের কাছে বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে যান তখন চেয়ারম্যান সমাধানের পরিবর্তে তাদের সাথে অত্যন্ত খারাপ ব্যবহার করেন। এমনকি চেয়ারম্যান এলাকাবাসীকে পাল্টা প্রশ্ন করেন যে কেন তারা সেখানে বাড়ি করেছেন। অভিযোগ আরও জোরালো হয় যখন শেখ আলাউদ্দিন জানান যে চেয়ারম্যানের সাথে কথা বলার সময় তাঁর ভাই এবং অনুগামীরা স্থানীয় ছেলেদের ধাক্কা মেরে বের করে দেন এবং একজনকে মারধর করা হয়। আমিরুলের কথায় তারা নিজেরাও তৃণমূল কর্মী এবং দলকে ভালোবাসেন কিন্তু পৌরসভার ভেতরে গুন্ডা পুষে রেখে সাধারণ মানুষের ওপর এমন আচরণ কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা জানিয়েছেন যে এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে তারা বৃহত্তর আন্দোলনে নামবেন কারণ ইসলামপুর সব সময় ভোটে লিড দিয়ে তৃণমূলকে এগিয়ে রাখে। জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে জনগণের সাথে এমন আচরণ বরদাস্ত করা হবে না বলে তারা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন।
অন্যদিকে যাবতীয় অভিযোগ অস্বীকার করেছেন পৌর প্রধান পীযূষ পাণ্ডে। তিনি জানান যে দুবরাজপুর পৌরসভার আট নম্বর ওয়ার্ডে ইসলামপুরে একটি কিলখানা রয়েছে এবং সেটি সরিয়ে দেওয়ার দাবি নিয়ে কয়েকজন যুবক এসেছিল। তাঁর দাবি এই কিলখানাটি অনেক আগে তৈরি হয়েছে এবং বাসিন্দারা পরবর্তী সময়ে সেখানে বাড়ি করেছেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে কিলখানাটি সেখান থেকে সরানো সম্ভব নয় তবে পৌরসভার পক্ষ থেকে সেটি নিয়মিত পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখার আশ্বাস তিনি দিয়েছিলেন। পৌর প্রধানের পাল্টা দাবি যে এই কথা বলার সময় আন্দোলনকারী যুবকরাই তাঁকে মারতে উদ্যত হয় এবং আঙুল উঁচিয়ে অশালীন ভাষায় কথা বলে। সেই সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পৌরসভার কর্মীরাই তাদের বুঝিয়ে বাইরে বের করে দেন। ইসলামপুরের মানুষদের প্রতি শ্রদ্ধা থাকলেও এমন ঘটনায় তিনি ব্যক্তিগতভাবে অত্যন্ত অপমানিত বোধ করছেন বলে জানিয়েছেন।






