দেশরাজ্যের খবর

উত্তরবঙ্গ ও সিকিমে অনুভূত তীব্র কম্পন, আতঙ্কে পর্যটকরা

সিকিমে এর তীব্রতা বেশি থাকলেও তার প্রভাব এসে পড়ে পশ্চিমবঙ্গের উত্তরের জেলাগুলিতেও

Truth of Bengal: বৃহস্পতিবার বেলা বাড়তেই ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল উত্তরবঙ্গ ও সিকিমের বিস্তীর্ণ এলাকা। সকাল ১১টা ৩৪ মিনিট নাগাদ এই কম্পন অনুভূত হয়। আবহাওয়া দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, ভূমিকম্পের উৎসস্থল ছিল সিকিমের গিয়ালশিং এলাকা। রিখটার স্কেলে এই কম্পনের মাত্রা ছিল ৪.৬। ভূ-পৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার গভীরে এই কম্পন তৈরি হয়েছিল বলে প্রাথমিক তথ্যে জানা গিয়েছে। সিকিমে এর তীব্রতা বেশি থাকলেও তার প্রভাব এসে পড়ে পশ্চিমবঙ্গের উত্তরের জেলাগুলিতেও।

জলপাইগুড়ি, দার্জিলিং এবং শিলিগুড়ির বিভিন্ন অংশে মৃদু কম্পন অনুভূত হয়েছে। তবে কম্পনের মাত্রা খুব বেশি না হওয়ায় বড় ধরনের কোনও ক্ষয়ক্ষতির খবর এখনও মেলেনি। সাধারণ মানুষের মধ্যে সাময়িক চাঞ্চল্য তৈরি হলেও পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হয়ে যায়। উল্লেখ্য, চলতি ফেব্রুয়ারি মাসে এই নিয়ে বারবার কেঁপে উঠল পাহাড়। গত ৫ থেকে ৭ ফেব্রুয়ারির মধ্যে সিকিমে অন্তত ১৩ বার ছোট-বড় কম্পন অনুভূত হয়েছিল, যার উৎস ছিল রাবাংলা থেকে ৮ কিলোমিটার দক্ষিণে।বর্তমানে সিকিম পর্যটনের ভরা মরসুম চলছে। প্রচুর পর্যটক এই মুহূর্তে পাহাড়ে অবস্থান করছেন। বারবার এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ঘটনায় পর্যটকদের মনে কিছুটা আশঙ্কার সৃষ্টি হয়েছে। যদিও সিকিম প্রশাসনের পক্ষ থেকে পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের আশ্বস্ত করে জানানো হয়েছে যে, আতঙ্কিত হওয়ার মতো পরিস্থিতি নেই। তবে ভৌগোলিক দিক থেকে সিকিমকে বর্তমানে সিসমিক জ়োন ৬-এর অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা অত্যন্ত সংবেদনশীল হিসেবে পরিচিত।

ভূমিকম্পের পাশাপাশি আবহাওয়াও কিছুটা প্রতিকূল হয়ে দাঁড়িয়েছে হিমালয় সংলগ্ন এই রাজ্যে। গত দু’দিন ধরে ভারী তুষারপাতের ফলে পূর্ব ও উত্তর সিকিমের জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। ছাঙ্গু লেক এবং ১৫ মাইল সংলগ্ন এলাকায় তুষারপাতের কারণে প্রায় তিন হাজার পর্যটক আটকে পড়েছিলেন। সিকিম প্রশাসন অত্যন্ত তৎপরতার সঙ্গে উদ্ধারকাজ চালিয়ে তাঁদের নিরাপদ স্থানে নামিয়ে আনার ব্যবস্থা করেছে। প্রতিকূল পরিস্থিতির মোকাবিলায় প্রশাসন সবরকমভাবে সতর্ক রয়েছে।

Related Articles