মেয়েদের সুরক্ষায় ‘সুরক্ষাকবচ’! জরায়ুমুখের ক্যানসার রুখতে বড় ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর
প্রধানমন্ত্রী এই অভিযানের গুরুত্ব তুলে ধরে জানান, আজমের থেকে এই টিকাকরণ কর্মসূচির সূচনা করতে পেরে তিনি অত্যন্ত আনন্দিত।
Truth of Bengal: সার্ভাইকাল ক্যানসার বা জরায়ুমুখের ক্যানসার প্রতিরোধে এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ নিল ভারত। ২৮ ফেব্রুয়ারি রাজস্থানের আজমের থেকে মেয়েদের জন্য দেশব্যাপী হিউম্যান প্যাপিলোমাভাইরাস (HPV) টিকাকরণ অভিযানের সূচনা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এই কর্মসূচির লক্ষ্য হল দেশের কিশোরীদের মরণব্যাধি ক্যানসারের হাত থেকে সুরক্ষা প্রদান করা এবং তাদের সুস্বাস্থ্যের পথ প্রশস্ত করা। প্রধানমন্ত্রী এই অভিযানের গুরুত্ব তুলে ধরে জানান, আজমের থেকে এই টিকাকরণ কর্মসূচির সূচনা করতে পেরে তিনি অত্যন্ত আনন্দিত। তিনি বলেন যে এই অভিযান দেশের মেয়েদের শারীরিকভাবে আরও শক্তিশালী করে তুলবে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ (পূর্বতন টুইটার) একটি বার্তায় তিনি উল্লেখ করেন যে, এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো জরায়ুমুখের ক্যানসার প্রতিরোধ করা।
देश की बेटियां स्वस्थ और समृद्ध हों, इसके लिए हम कोई कोर-कसर नहीं छोड़ रहे हैं। इसी दिशा में आज सुबह करीब 11:30 बजे राजस्थान के अजमेर में एचपीवी टीकाकरण के देशव्यापी अभियान का शुभारंभ करूंगा। इस पहल का उद्देश्य सर्वाइकल कैंसर की रोकथाम है। इस दौरान कई परियोजनाओं के शिलान्यास और…
— Narendra Modi (@narendramodi) February 28, 2026
টিকাকরণ কর্মসূচির বিস্তারিত তথ্য
এই অভিযানের আওতায় ১৪ বছর বয়সী মেয়েদের ‘গার্ডাসিল ৪’ (Gardasil 4) নামক একটি কোয়াড্রিভ্যালেন্ট এইচপিভি টিকা দেওয়া হবে। এই টিকাটি মূলত এইচপিভি টাইপ ১৬ এবং ১৮-এর বিরুদ্ধে কাজ করে, যা জরায়ুমুখের ক্যানসারের প্রধান কারণ। এর পাশাপাশি এটি এইচপিভি টাইপ ৬ এবং ১১ থেকেও সুরক্ষা প্রদান করে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, প্রতি বছর দেশের বিভিন্ন রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের প্রায় ১.১৫ কোটি কিশোরীকে এই কর্মসূচির আওতায় আনা হবে। নির্দিষ্ট সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে এই টিকা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে পাওয়া যাবে।
কীভাবে চলবে এই অভিযান?
পুরো কর্মসূচিটি একটি বিশেষ ‘মিশন মোডে’ পরিচালনা করা হবে। আগামী তিন মাস পর্যন্ত নির্দিষ্ট স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে প্রতিদিন এই টিকা দেওয়ার ব্যবস্থা থাকবে। এই প্রাথমিক পর্যায়ের পর, নিয়মিত টিকাকরণ দিনগুলোতেও টিকাটি পাওয়া যাবে। আয়ুষ্মান আরোগ্য মন্দির (প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র), কমিউনিটি হেলথ সেন্টার, জেলা হাসপাতাল এবং সরকারি মেডিকেল কলেজগুলোতে এই টিকাকরণ প্রক্রিয়া চলবে। প্রতিটি সেশন দক্ষ স্বাস্থ্যকর্মী এবং প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত মেডিকেল অফিসারদের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হবে। টিকার গুণমান বজায় রাখতে কোল্ড চেইন পয়েন্টের সুব্যবস্থা রাখা হয়েছে এবং যেকোনো জরুরি পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া (AEFI) মোকাবিলায় কেন্দ্রগুলোকে ২৪ ঘণ্টা সরকারি হাসপাতালের সঙ্গে যুক্ত রাখা হবে।
টিকা নেওয়ার নিয়ম ও সচেতনতা
এই টিকাকরণ প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ স্বেচ্ছামূলক। টিকা দেওয়ার আগে অভিভাবক বা যত্নদাতার কাছ থেকে লিখিত সম্মতি নেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে ভারত এখন বিশ্বের সেই ১৬০টিরও বেশি দেশের তালিকায় নাম লেখাল, যেখানে এইচপিভি টিকাকরণ সরকারিভাবে চালু রয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) মতে, এইচপিভি একটি অত্যন্ত সাধারণ সংক্রমণ যা যৌন সংসর্গের মাধ্যমে ছড়ায়। অধিকাংশ ক্ষেত্রে কোনো উপসর্গ ছাড়াই এটি শরীরে বাসা বাঁধে এবং অনেক সময় নিজে থেকেই সেরে যায়। তবে কিছু ক্ষেত্রে এই সংক্রমণ দীর্ঘস্থায়ী হয়ে ক্যানসারের রূপ নিতে পারে।
১৪ বছর বয়স কেন গুরুত্বপূর্ণ?
চিকিৎসকদের মতে, ভাইরাসের সংস্পর্শে আসার আগেই এই টিকা নেওয়া সবচেয়ে বেশি কার্যকর। ১৪ বছর বয়সে টিকা দিলে শরীরে দীর্ঘমেয়াদী রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হয়, যা ভবিষ্যতে জরায়ুমুখের ক্যানসারের ঝুঁকি অনেকাংশে কমিয়ে দেয়। দেশি-বিদেশি বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, এই বয়সের কিশোরীদের ক্ষেত্রে টিকার একটি ডোজই অত্যন্ত কার্যকর এবং টেকসই সুরক্ষা প্রদান করতে সক্ষম।






