রাজীব কুমারকে দমদম-ব্যারাকপুর সাংগঠনিক জেলার গণনা পর্যবেক্ষক হিসেবে নিয়োগ করল তৃণমূল
নির্বাচনের ফলপ্রকাশের দিন গণনা প্রক্রিয়ার ওপর কড়া নজরদারি রাখার লক্ষ্যে রাজীব কুমারের মতো গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্বকে দায়িত্ব দিয়ে শাসকদল বিশেষ বার্তা দিতে চাইল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
Truth of Bengal: বিধানসভা নির্বাচনের ভোটগণনার আগে বড়সড় সাংগঠনিক রদবদল ও কৌশল নির্ধারণ করল তৃণমূল কংগ্রেস। রাজ্যের প্রাক্তন ডিজিপি এবং বর্তমান রাজ্যসভার সাংসদ রাজীব কুমারকে দমদম-ব্যারাকপুর সাংগঠনিক জেলার গণনা পর্যবেক্ষক হিসেবে নিয়োগ করল দল। শনিবার দলের কাউন্টিং এজেন্টদের সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বৈঠকে এই দায়িত্বের কথা ঘোষণা করা হয়। নির্বাচনের ফলপ্রকাশের দিন গণনা প্রক্রিয়ার ওপর কড়া নজরদারি রাখার লক্ষ্যে রাজীব কুমারের মতো গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্বকে দায়িত্ব দিয়ে শাসকদল বিশেষ বার্তা দিতে চাইল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
শনিবারের এই বৈঠকে শুধু রাজীব কুমারই নন, জেলাভিত্তিক আরও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষক নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তৃণমূল সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘাটাল সাংগঠনিক জেলার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে অভিনেতা-সাংসদ দীপক অধিকারী বা দেবকে এবং মেদিনীপুর সাংগঠনিক জেলার গণনা পর্যবেক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন জুন মালিয়া। নির্বাচনের চূড়ান্ত পর্যায়ে দলীয় কর্মীদের মনোবল চাঙ্গা রাখতে এবং গণনা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে রাজ্য জুড়ে জেলা ধরে ধরে এই পর্যবেক্ষক নিয়োগের পরিকল্পনা করেছে শীর্ষ নেতৃত্ব।
উল্লেখ্য, এই কৌশল তৃণমূলের কাছে নতুন নয়। গত লোকসভা নির্বাচনেও নির্দিষ্ট কিছু আসনে বিশেষ পর্যবেক্ষক নিয়োগের ফর্মুলা ব্যবহার করেছিল দল। অভিষেকের পরিকল্পনায় সেই সময় তমলুকে রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়, আরামবাগে শান্তনু সেন এবং বাঁকুড়ায় সমীর চক্রবর্তীকে পর্যবেক্ষক হিসেবে পাঠানো হয়েছিল। এবার বিধানসভা নির্বাচনেও সেই একই পথে হেঁটে জেলাওয়াড়ি পর্যবেক্ষক নিয়োগ করে সংগঠনকে আরও মজবুত করতে চাইছে তৃণমূল।
শনিবারের ওই বৈঠকের মূল লক্ষ্য ছিল কাউন্টিং এজেন্টদের আগামী ৪ মের জন্য প্রস্তুত করা। বুথফেরত সমীক্ষা নিয়ে যেন কর্মীরা কোনোভাবেই বিভ্রান্ত বা হতাশ না হন, সেই বার্তাও দিয়েছেন দলনেত্রী ও অভিষেক। তাঁদের মতে, শেয়ার বাজার চাঙ্গা করতেই বুথফেরত সমীক্ষাগুলোতে বিজেপিকে এগিয়ে রাখা হয়েছে, যা ২০২১ বিধানসভা ও ২০২৪ লোকসভা নির্বাচনেও করা হয়েছিল।
প্রসঙ্গত, গত ৩১ জানুয়ারি রাজ্য পুলিশের ভারপ্রাপ্ত ডিজির পদ থেকে অবসর নেওয়ার পর, ২৭ ফেব্রুয়ারি তৃণমূলের পক্ষ থেকে রাজীব কুমারকে রাজ্যসভার প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়। চলতি মাসের ৭ তারিখ তিনি রাজ্যসভার সাংসদ হিসেবে শপথ নেন। প্রাক্তন পুলিশপ্রধান হিসেবে নিজের দীর্ঘ অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে দমদম-ব্যারাকপুর জেলায় তৃণমূলের সাংগঠনিক লড়াইয়ে কতটা প্রভাব ফেলতে পারেন, এখন সেটাই দেখার। উল্লেখ্য, তৃণমূলের সদস্য হওয়ার পর এটিই তাঁর প্রথম কোনো সাংগঠনিক দায়িত্ব।





