খেলা

বিশ্বকাপের মঞ্চে শেফালি যেন মনে করাল টপ ফর্মের বীরুকে

ক্রিকেট যে কতটা অনিশ্চয়তার খেলা তা ফের একবার প্রমাণ করে দিল মহিলাদের বিশ্বকাপের এই ম্যাচটাও।

ইন্দুভূষণ রায়: গত রবিবার নভি মুম্বইয়ের ডিওয়াই পাতিল স্টেডিয়ামে মহিলাদের বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ৫২ হারিয়ে ট্রফি জয় করেছে হমনপ্রীতের দল। প্রথমবার দলের এই অভাবনীয় সাফল্য দেখে আমার একজন প্রাক্তন ক্রিকেটার হিসেবে দারুণ লেগেছে। যা ভাষায় বর্ণনা করা সম্ভব নয়।

এইরকম একটা ম্যাচে কতটা এফোর্ট দিলে তবেই ম্যাচটা জেতা সম্ভব হয় তা উইমেন ব্লুজরা দেখিয়ে দিল। সত্যিই অনেকদিন পর মহিলাদের ক্রিকেটে এইরকম হাড্ডাহাড্ডি একটি ম্যাচ দেখলাম। যা দেখে সত্যিই দারুণ আনন্দ অনভূত হয়েছিল প্রতিটা ক্ষণে ক্ষণে। ক্রিকেট যে কতটা অনিশ্চয়তার খেলা তা ফের একবার প্রমাণ করে দিল মহিলাদের বিশ্বকাপের এই ম্যাচটাও।

যেমন দক্ষিণ আফ্রিকা কিন্তু ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতেই রেখেছিল যতক্ষণ অধিনায়ক উলভার্ট ক্রিজে ছিলেন। ও আউট হয়ে ফিরে যেতেই আমরা ম্যাচে নিজেদের আধিপত্য বিস্তার করে শেষ পর্যন্ত ট্রফি জয় করি। এটাই ক্রিকেট। যে কোনও সময় খেলার মোড় যেদিকে খুশি ঘুরে যেতে পারে।

এবার আশি আমাদের মহিলাদের প্রসঙ্গে। যাঁরা এই অসাধ্য সাধন করেছেন গত রবিবার নবি মুম্বইয়ের মাঠে। প্রথমেই আমি বলব শেফালির কথা। ফাইনাল ম্যাচের মত একটা হাইভোল্টেজ ম্যাচে শেফালি নিজেকে যে উচ্চতায় তুলে নিয়ে গেল, তা অসাধারণ। প্রতীকা চোট পেয়ে ছিটকে যাওয়ার পর শেফালি দলে আসেন। আমরা যাঁরা ক্রিকেট নিয়ে রীতমত চর্চা করি, তাঁরা সকলেই জানি ওর ব্যাটিং স্টাইল সম্বন্ধে। শেফালি হচ্ছে ভারতীয় ক্রিকেটে বীরেন্দ্র শেহয়াগ। বীরু যেভাবে ক্রিজে এসে তাঁর ব্যাট দিয়ে বোলারদের শাসন করতেন, শেফালিও ঠিক তাই। কাজেই হ্যাটস অফ টিম ইন্ডিয়া।

পাশাপাশি আমি আরও দুজনের কথা বলব। তার মধ্যে একজন হল দীপ্তি বর্মা। এবং অপর জন হল এই বাংলার মেয়ে রিচা ঘোষের কথা। দীপ্তিও ফাইনাল ম্যাচে অসাধারণ ব্যাটিং করে ওই সময় দলকে টেনে নিয়ে যেমন গিয়েছে, ঠিক তেমনই বল হাতে ৫টা উইকেট নিয়েছে। আমার মনে হয় মূলত ওর কাছেই কার্যত অসাহায় আত্মসমপর্ণ করেছে প্রোটিয়াদের মহিলা ব্রিগেড।

এবার আসছি, রিচার কথায়। একজন বাঙালি ক্রিকেটার বাংলা থেকে জাতীয় দলে স্থান পাওয়া, তারপর দেশের জার্সিতে প্রথম একাদশে থেকে বিশ্ব জয়ের স্বাদ পাওয়ার অনুভূতিটা আসলে ঠিক এইরকম, যে স্বাদের ভাগ কাউকে দেওয়া যাবে না। অনেকে ভাববেন রিচা খেলেছেন, কিন্তু ব্যাটে সেইভাবে রান কেন? সেই প্রশ্নের উত্তরে আমার বক্তব্য হল, রীচা যে সময়ে ব্যাট করতে ক্রিজে নেমেছেন, ঠিক সেই এর থেকে বেশি রান আশা করা যায় না। আমার মনে হয়, টিম ম্যানেজমেন্টের উচিত রিচার ব্যাটিং অর্ডার পরিবর্তন করে ওকে আরও ব্যাটিং করতে পাঠানোর। কিন্তু তা না করে রিচাকে ফিনিশার হিসেবে ব্যবহার করছেন। ঠিক যেমনটা করা হয়েছিল আমাদের রিঙ্কু সিংয়ের ক্ষেত্রে। কিন্তু এর ফলে কি হল, তা তো সকলেরই জানা। রিঙ্কুর ক্যারিয়ার প্রায় শেষ হয়ে যাচ্ছে। আমার টিম ম্যানেজমেন্টের কাছে অনুরোধ দয়া করে রিচাকে এইভাবে শেষ করবেন না। ওকে ওপরে ব্যাটিং করার সুযোগ দিয়ে দেখুন। দলের ক্ষতির থেকে ভালোই হবে। যা আগামি দিনে কাজে লাগবে টিম ইন্ডিয়ার। সব শেষে একটাই কথা বলি, ‘চাক দে ইন্ডিয়া, হ্যাটস অফ মাই উইমেন্স ব্রিগেড।’

Related Articles