দেশ

মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে বেনজির সংঘাত! পাল্টা হুঁশিয়ারি নির্বাচন কমিশনের

পাল্টা বিবৃতি জারি করে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে নির্বাচন কমিশনও

Truth of Bengal: দিল্লির নির্বাচন সদনে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বৈঠককে কেন্দ্র করে নজিরবিহীন সংঘাতের সৃষ্টি হলো। বৈঠক শেষে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন কমিশনের বিরুদ্ধে ‘অসম্মান’ ও ‘অহঙ্কারে’র অভিযোগ তুলে সরব হয়েছেন, তখন পাল্টা বিবৃতি জারি করে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে নির্বাচন কমিশনও।

মঙ্গলবার বিকেলে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়সহ ১৫ জনের প্রতিনিধি দল নিয়ে নির্বাচন সদনে যান মুখ্যমন্ত্রী। এক ঘণ্টার বৈঠক শেষে বেরিয়ে এসে ক্ষোভ উগরে দেন তিনি। মমতা বলেন, “আমি দীর্ঘকাল দিল্লিতে রাজনীতি করেছি, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ছিলাম। কিন্তু এমন অহঙ্কারী কমিশন আগে দেখিনি। আমাদের প্রশ্নের কোনো সদুত্তর মেলেনি, উল্টে অপমান করা হয়েছে।” তাঁর অভিযোগ, বিজেপির ইশারায় কাজ করে বাংলার প্রায় ৫৮ লক্ষ মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এই অপমানের প্রতিবাদে বৈঠক বয়কট করে বেরিয়ে আসেন তিনি। তৃণমূলের ‘অসম্মানে’র অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে কমিশন তাদের বিবৃতিতে জানিয়েছে, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন। তবে একই সঙ্গে বাংলায় আইনের শাসন বজায় রাখা নিয়ে কড়া বার্তা দিয়েছে কমিশন। তাদের সাফ কথা, কেউ আইন নিজের হাতে তুলে নিলে সাংবিধানিক ক্ষমতা প্রয়োগ করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিবৃতিতে নাম না করে ফরাক্কার তৃণমূল বিধায়ক মনিরুল ইসলামের প্রসঙ্গ টেনেছে কমিশন। সম্প্রতি বিডিও অফিসে ভাঙচুর এবং কমিশনকে নিয়ে ‘কুরুচিকর’ মন্তব্যের প্রেক্ষিতে কমিশন জানিয়েছে, জনপ্রতিনিধিদের অশালীন ও হুমকির ভাষা বরদাস্ত করা হবে না। এসআইআর (SIR) কাজে নিযুক্ত আধিকারিকদের ওপর চাপ সৃষ্টি বা হস্তক্ষেপ করা অনুচিত বলেও মনে করে কমিশন। কমিশন তাদের বিবৃতিতে ফের একবার অভিযোগ করেছে যে, বুথ লেভেল অফিসার বা বিএলও (BLO)-দের সাম্মানিকের টাকা রাজ্য সরকার আটকে রেখেছে। এর আগেও এই বিষয়টি নিয়ে নবান্নের সঙ্গে রাজভবন ও কমিশনের টানাপোড়েন চলেছিল।

Related Articles