রাজ্যের খবর

ভোটের আগে কলকাতা পুলিশে বড়সড় রদবদল, কমিশনের নির্দেশিকা

একাধিক থানার আইসি এবং ওসি পদেও পরিবর্তন আনা হয়েছে

Truth Of Bengal: আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতা সুনিশ্চিত করতে বড়সড় রদবদল ঘটাল ভারতের নির্বাচন কমিশন। শনিবার কমিশনের এক বিশেষ নির্দেশিকায় কলকাতা পুলিশের একাধিক শীর্ষ পদসহ মোট ১২ জন পুলিশ কর্তাকে বদলি করা হয়েছে। এই তালিকায় ১১ জন আইপিএস এবং একজন ডব্লিউবিপিএস অফিসার রয়েছেন। মূলত নিরপেক্ষ নির্বাচন পরিচালনা এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে নিশ্ছিদ্র করতেই এই কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

নির্বাচন কমিশনের জারি করা নতুন বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা ও সদর দপ্তরে বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। সিআইডি-র ডিআইজি পদে থাকা সোমা দাসকে কলকাতা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার (ক্রাইম) হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে ডিআইজি (পার্সোনাল) সুদীপ সরকারকে লালবাজারের যুগ্ম কমিশনার (সদর) পদে আনা হয়েছে। ইন্টেলিজেন্স বা গোয়েন্দা বিভাগের দায়িত্ব সামলাবেন এসটিএফ-এর ডিআইজি পদে থাকা দেবাশিস দাস। তিনি কলকাতা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার (ইন্টেলিজেন্স) হিসেবে নিযুক্ত হয়েছেন।

শুধু লালবাজারের শীর্ষ পদ নয়, রদবদলের হাওয়া লেগেছে শহর ও জেলার অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিভাগেও। উত্তর, দক্ষিণ এবং দক্ষিণ-পূর্ব—কলকাতার এই তিন প্রধান ডিভিশনের ডিসি পদমর্যাদার অফিসারদেরও বদলি করা হয়েছে। এছাড়া জেলার আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে বিশেষ নজর দিয়ে মুর্শিদাবাদের বেলডাঙার এসডিপিও-কে সরানোর নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। এর পাশাপাশি বিভিন্ন স্পর্শকাতর এলাকার একাধিক থানার আইসি এবং ওসি পদেও পরিবর্তন আনা হয়েছে।

কমিশন সূত্রে জানানো হয়েছে, প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা বজায় রাখা এবং ভোটের সময় কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতেই এই রদবদল জরুরি ছিল। বদলি হওয়া আধিকারিকদের অবিলম্বে তাঁদের পুরনো দায়িত্ব ছেড়ে নতুন দপ্তরে যোগ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে নির্বাচন প্রক্রিয়ার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত কোনো কাজে তাঁদের আর রাখা হবে না বলেও বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট করা হয়েছে। ভোটের আগে পুলিশের এই মেগা রদবদল নির্বাচনী উত্তাপকে আরও বাড়িয়ে দিল বলেই মত রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের।

Related Articles