কলকাতা

১১ জুন দিল্লিতে নীতি আয়োগের মেগা বৈঠক! যোগ দেওয়ার আগে সব দফতরের রিপোর্ট চাইলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু

সাধারণত সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, এই ধরনের বিভাগীয় রিপোর্ট তৈরির মূল দায়িত্ব থাকে সংশ্লিষ্ট দফতরের মন্ত্রীদের ওপর

Truth of Bengal: আগামী ১১ জুন দেশের রাজধানী নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে নীতি আয়োগের (Niti Aayog) একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক। বাংলার নতুন বিজেপি সরকারের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে এই প্রথম এই হাইপ্রোফাইল বৈঠকে যোগ দিতে চলেছেন শুভেন্দু অধিকারী। আর সেই মেগা বৈঠকের প্রস্তুতি হিসেবে এবার নবান্নে তৎপরতা তুঙ্গে। দিল্লির বৈঠকে যোগ দেওয়ার আগে রাজ্যের প্রতিটি সরকারি দফতরের বর্তমান চালচিত্র এবং আর্থিক খতিয়ান খতিয়ে দেখতে চান মুখ্যমন্ত্রী। সেই কারণে আগামী ৫ জুনের মধ্যে রাজ্যের সমস্ত দফতরের সচিবদের (Secretaries) কাছ থেকে একটি বিস্তারিত ও পুঙ্খানুপুঙ্খ রিপোর্ট তলব করেছেন তিনি। নবান্ন সূত্রে খবর, এই রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করেই দিল্লির দরবারে বাংলার সার্বিক পরিস্থিতি ও দাবিদাওয়া তুলে ধরবেন মুখ্যমন্ত্রী। সাধারণত সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, এই ধরনের বিভাগীয় রিপোর্ট তৈরির মূল দায়িত্ব থাকে সংশ্লিষ্ট দফতরের মন্ত্রীদের ওপর। কিন্তু সোমবারই (১ জুন) রাজভবনে নতুন বিজেপি সরকারের ৩৫ জন বিধায়ক মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন। এখনও পর্যন্ত কার হাতে কোন মন্ত্রিত্ব যাচ্ছে, অর্থাৎ দফতর বণ্টন (Portfolio Allocation) প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ শেষ হয়নি। এই পরিস্থিতিতে আগামী ৫ জুনের মতো স্বল্প সময়ের মধ্যে নতুন মন্ত্রীদের পক্ষে নিজ নিজ দফতরের বিস্তারিত রিপোর্ট তৈরি করা প্রায় অসম্ভব। প্রশাসনিক কাজে যাতে কোনওরকম খামতি বা বিলম্ব না হয়, সেই কারণেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আপাতত সরাসরি সমস্ত দফতরের আইএএস (IAS) ও সচিবদের এই রিপোর্ট তৈরির কড়া নির্দেশ দিয়েছেন।

নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছে, শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার মনে করে, গত ১৫ বছরে পূর্বতন সরকারের ধারাবাহিক ‘অসহযোগিতা’ এবং সংঘাতের রাজনীতির কারণে কেন্দ্রের থেকে রাজ্যের যে বিপুল পরিমাণ আর্থিক প্রাপ্য ছিল, তা আদায় করা সম্ভব হয়নি। এর ফলে থমকে গিয়েছে রাজ্যের বহু উন্নয়নমূলক কাজ। এবার সেই বকেয়া এবং রাজ্যের ন্যায্য পাওনা আদায়ের দিকেই পাখির চোখ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। নীতি আয়োগের বৈঠকে কেন্দ্র-রাজ্য সমন্বয়ের মাধ্যমে বাংলার জন্য বড়সড় আর্থিক প্যাকেজ ও বরাদ্দ নিশ্চিত করাই তাঁর মূল লক্ষ্য। রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলের একাংশ মনে করছেন, এবার নীতি আয়োগের বৈঠক থেকে বাংলার কিছু বাড়তি সুবিধা পাওয়ার সম্ভাবনা উজ্জ্বল। কারণ, বর্তমানে নীতি আয়োগের ভাইস চেয়ারম্যান (উপাধ্যক্ষ) পদে রয়েছেন প্রখ্যাত অর্থনীতিবিদ অশোক লাহিড়ী। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বালুরঘাট আসন থেকে বিজেপির টিকিটে জিতে বিধায়ক হয়েছিলেন তিনি। যদিও ২০২৬-এর এই নির্বাচনে দল তাঁকে আর প্রার্থী করেনি, তবে পশ্চিমবঙ্গের প্রথম দফার ভোট মিটতেই কেন্দ্রের তরফে তাঁকে নীতি আয়োগের উপাধ্যক্ষ পদের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়। বিজেপির অন্দরে অশোক লাহিড়ীর সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সুসম্পর্কের কথা সর্বজনবিদিত। ফলে, বাংলার এই ভূমিপুত্রের হাত ধরে রাজ্যের জন্য আরও বেশি অনুদান ও প্রকল্প আদায় করা শুভেন্দুর পক্ষে সহজ হবে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

চলতি জুন মাসের শেষের দিকেই বিধানসভায় নতুন সরকারের প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেট (Full Budget) পেশ করতে পারে শুভেন্দু অধিকারীর মন্ত্রিসভা। বাজেট পেশের আগে কেন্দ্রীয় অনুদানভুক্ত প্রকল্পগুলিতে (Central Schemes) রাজ্যকে পুরোপুরি যুক্ত করতে পারলে রাজকোষের ওপর আর্থিক বোঝা অনেকটাই কমবে। কারণ, এই ধরনের কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলিতে অন্তত ৫০ শতাংশ বা তার বেশি আর্থিক অনুদান দেয় কেন্দ্র। ফলে, ৫ জুনের মধ্যে সচিবদের দেওয়া রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে নীতি আয়োগের বৈঠকে কেন্দ্রীয় বরাদ্দের রূপরেখাটি পাকা করে নিতে চাইছে নবান্ন, যাতে তার প্রতিফলন সরাসরি রাজ্যের আসন্ন বাজেটে দেখা যায়।

Related Articles