ভোগ হিসাবে থাকে ইলিশ-চিংড়ি! প্রায় ৩০০ বছরের ঐতিহ্য মেনে পূজিত হন দেবী দুর্গা
এই ঐতিহ্যই বাঁচিয়ে রেখেছে কাশিমবাজারের রায় বাড়ির পুজোকে।
কল্যন বিশ্বাস, মুর্শিদাবাদ: মুর্শিদাবাদের বনেদি বাড়ির পুজোগুলির মধ্যে অন্যতম কাশিমবাজারের ছোট রাজবাড়ির পুজো। রাজাও নেই, নেই সেই রাজ্যপাট। কিন্তু যা আছে তা হল ঐতিহ্য এবং পরম্পরা। সেই ঐতিহ্যই বাঁচিয়ে রেখেছে কাশিমবাজারের রায় বাড়ির পুজোকে।

কথিত আছে, ১৭৪০ সালে রেশমের ব্যবসায়ী দীনবন্ধু রায় অধুনা বাংলাদেশের ফিরোজপুর থেকে ব্যবসার জন্য এসেছিলেন কাশিমবাজারে। পরে এই কাশিমবাজারেই বসবাস করতে আরম্ভ করেন তিনি। ব্রিটিশ সরকার দীনবন্ধু রায়কে রেশম কুটিরের প্রধান হিসাবে ঘোষণা করে। ব্রিটিশ সরকারের আনুকূল্যে ফুলেফেঁপে ওঠে ব্যবসা। ১৭৯৩ সালে ব্রিটিশ সরকার রায় পরিবারকে জমিদারি স্বত্ব দেয়। মুর্শিদাবাদের কাশিমবাজারের ছোট রাজবাড়িতে তার পর থেকেই শুরু হয় দুর্গাপুজো। এই বাড়ির উত্তরসূরিরা এখন শহর নিবাসী।

এখন পুজোর দায়িত্ব পালন করেন রাজবংশেরই বংশধর প্রশান্ত রায়, রানিমা সুপ্রিয়া রায় সহ তার ছেলেমেয়েরা। কিন্তু বছরের এই সময়টা জেগে ওঠে এই জমিদার বাড়ি। প্রাচীন রীতি মেনে এই রাজবাড়িতে পূজিত হন মা দুর্গা। প্রায় ৩০০ বছর আগের হাতে লেখা পুঁথিতেই পুজো হয় মায়ের। প্রতিদিনই মায়ের ভোগ হয় এখানে। বোয়াল মাছ, ইলিশ মাছ এবং চিংড়ি মাছ দিয়ে মায়ের ভোগ নিবেদন করা হয়। সপ্তমী অষ্টমী এবং নবমীতে এখানে কুমারী পুজো হয়। রাজবাড়ীর মহিলারা এই কুমারী পুজো করেন। মহালয়ার দিন মাকে বেদীতে তোলা হয়। বিজয়া দশমীতে আগে নীলকন্ঠ পাখি ছাড়া হত কিন্তু কালের নিয়ম সেগুলি বন্ধ হয়ে গিয়েছে। এখন মাকে টলিতে চাপিয়ে বিসর্জনে নিয়ে যাওয়া হয়।







