সই ফাঁসের পরই যুব তৃণমূলে গৃহযুদ্ধ! সায়নীকে ইস্তফার চরম আলটিমেটাম সহকর্মীদের
সায়নী ঘোষকে তুলোধোনা করে যুব তৃণমূলের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে ধুন্ধুমার
Truth of Bengal: দক্ষিণ কলকাতার সাংসদ মালা রায়কে মহিলা সংগঠনের সভানেত্রীর পদ থেকে ছেঁটে ফেলার পর, এবার তৃণমূলের অন্দরে পরবর্তী মহা-উইকেট পড়ার কাউন্টডাউন শুরু হয়ে গেল। এবার দলের যুব সংগঠনের অন্দরেই শুরু হলো তীব্র গৃহযুদ্ধ। লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকে দেওয়া ‘বিদ্রোহী’ ১৯ জন তৃণমূল সাংসদের সেই বিস্ফোরক চিঠিতে যাদবপুরের সাংসদ সায়নী ঘোষের (Saayoni Ghosh) স্বাক্ষর মেলাতেই এবার দলের অন্দরেই আড়াআড়ি বিভাজন স্পষ্ট। যুব তৃণমূলের অফিশিয়াল হোয়াটসঅ্যাপ (WhatsApp) গ্রুপে খোদ যুব সভানেত্রীকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে পদত্যাগের দাবি তুললেন দলেরই নিচুতলার নেতারা। চিঠি ফাঁসের পর গ্রুপে কার্যত ‘চোর’ অপবাদ শুনতে হচ্ছে সায়নীকে, যা ছাব্বিশের রাজনৈতিক আবহে চরম অস্বস্তি বাড়িয়েছে ঘাসফুল শিবিরের।
“ক্লিয়ার করুন, নয়তো ইস্তফা দিন!” গ্রুপে তোলপাড়
ছাব্বিশের ভরাডুবির পর তৃণমূলের সব কমিটি ভেঙে দিয়ে যখন নতুন কমিটি গড়া হয়েছিল, তখন সবাইকে অবাক করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ’ সায়নী ঘোষকেই যুব তৃণমূলের সভানেত্রী পদে রেখে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু শুক্রবার সকালে ডঃ কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নেতৃত্বে যে ১৯ জন তৃণমূল সাংসদ এনডিএ (NDA)-কে সমর্থনের সিদ্ধান্ত নিয়ে স্পিকারকে চিঠি দেন, সেখানে সায়নীর সই প্রকাশ্যে আসতেই যুব নেতাদের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে যায়।

যুব তৃণমূলের নিজস্ব হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে ওই চিঠির প্রতিলিপি আপলোড করে একের পর এক ক্ষোভ উগরে দিতে শুরু করেন যুব নেতারা। এক যুব নেতা সরাসরি প্রশ্ন তোলেন, “এই সই কি আপনার? আপনার সই হয়ে থাকলে এখনও পর্যন্ত আপনি কেন এই গ্রুপে আছেন?” অন্য এক নেতার তোপ, “বিষয়টি ক্লিয়ার করে জানান। আর যদি সত্যি আপনার সই হয়, তাহলে লজ্জা থাকলে আগে দল ও পদ থেকে ইস্তফা দিন।” এমনকি কয়েকদিন আগে সায়নীর ‘নিরুদ্দেশ’ পোস্টার শেয়ার করে তাঁর খোঁজ দিতে পারলে পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণাও করেছিলেন এক যুব নেতা।
মেসেজ ‘সিন’ করেও নীরব সায়নী, নজরে ক্যামাক স্ট্রিট
সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর বিষয় হল, এই মেগা হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের মূল ‘অ্যাডমিন’ (Admin) খোদ সায়নী ঘোষ নিজেই। গ্রুপে একের পর এক নজিরবিহীন আক্রমণ এবং পদত্যাগের দাবি ধেয়ে আসলেও, সায়নী সমস্ত মেসেজ ‘সিন’ বা চাক্ষুষ করেছেন। কিন্তু আজবভাবে কোনও উত্তর দেননি বা কাউকেই গ্রুপ থেকে রিমুভ করেননি।

সূত্রের খবর, এই গ্রুপে ক্যামাক স্ট্রিটের (অভিষেকের অফিস) বেশ কয়েকজন অত্যন্ত বিশ্বস্ত সদস্যও রয়েছেন। তাঁরাও সায়নীকে নিয়ে হওয়া এই ধুন্ধুমার মেসেজগুলো ‘সিন’ করেছেন বলে জানা গিয়েছে। মালা রায়কে ইতিমধ্যে ছেঁটে ফেলা হলেও অভিষেক-ঘনিষ্ঠ সায়নীকে এখনও যুব পদ থেকে সরানো হয়নি। তবে যেভাবে দলের অন্দরেই সায়নীকে নিয়ে বিদ্রোহ শুরু হয়েছে, তাতে ছাব্বিশের জুনে সায়নী ঘোষের রাজনৈতিক কেরিয়ারের আয়ু যে আর বেশিদিন নেই, তা বলাই বাহুল্য।






