শীর্ষ আদালতে নির্বাচন কমিশন ও সিইও-র বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করলেন মুখ্যমন্ত্রী
সুপ্রিম কোর্ট সূত্রে খবর, আগামী বুধবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হতে পারে।
Truth Of Bengal: ভারতের নির্বাচন কমিশন এবং পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও)-র বিরুদ্ধে সরাসরি আইনি যুদ্ধ ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনী (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় অসঙ্গতির অভিযোগ তুলে দেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্টে মামলা দায়ের করেছেন তিনি। রবিবার এই মামলার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই জাতীয় রাজনীতিতে তোলপাড় শুরু হয়েছে। সোমবার দিল্লিতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর নির্ধারিত বৈঠক রয়েছে, তবে তার আগেই আদালতের দ্বারস্থ হওয়ায় কমিশন ও নবান্নের সংঘাত চরমে পৌঁছাল বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
সুপ্রিম কোর্ট সূত্রে খবর, আগামী বুধবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হতে পারে। উল্লেখ্য, এই একই ইস্যুতে তৃণমূলের দুই রাজ্যসভার সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন ও দোলা সেন এবং কৃষ্ণনগরের সাংসদ মহুয়া মৈত্র আগেই আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। বুধবার ডেরেক ও দোলার মামলার শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে, যার সঙ্গেই মুখ্যমন্ত্রীর মামলাটিও যুক্ত হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে নিজের আপত্তির কথা জানিয়ে ইতিপূর্বেই নির্বাচন কমিশনকে ছ’টি চিঠি পাঠিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবারের বৈঠকের ঠিক ৪৮ ঘণ্টা আগে শনিবার সন্ধ্যায় মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে আরও একটি কড়া চিঠি পাঠান তিনি। সেই চিঠিতে স্পষ্ট অভিযোগ করা হয়েছে যে, নির্বাচন কমিশন জনপ্রতিনিধিত্ব আইনের বিধি লঙ্ঘন করছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, দিল্লিতে সশরীরে সাক্ষাতের আগে চিঠির মাধ্যমে তথ্য তুলে ধরা এবং সুপ্রিম কোর্টে মামলা করে জ্ঞানেশ কুমারের ওপর মানসিক ও আইনি চাপ তৈরি করতে চাইছেন মুখ্যমন্ত্রী।
মুখ্যমন্ত্রীর প্রধান অভিযোগ হলো, মানবিক দৃষ্টিভঙ্গিকে তোয়াক্কা না করেই আইন বহির্ভূতভাবে এই সংশোধনী প্রক্রিয়া চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেছেন যে, ভারতের নির্বাচনী ইতিহাসে এই প্রথমবার পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর পরিচালনার জন্য প্রায় ৮,১০০ জন ‘মাইক্রো-অবজ়ারভার’ নিয়োগ করেছে কমিশন। মমতার দাবি, এই অবজ়ারভারদের যথাযথ প্রশিক্ষণ নেই এবং এই ধরনের সংবেদনশীল আইনি প্রক্রিয়া সামলানোর মতো যোগ্যতাও তাঁদের নেই। তাসত্ত্বেও একতরফাভাবে তাঁদের নিয়োগ করে পুরো প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতাকেই নষ্ট করা হয়েছে।
আইনি ব্যাখ্যা দিয়ে মমতা আরও জানিয়েছেন যে, জনপ্রতিনিধিত্ব আইন (১৯৫০ বা ১৯৬০)—কোথাও এই মাইক্রো-অবজ়ারভারদের এমন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা বা সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতার উল্লেখ নেই। আইন অনুযায়ী, ভোটার তালিকা রক্ষণাবেক্ষণ বা অন্তর্ভুক্তির চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার একচ্ছত্র অধিকার কেবল ইআরও (ERO) এবং এইআরও (AERO)-দের হাতেই ন্যস্ত। সেখানে এই নতুন স্তরের কর্মীদের হস্তক্ষেপ সম্পূর্ণ বেআইনি। এখন সোমবার দিল্লিতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে বৈঠকের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পরবর্তী কী পদক্ষেপ নেন, সেদিকেই নজর রয়েছে রাজনৈতিক মহলের।






