সই-জাল কাণ্ডে শুভেন্দু নাম নিতেই অ্যাকশন, ঋতব্রত এবং সন্দীপনকে বহিষ্কার করল তৃণমূল
স্পিকারকে চিঠি পাঠাল কালীঘাট, হোয়াটসঅ্যাপে গেল বহিষ্কারের নোটিস
Truth of Bengal: ছাব্বিশের বঙ্গে রাজনৈতিক পালাবদলের পর তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও সঙ্কট এবার চরমে পৌঁছল। দলবিরোধী কাজের মারাত্মক অভিযোগে এবার দুই হেভিওয়েট দলীয় বিধায়ককে সরাসরি দল থেকে বহিষ্কার করল তৃণমূল কংগ্রেস নেতৃত্ব। বহিষ্কৃতরা হলেন, হাওড়ার উলুবেড়িয়া পূর্ব কেন্দ্রের বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং উত্তর কলকাতার এন্টালি বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক সন্দীপন সাহা। সোমবার রাজ্য রাজনীতি তোলপাড় করা এক ‘সই জাল’ বিতর্কে এই দুই বিধায়কের নাম জড়িয়ে যাওয়ার পরেই ঘাসফুল শিবিরের তরফ থেকে এই চরম ও নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
শুভেন্দুর বার্তার পরই নজিরবিহীন অ্যাকশন
রাজনৈতিক মহলের মতে, সোমবারের এই ঘটনার ক্রোনোলজি বা সময়রেখা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। আজ, সোমবার সকালেই নবান্ন থেকে এক হাইপ্রোফাইল বৈঠক ও সাংবাদিক সম্মেলনে এই বিতর্কিত সই জাল কাণ্ডে প্রথমবার সরাসরি ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সন্দীপন সাহার নাম উচ্চারণ করেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি এই দুই বিধায়কের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলার ঠিক কিছুক্ষণের মধ্যেই চরম অস্বস্তিতে পড়ে তৃণমূল কংগ্রেস। ড্যামেজ কন্ট্রোলে নেমে কালবিলম্ব না করে সোজা অ্যাকশন মোডে চলে যায় কালীঘাট। দলবিরোধী কাজের অভিযোগে দু’জনকেই দল থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়।
স্পিকারকে চিঠি, ইমেল ও হোয়াটসঅ্যাপে গেল বার্তা
তৃণমূল দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ঋতব্রত ও সন্দীপনকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরেই বিধানসভার স্পিকারের কাছে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠিয়েছে তৃণমূল সংসদীয় দল। দলত্যাগ বিরোধী আইনের আওতায় তাঁদের বিরুদ্ধে পরবর্তী পদক্ষেপ করার আর্জিও জানানো হতে পারে বলে খবর। একই সঙ্গে, দল যে তাঁদের আর রাখছে না, সেই বহিষ্কারের চূড়ান্ত চিঠি ইতিমিধ্যেই এন্টালি ও উলুবেড়িয়া পূর্বের দুই বিধায়কের ব্যক্তিগত ইমেল এবং হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।
সন্দীপনের ফোন বন্ধ, কোন দিকে মোড় নেবে রাজনীতি?
উল্লেখ্য, গতকাল রবিবার কালীঘাটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডাকা তৃণমূল পরিষদীয় দলের মেগা বৈঠকে যে ২০ জন বিধায়ক উপস্থিত ছিলেন না, তাঁদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন এই সন্দীপন সাহা। গতকাল থেকেই তাঁর মোবাইল ফোনটি সম্পূর্ণ বন্ধ ছিল এবং তাঁর কোনো খোঁজ মিলছিল না। এর পরেই আজ সই জাল বিতর্কে তাঁর নাম জড়ানো এবং দল থেকে বহিষ্কারের ঘটনা অনেক বড় রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
ক্ষমতা হারানোর পর এমনিতেই একের পর এক বিধায়ক দল ছাড়ছেন বা ঘরবন্দি হয়ে রয়েছেন, তার ওপর দলের দুই চেনা মুখকে এভাবে বহিষ্কার করায় তৃণমূলের পরিষদীয় দলের শক্তি এক ধাক্কায় অনেকটাই কমে গেল। এই দুই বহিষ্কৃত বিধায়ক এবার বিজেপির দিকে পা বাড়াবেন নাকি নতুন কোনও সমীকরণ তৈরি করবেন, তা নিয়ে এখন তোলপাড় চলছে গোটা রাজ্য জুড়ে।



